পর্ব : সাহিত্য চিন্তার ছোট কাগজ

শুক্রবার, ৯ আগস্ট ২০১৯

অনার্য নাঈম

মজিদ মাহমুদ সম্পাদিত সাহিত্য চিন্তার ছোট কাগজ ‘পর্ব’-এর এই সংখ্যাটি উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্য প্রয়াত গবেষক প্রবন্ধিক ড. অনু হোসেন (১৯৬৫-২০১৯)কে। পত্রিকাটির প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০১৯। বর্তমান সংখাটি ১১তম সংখ্যা অর্থাৎ পূর্বে ১০টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।

সম্পাদক হিসেবে মজিদ মাহমুদ এই সংখ্যাটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। প্রকাশ করেছেন বাংলা ভাষার বেশ কিছু মূল্যবান প্রবন্ধ। বাংলা ভাষার একমাত্র জীবিত সাধু গদ্যের লেখক সলিমুল্লাহ খান লিখেছেন- আহমদ ছফার ট্রাউয়ারস্পিয়েল। ট্রাউয়ারস্পিয়েল হচ্ছে- ‘ঐরংঃড়ৎু ধং ঃৎধঁবৎংঢ়রবষ রং ঃযব পড়হফরঃরড়হ ধং বিষষ ধং ংঁনলবপঃ ড়ভ সড়ফবৎহ ধষষবমড়ৎু রহ রঃং রহংপৎরঢ়ঃরড়হ ড়ভ ঃযব ধনুংংধষ.’ সলিমুল্লাহ খান নিজেও এই প্রবন্ধের মধ্যে ট্রাউয়ারস্পিয়েলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন- ‘আধুনিক নায়কের নিয়তি স্বর্গের দেবতারা পূর্ব হইতে নিরূপণ করিয়া রাখেন নাই। এই নিয়তির ¯্রষ্টা একালের ইতিহাস নিজেই। এই নিয়তির নামই জার্মান ভাষার পণ্ডিতেরা রাখিয়া ছিলেন ট্রাউয়ারস্পিয়েল (ঞৎধঁবৎংঢ়রবষ)।’ তিনি মূলত আহমদ ছফার কবিতার সঙ্গে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছেন। প্রয়াত গবেষক প্রবন্ধিক ড. অনু হোসেন লিখেছেন- ঐন্দ্রজালিক মায়ায় জীবনানন্দ, মোহাম্মদ আজম- মুনীর চৌধুরীর কবর নাটক সম্পর্কে সাতটি মন্তব্য, ফকরুল চৌধুরী- চিত্রকলার উপনিবেশায়ন : উন্মেষ পর্ব, সুমন শামস- কবিতার নিয়তি প্রবন্ধের মাধ্যমে ‘পর্ব’কে সমৃদ্ধ করেছেন।

উপরে উল্লেখিত প্রতিটি প্রবন্ধই পাঠককে মহিমান্বিত করবে; পাঠক বিষয়গুলোর মধ্যে এক নতুন চিন্তার সন্ধান পাবে। দুটি প্রবন্ধকে বিশেষ রচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- আযাদ কালামের দিনাজপুরে উইলিয়াম কেরি; প্রকৃত পক্ষেই বিশেষ রচনা; কেননা এই উইলিয়াম কেরির হাত ধরেই বাংলা গদ্যের বিকাশ ঘটেছিল; সেই কারণে বাংলা সাহিত্যে উইলিয়াম কেরি স্মরণীয়। সুদূর ইংল্যান্ড থেকে এই উপমহাদেশে এসে কীভাবে নিজের সাথে সংগ্রাম করেছেন তার একটি ফ্রেমওয়ার্ক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন লেখক। সেইসাথে কুমার চক্রবর্তীর আরেকটি বিশেষ রচনা- হে বৃক্ষবন্ধুরা। এই মুহূর্তে বৃক্ষ বা গাছ একটি গ্লোবাল ইস্যু, এই ক্রাইসিস এর যুগে বৃক্ষের প্রতি এক মায়া লাগা রচনা। প্রবন্ধ দুটোই গবেষকদের কাছে গুরুত্ব পাবে আশা করা যায়।

সুমন দেবনাথ এর লোকায়ত দর্শন : চার্বাক-এ চার্বাক দর্শনের এপিঠ-ওপিঠ দুটোই একসাথে দেখানোর চেষ্টা করেছেন; সেই সাথে যারা চার্বাক দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাদের জন্য এই প্রবন্ধটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও আরো লিখেছেন : আনোয়ারুল করীম- নজরুল ও মোহাম্মদ নাসিউদ্দীন, মোজাফ্ফর হোসেন- অনুবাদের তত্ত্ব ও প্রসঙ্গ কথা, আজিজুল রাসেল- বুদ্ধিজীবীর দায়, আবু হেনা মোস্তফা এনাম- শওকত আলীর কালদীপিত অক্ষরমালা, মোহাম্মদ আব্দুর রউফ- কাব্যনাটকে সৈয়দ শামসুল হক, হামিদ রায়হান- কবিতার সাম্প্রতিকোত্তর পাঠবিশ^, শিশির মল্লিক- মধ্যবিত্ত শিল্প¯্রষ্টা ও মধ্যবিত্ত সংস্কৃতির অর্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ হিসেবে পাঠের দাবি রাখে।

পর্ব’র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সম্পাদনা। সম্পাদক মজিদ মাহমুদ শুধুমাত্র পরিচিত লেখকদের লেখাকে একত্রিত করে নির্বাণ লাভের চেষ্টা করেননি, সাথে নিয়েছেন নতুনদের, তাদের সুযোগ করে দিয়েছেন লেখক হয়ে ওঠার। বেশ কিছু নতুন লেখকদের কবিতা গল্প এখানে স্থান পেয়েছে যা তাদের জন্য প্রেরণাদায়ক । প্রকৃত সম্পাদকের এটাই কর্তব্য।

একটি পত্রিকাকে পূর্ণতা প্রদানের জন্য যে সব শাখা-প্রশাখা পত্রিকার কলেবরকে সম্মানিত করে তার প্রতিটির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। গল্প লিখেছেন- রতন ঘোষ, মাহফুজ রিপন, ইশরাত বিনতে আফতাব, সাফিনাজ সুলতানা, ফারজানা ববি। টি এস এলিয়ট এর ওয়েস্টল্যান্ড অনুবাদ করেছেন কবি মজিদ মাহমুদ এবং টোমাস ট্রানসট্রোমারের কবিতা অনুবাদ করেছেন মিজান মুর। ভ্রমণ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার সাবলীল বর্ণনা করেছেন শাহিন চৌধুরী। কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে স্মরণ করে তাপস রায় লিখেছেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা পাঠক-বোধের কাছে। এ ছাড়াও কিছু বই ও পত্রিকা আলোচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে পর্বের এগারোতম সংখ্যা।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj