শার্শায় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট নেই : নতুন ভর্তির পাশাপাশি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেক রোগী

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : যশোরের শার্শা হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট নেই। ফলে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তদের এখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উপজেলা পর্যায়ের অনেক হাসপাতালের অবস্থাই অনুরূপ বলে জানা গেছে। এদিকে কক্সবাজারে হঠাৎ করে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। তবে নতুন ভর্তির পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িফেরা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

যশোর : জেলার শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কিট এবং এ রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অশোক কুমার সাহা বলেন, ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কোনো কিট হাসপাতালে না থাকায় পরীক্ষা করতে পারছি না। এদিকে শার্শার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় তাদের জেলার অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অশোক বলেন, শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর কিট না থাকার বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে। ঈদের আগেই কিট হাসপাতালে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারে হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ইতোমধ্যে ৮৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে মাত্র ৪ জন রোগী ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার এসেছেন। বাকি সবাই আক্রান্ত হয়েছে কক্সবাজারে। হঠাৎ একদিনে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আবারো মানুষের মাঝে ডেঙ্গু আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুরুর দিকে কক্সবাজারে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কিছুটা বেশি ছিল। এরপর ধীরে ধীরে কমে আসে। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আরো কমে এসেছিল ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের হার। আক্রান্তের চেয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাই ছিল বেশি। কিন্তু গত বুধ ও বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের প্রকোপ বেড়ে গেছে, যা রীতিমতো মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ঈদের সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এর জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত ছিল। তাই একদিনে ১০ জন শনাক্ত হওয়াতে উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানান চিকিৎসকরা। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ পঙ্কজ পাল জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে

গতকাল শুক্রবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৭ জন ও শহরের বেসরকারি ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ জন। এ নিয়ে সিভিল সার্জনের হিসাবমতে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত এখন পর্যন্ত ৮৪ জন শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তুলনামূলকভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত করা রোগী বেড়েছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহিউদ্দিন বলেন, নতুন ভর্তি হওয়া ৭ জনের মধ্যে তিনজনই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন। ঢাকায় শনাক্ত হওয়ার পর কক্সবাজার চলে আসেন। তিনি আরো বলেন, আজ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু এটা উদ্বেগ তৈরি করার মতো নয়। কারণ এখন ঈদে সবাই ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরবেন। স্বাভাবিকভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। আজকালের মধ্যে এটা আবার কমেও যেতে পারে। ডা. মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঈদের সময় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধির আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল। সেই হিসেবে আমরা আগে থেকেই বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছি। কাজেই এটা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

বরিশাল : বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিন দিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে অধিকাংশই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে বরিশালে এসেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন।

গতকাল শুক্রবার হাসপাতালটিতে ২৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা ছিল ২৫৭ এবং বুধবার ২৩৬ জন। হাসপাতা?লের হিসাব অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভ?র্তি হ?য়ে?ছেন ৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫১, নারী ২২ ও শিশু ১১ জন।

এদি?কে চি?কিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্প?তিবার মধ্যরা?তে এ হাসপাতা?লে ডেঙ্গু জ্ব?রে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত ম?জিবর রহমান বরগুনা সদ?রের চর ক?লোনি এলাকার হাসেম মোল্লার ছেলে ও বরগুনা রাইফেলস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। অপরদিকে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬৬ জন রোগী। যার মধ্যে পুরুষ ৫১, নারী ১২ ও শিশু ৩ জন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই থে?কে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ব?রিশাল মেডিকেলে মোট ৬০৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভ?র্তি হয়েছেন। যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২৯ এবং মারা গেছেন তিনজন।

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) : টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে। এদের সবার শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু সংক্রমিত হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। এরা কেউ বেড়াতে গিয়েছিলেন। কেউ চাকরি করেন কেউ-বা অন্য পেশার তাগিদে রাজধানীতে অবস্থান করছিলেন। এরা আক্রান্ত হয়ে প্রচণ্ড জ্বর ও শরীরে ব্যথা নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

আব্দুর সাত্তারের গ্রামের বাড়ি উপজেলার গওহরডাঙ্গায়। তিনি ঢাকায় গত ৪ আগস্ট অসুস্থ হন, ৭ আগস্ট টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। শ্রীরামকান্দীর গ্রামের ওমর ফারুক ঢাকায় টাইলস মিস্ত্রির কাজ করেন। সেখানে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে এসে ৪ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নাজিম শেখের বাড়ি বাগেরহাটের চিলতমারি উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামে। ৭ আগস্ট এখানে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকায় বেড়াতে গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। হুসাইনের বাড়ি উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে। ঢাকায় রং মিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় অসুস্থ হয়েছি। আমি এখন সুস্থতা বোধ করছি। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা গেল, এ হাসপাতালে কোনো মহিলা রোগী ভর্তি নেই।

ফরিদপুর (পাবনা) : পাবনার ফরিদপুর উপজেলা হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- নাসির (২২) ও শামসুল আলম (৫৫)। এ ছাড়া রুপা (১৯), মিজানুর রহমান (৪৬), হাবিল (২০), আরাফাত (৪), মুনছুর (৩২), শাওন (২১), নাজমুল (২১), হৃদয় (২২), আব্দুল মতিন (৬০) ও লিপিকে (৪২) চিকিৎসা দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছিল রাইসা (৭) ও (১২)। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা সবাই ঢাকা থেকে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি এসেছেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj