উদ্দেশ্য অসৎ : নতুন ভবন নতুন করে নির্মাণ!

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

পাটওয়ারী হোসেন শরীফ, রামগঞ্জ (লক্ষীপুর) থেকে : রামগঞ্জের চণ্ডীপুর মনসা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯২৪ সালে স্থাপিত হয়। পুরনো জরাজীর্ণ টিন শেড ভবন সংস্কার না করে দুবছর আগে নির্মিত টেকসই দ্বিতল ভবন ভেঙে পুনরায় নতুন ভবন করার পাঁয়তারা করছে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক মহলসহ এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুবছর আগে দ্বিতল ভবন ভেঙে চারতলা নতুন ভবন নির্মাণের নামে এডহক কমিটি দুষ্ট চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কৌশল বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চণ্ডীপুর মনসা উচ্চ বিদ্যালয়টি দেড় একর সম্পত্তির ওপর ১৯২৪ সালে স্থাপিত হয়। স্বাধীনতার পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় আধা সেমিপাকা একটি টিন শেড ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণ। এরপর এলাকাবাসী এবং জনপ্রতিনিধিসহ শিক্ষকদের আন্তরিকতায় বিদ্যালয়ে তিনটি পাকা ভবন নির্মিত হয়। সর্বশেষ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ১৯৯৫ সালে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মিত হয়। ভবনটি টেকসই হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবক এবং জনপ্রতিনিধিদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে দুবছর আগে তৎকালীন কমিটি বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ১১ লাখ টাকা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে মোট সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই টেকসই ভবনের ওপর নতুন করে পাঁচ কক্ষের টিন শেড ভবন নির্মাণ করে। বর্তমানে ওই ভবনে পাঠদানে কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত না হলেও চলমান এডহক কমিটি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভূঁইয়াসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিরা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে টেকসই ওই দ্বিতল ভবনটিকে ড্যামেজ ঘোষণা করে ভাঙার চক্রান্ত শুরু করেছে। তারা ভবনটি ভেঙে ওই স্থানে চার কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা নতুন ভবন করার পাঁয়তারা করছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মতে টেকসই ভবনটি যদি ড্যামেজ হয়ে থাকে তাহলে দুবছর আগে ওই ড্যামেজ ভবনের ওপর সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে টিন শেড ভবন নির্মাণ করা হলো কেন? তাদের দাবি, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সম্পত্তি রয়েছে। পাকা ওই দ্বিতল ভবনের সামনে পুরনো জীর্ণ টিন শেড ভবন রয়েছে। সেই ভবনটি কেন ভাঙা হচ্ছে না? তারা ওই টিন শেড ভবন ভেঙে সেখানেই নতুন ভবন করার দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনুর রশিদ চলমান প্রক্রিয়ার কাজ স্বীকার করলেও কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি জানার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও এডহক কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুর রহমান শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, যে কেউ চাইলেই বিদ্যালয়ের সম্পত্তি নষ্ট করতে পারে না। চণ্ডীপুর মনসা উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন ভাঙার ব্যাপারে বিধি-নিষেধ রয়েছে। ওই বিধি-নিষেধের বাইরে কাজ করলে আইনগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj