খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানি করবে সরকার

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে খোলাবাজার থেকে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী নভেম্বর মাসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ-জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানির উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪৩টি কোম্পানি ইওআই দাখিল করে। পরে যাচাই-বাছাই করে আন্তর্জাতিক খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ১৭টি কোম্পানিকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে দুটি কোম্পানি চূড়ান্তভাবে বাছাই করে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির অনুমতি দেয়া হবে।

সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা ১৭টি প্রতিষ্ঠান হলো- মিতসুই এন্ড কোম্পানি লিমিটেড (জাপান), মারুবেনি করপোরেশন (জাপান), ওসাকা গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (জাপান), এওটি ট্রেডিং এজি (সুইজারল্যান্ড), ডায়মন্ড গ্যাস ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড (সিঙ্গাপুর ০৩৯১৯২), সামিট করপোরেশন লিমিটেড এন্ড সামিট অয়েল এন্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড, এক্সিলেটর এনার্জি লিমিটেড পার্টনারশিপ (ইউএসএ), জেরা কোম্পানি লিমিটেড ইংক (জাপান), ভাইটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড (সিঙ্গাপুর), ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড (সিঙ্গাপুর), উডসাইড পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (অস্ট্রেলিয়া), গ্যাসপ্রম মার্কেটিং এন্ড ট্রেডিং লিমিটেড (সিঙ্গাপুর), ইএনআই এসপিএ ইতালি, পেট্রোনাস এলএনজি লিমিটেড, সিএনওওসি (চায়না ন্যাশনাল অফশোরে অয়েল করপোরেশন), গ্যাস এন্ড পাওয়ার ট্রেডিং এন্ড মার্কেটিং লিমিটেড (চায়না), চিনেইরি মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল এলপিপি (সিঙ্গাপুর) এবং শেভরন ইউএসএ (সিঙ্গাপুর ব্রাঞ্চ)।

খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানি হবে মাস্টার সেল এন্ড পার্চেজ (এমএসপি) এগ্রিমেন্টের ভিত্তিতে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এদের মধ্য থেকে বেশকিছু কোম্পানি কাজ পেতে সুপারিশ করেছে। আর এই কারণেই কোম্পানি চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে সর্বনিন্ম দরদাতাই এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হবে বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৫০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজির চাহিদা ৩০ কোটি ঘনফুট। সর্বমোট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকি ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি মেটাতেই সরকার খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কি পরিমাণ এলএনজি গ্যাস খোলাবাজার থেকে নেয়া প্রয়োজন তা নির্ধারণের পরই কোম্পানি চূড়ান্ত করা হবে। তবে দ্রুতই এ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এলএনজি আমদানির জন্য বেশকিছু দেশের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। বর্তমানে কাতার গ্যাস এবং ওমান ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বছরের যে কোনো সময়ে গ্যাসের চাহিদা কমে গেলেও চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এ বিবেচনায় এলএনজি আমদানিকারক দেশগুলো প্রয়োজনে কমবেশি ২৫ শতাংশ গ্যাস আন্তর্জাতিক খোলাবাজার থেকে আমদানি করে থাকে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj