ডেঙ্গু নিয়ে জরিপ : আক্রান্ত বেশি চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থী

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বেশি। শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের আক্রান্তের হার ৩৭ শতাংশ। এরপরই ১৩ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন গৃহিণীরা। আর ঢাকার বাইরে ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আগে বিভিন্ন প্রয়োজনে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় গিয়েছিলেন।

গতকাল বুধবার ‘নলেজ শেয়ারিং অন ডেঙ্গু সার্ভিলেন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। আইইডিসিআর মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করে আইইডিসিআর ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। বক্তব্য রাখেন হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক নিখিল মানখিন প্রমুখ।

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ জানতে সম্প্রতি বরিশাল, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে গিয়েছিল আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদল। ওই প্রতিনিধিদলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গতকাল প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, বরিশালে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হয়েছে বেশি। মোট ৬০ শতাংশই শিক্ষার্থী। নারী-পুরুষের আক্রান্তের হার সমান সমান। আক্রান্তদের ৫০ শতাংশেরই বয়স ১১ থেকে ২০ বছর। কুষ্টিয়ায় কৃষকরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বেশি। এই হার ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। এরপরই গৃহিণীদের আক্রান্তের হার ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এই এলাকায় পুরুষদের আক্রান্তের হার ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং নারীদের আক্রান্তের হার ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে এ বছর শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশে^র ১২৭টি দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ বছর ডেঙ্গুর প্রভাব সম্পর্কে কোনো দেশই আগে থেকে বুঝতে পারেনি। এ বছর ডেঙ্গুর মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। বর্তমানের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমাদের লক্ষ্য হবে আগামী বছর। আগামী বছরও ডেঙ্গু হবে। আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও যাতে আমরা ঠেকাতে পারি সেই চেষ্টাই করতে হবে। সে জন্য বছরব্যাপী আমাদের মশা নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালাতে হবে।

নতুন করে আক্রান্ত ৬৩৪ জন : গত ২৪ ঘণ্টায় (১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৬৩৪ জন। এর মধ্যে ঢাকায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২২১ ও অনান্য বিভাগে ৪১৩ জন।

গত মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছিল ৭৫৩ জন। সে হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী ১১৯ জন কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, পহেলা জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮৬১৭ জন। ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৫২২৫ জন। সারাদেশে ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগীর হার ৯৬ শতাংশ। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩১৬৫ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৪৩৪ জন এবং অন্যান্য বিভাগে ১৭৩১ জন। আইইডিসিআরের কাছে ডেঙ্গু সন্দেহে ১৯৭টি মৃত্যুর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০১টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৬০টি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানের ডেথ রিভিউ কমিটি।

৩ জনের মৃত্যু : গতকাল বুধবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বুধবার আড়াই বছরের খাদিজা, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহিদা খাতুন (৩৬) এবং বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিহাদের (১৪) মৃত্যু হয়।

এডিস মশার জন্য ছাদবাগান ধ্বংস নয় : এদিকে গতকাল পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বাংলাদেশ গ্রিন রুফ মুভমেন্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা বলেন, ছাদবাগানের কোনো গাছের পাত্রে একাধারে ৩ থেকে ৫ দিন পানি জমে থাকে না। থাকলে গাছই মারা যাবে। তাই নগরীর জীববৈচিত্র্য ও উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখা ছাদবাগান এডিস মশার জন্য দায়ী নয়। এ জন্য ছাদবাগান ধ্বংস নয় বরং প্রয়োজন এর স¤প্রসারণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা। বক্তারা ডেঙ্গুমুক্ত ছাদবাগান গড়ে তোলার জন্য বাগানীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার এবং সরকারিভাবে কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেন।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ : ছাদবাগান ও পরিবেশ সুরক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রিন রুফ মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গোলাম হায়দার।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj