মহাদেব সাহাকে নিবেদিত

শুক্রবার, ২ আগস্ট ২০১৯

** তোমার নাম দিলাম **

জোবায়ের মিলন

তোমার নাম দিলাম ‘অঝর শ্রাবণ’

তোমার নাম দিলাম ‘বিষণœ আষাঢ়’

তোমার নাম দিলাম ‘পড়ন্ত বিকাল’

তোমার নাম দিলাম ‘একাকী মাঝরাত’-

এ ছাড়া তোমাকে আর কোন নাম দেব?

তোমার নাম দিলাম ‘নিঃসঙ্গ উদধি’

তোমার নাম দিলাম ‘নীরব শীতাংশু’

তোমার নাম দিলাম ‘নিমগ্ন পথিক’

তোমার নাম দিলাম ‘পথের বিষাদ’

তোমার নাম যদিও দেয়া যায় তরু,

সমিরণ, শৈবলীন, নিনাদ, নিখিল কিন্তু

তোমার নাম দিলাম ‘সুনীল আকাশ’।

অভিধান থেকে এনে চাইলেই তোমাকে

অভিধিত করা যায় পাহাড়, পর্বত

মাটি-জল-কাদা-ফুল এমন অনেক

রঙিন রঙিন নামে; ভিন্ন নামও যায় দেয়া কিন্তু

তোমার নাম দিলাম ‘নিঃঝুম রজনী’

তোমার নাম দিলাম ‘সুশান্ত শূন্যতা’।

তোমার নাম দিলাম ‘রমণীয় কান্না’

তোমার নাম দিলাম কান্নার ‘আপন বোন’।

** এসো ভুলে যাই **

হাফিজ রহমান

‘ভুলে যাও, ভুলে যাওয়ার চেয়ে ভালো কিছু নেই’

আমি নই, বলেছেন একজন বিদগ্ধ কবি!

ভালোবাসার অনুভব কবির কাছে শিখি,

তাই তার কথা অমান্য করতে নেই।

বালিকা, এসো আমরাও ভুলে যাওয়ার পাঠ

তালিম করতে থাকি।

দেখি, ভুলে থেকে কতটা কষ্ট বাজে বুকে,

এই কষ্টে কতটা বিদীর্ণ হয় পাথর হৃদয়

তুমি তো জানো কোমলও পাথর হয়-

কখনো তো বহুদিন ভুলে থেকে ছিলে,

আমিও ছিলাম ভুলে, কোনো ব্যথা বাজে নাই বুকে।

শত কথা বলুক নিন্দুকে,

সেসব আমল দিলে দুজনের ক্ষতি,

তারচেয়ে ভুলে যাও, আসবে জীবনে নবগতি।

অকারণ কাছে পাওয়ার মোহ, অকারণ ভাবাবেগ,

কেটে গেলে দেখবে, জীবন কত নিরুদ্বেগ!

ঠিক যেন বৃষ্টিস্নাত কোমল আকাশ।

তাই এসো, কবির কথাই,

মেনে নিয়ে মাথা পেতে

দুজনেই সব ভুলে যাই।

কোন কবি? ভুলেছ নাম তার?

‘ভুলে যাও, ভুলে যাওয়ার চেয়ে ভালো কিছু নেই’

বলেছেন যিনি, স্বনামধন্য তিনি,

মহাদেব সাহা নাম তার!

** পলাশের রঙ মাখা সে এক বিকেলে **

চন্দনকৃষ্ণ পাল

তার তুলিতে উঠে আসে হৃদয়ের রঙ আর

কণ্ঠে মেঘ মন্দ্রিত উচ্চারণ….

এক বিকেল রঙ আর উচ্চারণে উচ্ছ¡সিত হয়ে ওঠে

সহসাই সোনালী চা থেকে ধোঁয়া ওঠে

স্বপ্নময় করে তোলে চায়ের দোকান।

পলাশের রঙ আকাশে ছড়িয়ে গিয়ে

বিকেলকে সন্ধ্যের কাছে নিয়ে আসে,

সিএফএল বালবের আলোকে বড় বেশি

প্রসাধিত মনে হয়….

আমার টিমটিমে আলোর কথা মনে পড়ে!

যে অন্ধকারকে আরো গাঢ় করতে

ভূমিকা রাখতো অহরহ….।

বদলে যেতে যেতে গ্রাম, জলাভূমি

দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ আজ ধূসর

বিষাদিত ইটের জঙ্গল….।

পলাশের রঙ আর উচ্চারণ এই জঙ্গলেই

ফুল ফোটালো এই আদিম সন্ধ্যায়।বৃক্ষের মতো

** সময়ের দিনরাত **

কাঙাল শাহীন

একটা বৃক্ষতলে দাঁড়িয়ে দেখি, তাঁর শাখা-প্রশাখার কান্না

ফুল ফোটার কি প্রার্থনা উদার কণ্ঠে-

ভোরে পাখির ডানার শব্দে ফুল হেসে উঠলে পাতার ফাঁকে

তখনো দাঁড়িয়ে বলি, প্রিয় পাখি ও-প্রিয় অতিথি পাখি

ফুলে ফুলে ভরে দাও জীবন, বৃক্ষের মতো সময়ের দিনরাত।

কেবলি মায়ালোকে পাখির ডানায় ডানায় আপনি এলেন

বহুপথ মানুষের ভিড়ে, কলকল নদী জলে

এখনতো সবুজ দূর্বাঘাসেও ফুটেছে কতো না ফুল

ব্যথার উঠোন জুড়ে পড়েছে জ্যোৎস্নার চুম্বন।

মাঠের সীমায় আলোক জ্বালিয়ে রাখি বুকের অতৃপ্ত প্রেমে

যতো কাল নামবে আঁধার পৌঁছে দেবো নীরবে পাখির গান

দিগন্তের পথে পথে মুছে দেবো বিশ্বাসে প্রাণের মুখখানি।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj