প্রথম বই কবে ছাপা হলো

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আজকের দিনে বই এমন একটা আশ্চর্য কিছু ব্যাপার নয় যে আমরা হ্যাঁ করে চেয়ে থাকব। পড়ার বই আছে, গল্পের বই আছে, অগুণতি বিষয়ের ওপর অগুণিত বই আছে। ঠিক এমনটা কিন্তু চিরকাল ছিল না।

মধ্যযুগে বই বলে তেমন কিছু ছিল না। সেই আদিকাল থেকে মানুষের মুখে মুখে চলে আসত গল্প কাহিনী জ্ঞান-বিজ্ঞান সব কিছু। আমাদের দেশে তালপাতায় বা ভুর্জপত্রে এই সেদিন পর্যন্তও পুঁথি লেখা হয়েছে। মাত্র গত শতাব্দীতে ভারতবর্ষে ছাপাখানার কাজ আরম্ভ হওয়ায় বইপত্র ছেলে আমাদের কাছে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে আর পাশ্চাত্য জগতে গোড়ার দিকে হতো প্যারিরাস পাতার ওপর লেখা বই। মজা লক্ষ্য করে দেখ ইংরেজি পেপার শব্দটা এসেছে ওই প্যাপিরাস থেকে। তারপর এল ছাগল-ভেড়ার চামড়া থেকে পার্চমেন্ট আর বাছুরের চামড়া থেকে ভেলাম। এসব পার্চমেন্ট আর ভেলামের ওপর হাতে লিখে পরে বাঁধাই করে পুঁথি তৈরি হতো। বই তো আর তেমন দরকার করত না, সাধারণ মানুষ থাকত মূর্খ হয়ে পড়াশোনা যা হতো শুধু মঠের সন্ন্যাসীদের মধ্যে। মধ্যযুগে ইউরোপে যখন ‘নবজাগরণ’ দেখা দিচ্ছিল তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্ঞানের বিস্তারের জন্য বইপত্রের প্রয়োজন দেখা দিল। আর তারই তাগিদে ১৪৫৬ খ্রিস্টাব্দে ছাপা হলো বাইবেল, ছাপলেন জার্মানির এক কারিগর ইয়োহান্নেস গ্যুটেনবার্গ। তিনি ছিলেন ছাপাখানার প্রথম উদ্ভাবক। অবশ্য চীনে তার আগে কাঠের অক্ষরে কিছু কিছু ছাপার কাজ চলত, তবে সাধারণ মানুষ তার থেকে বঞ্চিত থাকত।

এটাও সঙ্গে জেনে রাখ যে যদি জন উইক্লিফ বাইবেল লাতিন থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ না করতেন, আর গ্যুটেনবার্গ ছাপার জন্য ধাতুর অক্ষর না আবিষ্কার করতেন, তাহলে ইউরোপে ধর্মসংস্কার হতো না, নবজাগরণ আসত না আর আমরাও পড়ার জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই পেতাম না।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj