নরসিংদীতে মাজারে এসে গণধর্ষণের শিকার নারী

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় একটি মাজার শরিফের ওরশে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে মাদারীপুরে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করায় ওই কিশোরীর বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বখাটেরা। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নরসিংদী : জেলার বেলাব উপজেলায় একটি মাজার শরিফের ওরশে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫ বছরের এক নারী। বেলাব উপজেলার সররবাদ পশ্চিমপাড়া গ্রামের সামাদ লেংটার মাজারের পাশের একটি বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ধর্ষক ওই বাড়ির মালিক মৃত মহব্বত আলীর ছেলে মকবুল (৩২)। ওই নারী রাজবাড়ী জেলার পাংশা থেকে ওরশে এসেছিলেন। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে অভিযুক্ত মহব্বতের বিরুদ্ধে বেলাব থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই নারী।

বেলাব থানার ওসি ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া ও নির্যাতিতা ওই নারী জানান, মঙ্গলবার থেকে সররাবাদ গ্রামের সামাদ লেংটার মাজারে ওরশ শুরু হয়। এর আগে ২ আগস্ট রাজবাড়ী থেকে ওরশে যোগ দিতে মাজারে এসে অবস্থান করতে থাকেন ওই নারী। ওরশ শরীফ উপলক্ষে মাজার শরিফ ও আশপাশের বাড়ির উঠানে গান শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে মাজারের পাশের মকবুলের বাড়ির উঠোনে গান শুনতে যান ওই নারী। একপর্যায়ে বাড়ির মালিক মকবুল ওই নারীকে তার ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে বলেন। এতে রাজি না হলেও জোর অনুরোধে তাকে হাত ধরে ঘরে নিয়ে যান মকবুল। পরে রাতে মকবুল ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলেও গানের শব্দে কেউ শুনতে না পারায় কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। একপর্যায়ে ওই নারী নিজেকে বাঁচাতে মকবুলের ঠোটে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। রাতেই ওই নারী উপস্থিত নারী-পুরুষ ও স্থানীয় লোকজনকে ঘটনা জানালে তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।

বেলাব থানার ওসি ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মাদারীপুর : জেলায় বাকপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে (১৬) গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ওই কিশোরীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে থানায় মামলা করায় কিশোরীর বাবাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বখাটেরা। যে কারণে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের চোকদার ব্রিজ

এলাকার ওই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী গোসল করার জন্য পাশের নিম্নকুমার নদের দিকে যায়। পথে একই এলাকার করিম চোকদারের ছেলে তন্ময় চোকদার (২২), টুলু চোকদারের ছেলে জিশান চোকদার (১৮) এবং সানু মোল্লার ছেলে হাসান মোল্লা (২১) তাকে জোর করে তুলে পাশের একটি ঝোঁপের মধ্যে নিয়ে যায়। বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী কথা বলতে না পারার সুযোগ নিয়ে তারা কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার মা মেয়ের গোসল করতে দেরি দেখে নদীর দিকে যেতে থাকেন। ঝোঁপের মধ্যে শব্দ পেয়ে এগিয়ে গেলে ২ জন পালিয়ে যায় এবং তন্ময়কে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে সেও পালিয়ে যায়। পরে মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান মা।

সূত্র জানায়, রাতে এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। সালিশদাররা ঘটনাটি মীমাংসাযোগ্য নয় বলে চলে যান। পরে শুক্রবার সকালে ওই ৩ ধর্ষক ছেনি-দা নিয়ে মেয়ের বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি এবং বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মেয়েটির বাবা বলেন, আমার বোবা মেয়েকে ধর্ষণ করেছে ৩ বখাটে। আমার স্ত্রী তাকে উদ্ধার করে। মামলা করার পর থেকে বখাটেরা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে শাসিয়ে বেড়াচ্ছে। ওরা বলছে, মামলা করে কি করবি, পুলিশকে টাকা দিয়ে মামলা শেষ করে তোকে দেখে নেব, কিভাবে এলাকায় থাকিস। আমি এখন বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। ভয় হয় রাতে ওরা আবার আমার বাড়িতে হামলা না করে। আমি ওই বখাটেদের উপযুক্ত বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালে আরএমও ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রতিবন্ধী কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি এবং যথাযথ চিকিৎসা দিয়েছি।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় ৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন ওই কিশোরীর বাবা। পুলিশ আসামিদের ধরতে মাঠে নেমেছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj