অকেজো ৪৮ প্লান্ট : সিংগাইরে মুখথুবড়ে পড়েছে পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিংগাইরে নিরাপদ পানির জন্য স্থাপিত ৪৮টি পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্পের প্রায় সবই অকেজো হয়ে পড়েছে। অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটি জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। ফলে বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবহেলা ও তদারকির অভাবে প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ৪৮টি পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিটি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৯৫ হাজার টাকা। সরেজমিনে গত সোমবার একাধিক প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেকটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সুবিধাভোগী নিজেরাও জানে না কীভাবে এটা সচল রাখতে হয়। তাদের অভিযোগ, নির্মিত এ প্লান্টগুলো ব্যবহারে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। এ ছাড়া নির্মাণের পর কেউ খোঁজখবর রাখেনি।

সাহরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্লান্টটি প্রায় বছর খানেক আগে নির্মিত হলেও আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়নি এবং এর কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। অযথা বিদ্যালয়ের জায়গা আটকে রেখেছে। ভূমদক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হালিমা খাতুন বলেন, মোটরটি সচল থাকলেও ফিল্টারিংয়ের বিভিন্ন অংশ কাজ না করায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে এই পানি ব্যবহার করছি। জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদা বেগম বলেন, মোটরে পানি উঠলেও প্রক্রিয়াগত ভুলের কারণে পানি বিশুদ্ধ হচ্ছে না। যার জন্য আমরা এ পানি বাচ্চাদের পান করতে দেই না। অনুরূপ মন্তব্য করেন, লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সিংগাইর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির এ প্রকল্পে সরকারি টাকা অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয়নি বলে মন্তব্য করেন ভুক্তভোগী অনেকেই। সায়েস্তা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, প্লান্টটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় এটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যার ফলে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সিংগাইর উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাসেল মিয়া বলেন, জেলা থেকে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমি শুধু ম্যানেজারের ভূমিকা পালন করি। এ ব্যাপারে ইউএনও রাহেলা রহমত উল্লাহ বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj