মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী : রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার, দায় আছে বিশ^ সম্প্রদায়ের

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় মিয়ানমারের কঠোর সমালোচনা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওআইসি সেক্রেটারিয়েট ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের যৌথ আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা সংকট : উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন মাহাথির। সেসময় তিনি বলেন, রাখাইনে যা ঘটেছে তা স্পষ্টই গণহত্যা। মিয়ানমার এই সংকট সমাধানে আগ্রহী নয় বলে সেই দায় এখন বিশ^ সম্প্রদায়ের। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই সংকট নিরসনে তিনি সংস্থাটিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর কোনো প্ল্যাটফর্মে এটিই মাহাথিরের প্রথম ভাষণ।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন সোজাসাপ্টা কথা বলি। রাখাইনে যা ঘটেছে তা গণহত্যা। সেখানে গণহত্যা, পদ্ধতিগত ধর্ষণসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। মিয়ানমারের দাবি, সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলায় তারা রাখাইনে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণে লাখ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এখন মিয়ানমার যেহেতু এ সমস্যার সমাধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, তখন এর সমাধানের দায়িত্ব বিশ^ সম্প্রদায়ের ওপরই বর্তায়। ভবিষ্যতে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলার উদ্দেশ্যেই জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এখন সংস্থাটির উচিত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রাখা।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ায় আমরা বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানাই। মালয়েশিয়াও যতটুকু সম্ভব করার চেষ্টা করেছে। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার বাইরেও কক্সবাজারে একটি ফিল্ড হসপিটাল পরিচালনা করছে মালয়েশিয়া। ওই হাসপাতালের পাশেই এক লাখ নিবন্ধিত শরণার্থী রয়েছে। এ ছাড়া আরো বহু অবনিবন্ধিত শরণার্থীও রয়েছে সেখানে। রোহিঙ্গাদের ভালো জীবনযাপনের জন্য বাংলাদেশ প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করেছে। আমরাও আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের সাহায্য করব। আশা করি অন্যান্য দেশগুলোও এগিয়ে আসবে। এই সংকটের অবসান ঘটনো দরকার এবং এটি এখনই করা দরকার।

মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ভালো ছিল না। কারণ রাখাইনের বহু রোহিঙ্গা অভ্যন্তরীণভাবেই বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছিল। মিয়ানমারকে এর প্রমাণ দেয়া উচিত, সংকট নিরসনে তারা সিরিয়াস ছিল। এক্ষেত্রে তাদের উচিত প্রত্যাবাসনকে প্রধান অগ্রাধিকার দেয়া। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে না চাওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন মাহাথির। তিনি বলেন, এর কারণগুলো স্পষ্ট। কেউ যদি তার সুরক্ষার নিশ্চয়তা বোধ না করে তবে সে ফিরবে না। এজন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বতঃস্ফ‚র্ত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর মালয়েশিয়া জোর দিচ্ছে। এটি শুধু রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দেয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে অন্যদেরও এ সংকট সমাধান এবং অপরাধীদের বিচারের জন্য ভূমিকা নিতে হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj