ফের সাদা পোশাকের নেতৃত্বে মুশফিক!

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে লজ্জাজনক ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এমন কিছু কথা বলেছেন যাতে মিলেছে নেতৃত্বের প্রতি তার অনীহার ইঙ্গিত। গত প্রায় ৫ বছর ধরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অপরদিকে বিগত ২ বছর ধরে টেস্টে টাইগারদের নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্বটা পালন করছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পাশাপাশি ২০১৭ সালের এপ্রিলে ২০ ওভারের ক্রিকেটকে মাশরাফির বিদায় জানানোর পর থেকে টি-টোয়েন্টিতেও টাইগারদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই চলছিল। তবে পরিস্থিতি বদলে যায় গত সোমবার। এ দিন আফগানদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে হারার পর প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে অধিনায়কত্ব করার প্রতি অনিচ্ছার কথা জানান সাকিব। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইঙ্গিত দিয়েছে তিন ধরনের ফরম্যাটে আলাদা আলাদা ক্রিকেটারের ওপর নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়ার। সাকিব টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বে আছেন। অপরদিকে আবার টেস্টের নেতৃত্ব নিতে অনীহা তার। এমন পরিস্থিতিতে সাকিবের জায়গায় টেস্টে বাংলাদেশ দলের পরবর্তী অধিনায়ক কে হচ্ছেন, তা নিয়ে কৌত‚হল জন্ম নিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। আর এ ক্ষেত্রে মুশফিকুর রহিমের কাঁধেই টেস্টে টাইগারদের নেতৃত্বের দায়িত্ব ওঠার সম্ভাবনা বেশি বলে চারদিকে গুঞ্জন ওঠেছে।

গতকাল চমকপ্রদ এক কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। শুধু টেস্টের নেতৃত্ব ছাড়াই নয়, সাদা পোশাকে খেলারই কোনো আগ্রহ নেই সাকিবের এমনটিই জানিয়েছেন তিনি। বিসিবি সভাপতির ভাষায়, টেস্ট খেলার আগ্রহ নেই সাকিবের। আর এ জন্যই সে অধিনায়কত্ব নিয়ে এমন কথা বলছে। যা সাকিবের জায়গায় অন্য কারো টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার বিষয়টিকে আরো জোরালো করেছে।

মাশরাফি বিন মুর্তজা টেস্ট খেলেন না। খুব শিগগিরই ওয়ানডে ক্রিকেটকেও বিদায় জানাবেন তিনি। নড়াইল এক্সপ্রেস ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে নিয়মিত খেলছেন এমন ক্রিকেটার আছেন চারজন। তারা হলেন- মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তামিম অতীতে মাত্র একটি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর ওই ম্যাচটি টাইগাররা হেরেছে। গত জুলাইয়ে তার নেতৃত্ব শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ দল। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেয়ার আগে নিশ্চয়ই এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে বিসিবি, যা টেস্ট ক্যাপ্টেন হওয়ার দৌড়ে তামিমকে অন্যদের তুলনায় ব্যাকপুটে ফেলে দেবে। এ ছাড়া তামিম যেহেতু ওপেনার, তাই তার ওপর দলকে দারুণ শুরু এনে দেয়ার বাড়তি দায়িত্ব থাকে। সে ক্ষেত্রে অধিনায়কত্ব তাকে আরো চাপে ফেলে দিতে পারে। এসব মিলিয়ে দেশসেরা ওপেনারের কাঁধে টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব ওঠার সম্ভাবনা একেবারেই কম।

তবে অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে রাখা যাবে না সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। এ পর্যন্ত ৫টি টেস্টে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা আছে তার। তবে জয়ের চেয়ে হারের পাল্লাটা অনেক ভারি। তার নেতৃত্বে খেলা ৫ ম্যাচের মধ্যে কেবল ১টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ দল। তাও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

অভিজ্ঞতার বিচারে তামিম-মাহমুদউল্লাহর চেয়ে এগিয়ে আছেন মুশফিকুর রহিম। ২০০৫ সালেই টেস্ট অভিষেক হয় তার। যেখানে তামিমের টেস্ট অভিষেক হয় ২০০৮ সালে। আর ২০০৯ সালে টেস্ট অভিষেক হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা আছে মুশফিকের। ২০১১ সালের অক্টোবরে তার ওপর জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়েছিল বিসিবি। মুশফিক সেই দায়িত্বে ছিলেন ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের নেতৃত্বে ৩৪টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ, যা বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে টাইগারদের সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়ার রেকর্ডটি মুশফিকের দখলে আছে। তার নেতৃত্বে টেস্টে ৭ জয়ের বিপরীতে আছে ১৮ হার। এ ছাড়া ড্র হয়েছে অবশিষ্ট ৯টি ম্যাচ। টেস্টে তার নেতৃত্বেই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছে টাইগার বাহিনী।

এসব বিষয় বিবেচনা করলে টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার ক্ষেত্রে মুশফিকই সন্দেহাতীতভাবে প্রথম পছন্দ। তাহলে কি ফের তার কাঁধেই উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব- উত্তরটা জানা যাবে কয়েক দিনের মধ্যেই।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj