হাঙর নদী গ্রেনেড’র আরাধ্য

শুক্রবার, ১৪ জুন ২০১৯

ইলিয়াস বাবর

ন্যারেটিভ একটা বয়ান-ভাষ্যের মধ্য দিয়ে যখন আমরা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’র উপন্যাসসুলভ রস আস্বাদনে প্রবৃত্ত হই- তাতে জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’র একটা ছায়া যেন অলিখিতভাবে এসে যায়। এবং শেষ পর্যন্ত বুড়ি আর গফুরের মাছ ধরতে যাওয়ার ব্যাপার-স্যাপার আমাদের মনোভঙ্গিকে আরো বেশি বিশ^স্ত করে তোলে স্বকীয় ভাবনাবিশে^। গ্রামীণ একটা ভাব এতে আছে, ভিড় না থাকলেও! কিন্তু সেলিনা হোসেন তার দেখাকে নিয়ে যান অন্যরকম এক সুষমা ভরা দানিতে। এ ক্ষেত্রে ঔপন্যাসিকের কাজ কী? এ প্রশ্নের উত্তরে আমরা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের শরণাপন্ন হলে অবশ্যই দোষের কিছু দেখি না; তার মতে, ‘কথাসাহিত্যের সূত্রপাতই হলো ব্যক্তির মুক্তিস্পৃহাকে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে, সামন্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের পরোয়া না করে সমাজের ও মানুষের, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ সাধনই ছিল উপন্যাসের কাজ।’ ফলত, সেলিনা হোসেন এড়িয়ে যেতে পারেন না মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো মহত্তম অধ্যায়কে। সেলিনা হোসেন তার পূর্বাপর আলোচিত অনেক উপন্যাসেই তুলে এনেছেন জনমানসের ধারণার বাইরের শ্রæতি-আধার বা আপাত কঠিন বিষয়াশয় নিয়েই নির্মাণ করেছেন বিবিধ উপন্যাসের শরীর- যা তুমুলভাবে আলোচিত তো বটেই ভিন্ন একটা পথ তৈরি করা ও পাইনিয়র পথে ভাস্বর হয়ে থাকার অনন্য গৌরববাহী। এবং ঔপন্যাসিকের হৃদয় দিয়ে সেলিনা আমাদের পার্থিব সব চাওয়া-পাওয়ার খতিয়ানে রেখেও জাতির অনন্য এক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ঘুরিয়ে আনেন হলদী গ্রাম। বলাবাহুল্য হলদী গ্রাম তখন শুধুমাত্র নিছক বৈশিষ্ট্য ধারণ করা গ্রাম থাকে না আমাদের কাছে; তা হয়ে ওঠে ব-দ্বীপের মুক্তিযুদ্ধরত সংগ্রামশীল সব গ্রামেরই বিশ^স্ত আদল। আমরা তাতে ডুবে যাই অবলীলায় আর পলে পলে অনুভব করি জাতীয়তাবোধের সাত্তি¡ক অবস্থান। এ কেন? কোন অধিকারে? ঔপন্যাসিক নিশ্চয়ই এমন সব উপাদান এতে মিলমিশ করেছেন যা হলদী গ্রামের সাথে আমাদের একাত্ম করে দেন; বুড়িকে করে দেয় সকলের মা! সে মহান যোগসূত্রের কথা আমরা মহীবুল আজিজের মন্তব্যেও পেতে পারি- ‘… হলদী গাঁয়ের বুড়ি’র কোন কোন দিক আমরা উপস্থিত দেখতে পাবো তথাপি কে অস্বীকার করবে, হলদী গাঁয়ের বুড়িকে জন্ম দিয়েছে ১৯৭১- বুড়িকে নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ নামের অভিজ্ঞতা।’ সংশয়শূন্য হয়ে তাহলে কি ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’র বুক হয়ে উচ্চতর সমান্তারালে পৌঁছ যাবে?

শৈশব-কৈশোর যে কোনো মানব সন্তানের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এ সময়ের অনেক বৈশিষ্ট্যই শেষ পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয় জীবনের শেষ দিনও! বুড়ির অসামান্য ত্যাগ আমাদের বাধ্য করে তার জীবনের এ পর্বের দিকে বাড়তি নজর দিতে। এবং আশ্চর্য হয়েই আমরা দেখি, বুড়ি- পরিবার প্রদত্ত এ নাম নিয়ে আপত্তি জানাতেও দ্বিধা করে না; বাবার কাছে কান্নাকাটি করে, খেলার সাথীদের কাছে পারলে নিজের নামই অস্বীকার করে। স্বাভাবিকভাবেই চঞ্চলতা একটু বেশি বলে পরিবারের অন্যরা বাধা দিতে চায়, তবুও তার শখ একদিন ট্রেন কোথায় যায় দেখবে। জীবনের প্রারম্ভেই বুড়ির আগল ভাঙার এ ইঙ্গিত কি শেষ পর্যন্ত মহিরুহ হওয়ার উপসর্গ? বুড়ির চরিত্র-লক্ষণ দেখিয়ে সেলিনা হোসেন হয়তো আমাদের বুঝিয়ে ছাড়েন ওকে দিয়েই ছড়ি ঘোরানো হবে হলদী গ্রামের কিংবদন্তিতে। যতীন সরকার যেমন বলেন- ‘যে অসামান্যা, গ্রাম্য রমণী জনয়িত্রী হতে পেরেছে এমন একটি অসামান্য অসম্ভব অবিশ^াস্য অচিন্তনীয় নির্বাক করে দেয়া ঘটনার, তার অগ্নিবীজ উপ্ত ছিল সে রমণীর শৈশব-যৌবনের বাঁধ না মানা অনুভবের মধ্যেই।’ বাবাহীন আট-দশটা মা-ভাই যেমন তার মেয়ে-বোনকে নিয়ে উৎকণ্ঠিত থাকে, বিশেষত মানুষটি যখন অতিমাত্রায় ঘুড়িবিলাসী তখন বিপতœীক চাচাতো ভাই গফুরকে পাত্র হিসেবে পেয়ে আহ্লাদিত; বুড়ির সাথে তার বয়সের বিস্তর ফারাক সত্ত্বেও এ বিয়েকে প্রভাবিত করতে পারে না; বলা যায় আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের কাছে বুড়ির মা’র প্রতিবাদ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে শূন্যে মিলে যায়। বুড়িও মেনে নেয় নির্দ্বিধায়, সে জানে- তার বেগানা মন কেউ-ই আটকাতে পারবে না। যদিও যে সলীম-কলীমর সাথে খেলার সাথীসুলভ সম্পর্ক ছিল তা বদলে যায়, যাকে পাশের চাচাতো ভাইজ্ঞান করতো সে হয়ে যায় স্বামী! তবুও গফুরকে আমরা দোষ দেই না; সে সদা তৎপর বুড়িকে খুশি রাখতে। বুড়ির কিশোরীসুলভ আচরণে গফুর ধৈর্যহীন হয় না বরং বুড়িকে তার স্বাধীনতায় বাড়তে দেয়, গড়তে দেয়। এবং ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’র শরীর ভাঙতে ভাঙতে আমরা দেখি বুড়ি সলীম-কলীমকে নিজের সন্তান জানলেও গর্ভজাত সন্তানের মুখে মা ডাক শুনতে সে উদগ্রীব। লোকমুখে শুনে আসা শ্রীনাইল ধামের কথা, ওখানে মানতের ফলে সন্তান লাভের কথা বুড়িকে আরো উতলা করে দেয়। লোকায়ত বিশ^াসের অনন্য এ মিথ আমাদের যেন ত্বরিত স্মরণ করে দেয় ‘লালসালু’র কথা! বস্তুত এ ব-দ্বীপে এরকম আচার ধারাবাহিকভাবে চলে, একে কোনোভাবেই দৃষ্টির আড়ালে রাখা যায় না- ঔপন্যাসিক তো পরিপাশর্^ থেকেই রসদ নিয়ে গড়ে তোলেন উপন্যাসের শরীর! এর ফাঁকে বুুড়ির ঘরে হাজিরা দেয় নীতা বৈরাগি। তার বৈরাগ্য বুড়িকে একটু আঁচড় কাটে; মাতৃত্বের স্বাদ নিতে হাহাকার করা হৃদয়ে মহাপুরুষ বিষয়ক ভিতটা আরো মজবুত করে। একসময় বুড়ির কোলে আসে রইস। নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে গফুরও একসময় চলে যায় অচিন দেশের আতিথ্য গ্রহণ করতে। মেঘলা দিনের আকাশে আলোকচ্ছটা অবলোকনের মতো বুড়ির মাঝে মাঝে খেলার সাথী জলিলকেও মনে পড়ে। এতসব সামাজিক আয়োজনের মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠে সলীম-কলীম; হৃষ্টপুষ্ট হয় রইস- বুড়ির সাত রাজার ধন। সলীমের ঘরে আসে পুতুলের মতো বউ রমিজা, সে বুড়িকে মায়ের আদরে পুষে রাখে সারাক্ষণ। কুটুম পাখির আগমনী খবরে রমিজার কোলে আসে ফুটফুটে বাচ্চা; বিপুল যন্ত্রণার শেষে পৃথিবীতে নিজের আবির্ভাবের ডাক নিয়ে আসে মানবসন্তান। মুক্তিযুদ্ধের অব্যাহতির আগে এ সুখবর আমাদের মুক্তির বার্তা করেই আনেন সেলিনা হোসেন।

সলীম, শহরে শত্রুসেনাদের দেয় আগুনে বউ-বাচ্চা হারানো জলিল গোপনে চলে যায় মুক্তিযুদ্ধে; কলীমের ওপর পড়ে ঘর সামলানোর দায়িত্ব। মিলিটারিরা কলীমকে ধরে নিয়ে যায়, ফিরে আসে তার লাশ- অবর্ণনীয় নির্যাতনেও তার মুখ থেকে বের করা যায়নি সলীমের খবর; ঔপন্যাসিক এতে মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ের অবস্থান বর্ণনা করেন সযতনে। এতসব অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে হলদী গ্রামবাসী তথা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর যুদ্ধাশ্রিত-আগুনময় প্রবাহে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে ক্রমশ। এভাবেই আমরা দেখি গ্রামে গ্রামে ডুকে পড়ে ইয়াহিয়ার কুত্তাবাহিনী- পথ-ঘাট চিনিয়ে দেয় একপাতে ডাল-মুড়ি ভাগ করে খাওয়া মনসুরের মতো কুলাঙ্গারেরা। সমানতালে চলে হত্যা-ধর্ষণ, খোয়া যায় গেরস্তের গরু-ছাগল-মুরগি। রমিজারা প্রাণপণে পালিয়ে বাঁচায় নিজের সম্ভ্রম; তবুও আমরা শুনি যুবতীর আর্তচিৎকার- কেউ বাঁচায় না, সময় যে বড় নিষ্ঠুর! এবং কী নির্মোহভাবে সেলিনা বয়ান করেন মায়ের হাতে সন্তানের অপমৃত্যুর দলিল! আহা, অবুঝ শিশুর একটা বেহিসেবি চিৎকার যদি সর্বনাশ ঘটিয়ে দেয়? শোনা যাক উপন্যাসের পাতা থেকে- ‘কোলের শিশুটা কেঁদে উঠতেই শামসুর মা ওকে পানির তলে চেপে ধরে, কোনো কিছু ভাবার সময় ছিল না তখন। মিলিটারি চলে গেলে ওরা সবাই উঠে এল, শামসুর মা’র বুকে তখন ছেলেমরে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।’ অকল্পনীয় সব যুদ্ধ-বাস্তবতা সেলিনা আমাদের সামনে তুলে ধরেন- পাঠসময়ে যেন আমরা চলে যাই একাত্তরের উত্তুঙ্গ সময়ে! নীতাকে আবারো আসতে দেখি বুড়ির ঘরে- তখন সে বিধ্বস্ত; ‘মনের মাঝে মানুষের’ সন্ধান ছেড়ে নীতা হয়ে যায় মুক্তিকামী মানুষের একাত্ম। তার গলায় প্রেমের গানের বদলে আসে দেশের গান-মুক্তির গান। এবং নীতাদের আখড়া পুড়ে দেয়, বাউলদের মেরে ফেলা, আখড়ায় অবস্থানরত যুবতীদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া যুদ্ধকালীন বাস্তবতা হিসেবে থাকলেও শত্রুসেনা আর এ দেশীয় দোসরদের মন্তব্য আমাদের তৎসময়ের সংখ্যালঘুদের আত্মার সহযাত্রী করে ছাড়ে। সেই যে গ্রামীণ পটভূমিকে ক্রমশ জাতীয় করে তোলার অনন্য শিল্প-কৌশলী সেলিনা বেশ দেখিয়ে দেন আলোচিত উপন্যাসে।

না, বুড়ি আর নিছক ব্যক্তি থাকে না শেষপর্যন্ত। দরজায় কড়ারত শত্রুসেনা হয়ে আসা যমদূতের হাতে তুলে দেয় অনেক ফিকির করে পাওয়া রইসকে, সাথে আগ্নেয়াস্ত্র! রইস তো অবুঝ! সে আচমকা পাওয়া বস্তুটি নেড়েচেড়ে দেখে; তারও কিছুদিন আগে বুড়ি রটিয়ে দেয়- সলীম যুদ্ধে মারা গেছে। এ বার্তা বুড়ির হৃদয়ের বিশালতা কিংবা ত্যাগের মহত্তম প্রস্তুতিকেই কি নির্দেশ করে? উপন্যাসে দেখা যাক- ‘সৈনিক দুজন বুড়ির বারান্দায় ওঠার সময় পায় না।

পা সিঁড়িতে রাখার সঙ্গে সঙ্গেই বুড়ি রইসকে ঘর থেকে বের করে আনে।’ নীতার বাধা শোনেনি বুড়ি, মাতৃত্বের সন্তানলোভী আর্তনাদ শোনেনি বুড়ি। শুনলে কি সবার মা হতে পারতো বুড়ি! ‘বুড়ি এখন শুধুমাত্র রইসের একলার মা নয়’- বলে ব্যক্তি থেকে সমষ্টি হয়ে ওঠার এক মহানুভবতা আমাদের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ পাঠের প্রতিক্রিয়ায় পেয়ে বসে চারদিক দিয়ে। বুড়ি জানতো তার রইস নামক মানব শিশুটিকে দিয়ে আর যা হোক শত্রুবধ করা যাবে না, সেক্ষেত্রে কাদের আর হাফিজের বেঁচে থাকাটাই সময়ের জন্য সবচেয়ে জরুরি। রইসের মৃতদেহ দেখে থমকে দাঁড়ায় চলতি পথে, বলে- ‘মাগো যাই’। রইসের মুখ থেকে মা ডাক শুনতে না পারার যন্ত্রণা কি কাদের-হাফিজের কণ্ঠেই পুষিয়ে নেয় বুড়ি? বুড়ির কান্না তো আর থামে না, প্রতিবেশীরাও অবাক এমনতর ত্যাগে। ওতেই রচিত হয় মা-জাতির মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস। বিশ^জিৎ ঘোষ যেমন বলেন- ‘উপন্যাসের নায়িকা বুড়ি মুক্তিযুদ্ধে উৎসর্গ করেছে প্রাণ-প্রতিম সন্তানকে এবং এভাবেই সে আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে পৌঁছে গেছে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের রক্তিম স্রোতে।’

আচ্ছা, ঔপন্যাসিক ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’তে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পর্যন্ত এগিয়ে নেননি কেন? সাহিত্য-সৃজনে এ প্রশ্ন অনান্তর হলেও এর উত্তর মনে হয় এই- মুক্তির যুদ্ধ কখনো শেষ হয় না, আর শেষ হয় না বলেই স্বাধীন এ দেশে প্রায়ই দৃষ্টিগ্রাহ্য হয় বৈষম্যের মেদবহুল উদাহরণ। প্রতিদিনই এখানে শোনা যায় ধর্ষিতার চিৎকার, বিচার না পাওয়ার বেদনাবিদুরতা। প্রতিক্ষণই যেন মৃত্যু উপত্যকা- দৈনিকের পাতা খুললেই অপমৃত্যুর খবর, ভয়াবহ সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখিতে ঝরে পড়ছে রক্ত। বৈশি^ক রাজনীতির সাথে তাল মেলাতে এ দেশকেও আশ্রয় নিতে হয় ক‚টনীতিপনায়, এখানেও চলে সা¤্রাজ্যবাদীর ক‚টচাল। এ দেশের সীমান্ত রঞ্জিত হয় ফেলানীর রক্তে- এখানেও মায়েরা বিনা কারণে সহ্য করে সন্তানের বলি হওয়া। ক্রমশ জিহ্বা বের করতে থাকা ভিনদেশি সংস্কৃতির আক্রমণ কে তবে রুখবে? একাত্তরের অকল্পনীয় ত্যাগের পর বুঝি আমাদের হারানো কিছুই নেই! প্রজন্মান্তরের যে চাহিদা, বিশ^ব্যাপী বৈজ্ঞানিক নানাবিধ বিপ্লব কিন্তু প্রতিনিয়তই দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে প্রতিযোগিতার। ফলে আমাদেরও অর্জনের সাথে হিসাব করতে হয় বর্তমানের; ব্যর্থতার ভিতরেও হাসতে হয় কর্পোরেট হাসি। সচেতনতার বীজ বুনে দিয়ে অবশ্যই আত্মমর্যাদার সাথে মানবিক হতে হবে আমাদের। এ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা আছে হে পথিক? সামনে রাখতে হয় প্রেষণার অনন্য ভাণ্ডার। সাহিত্যিকরা যুগে যুগে এ কাজটি করে যান সততার সাথেই। হয়তো এ কারণেই ম্যাক্সিম গোর্কির মা যেমন তাবৎ মুক্তিকামীর মা হয়ে যায়, তেমনি সেলিনা হোসেনের বুড়ি হয়ে যায় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ডের সংগ্রমামরত সন্তানদের অবাধ আশ্রয়কেন্দ্র।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj