লোহাগাড়া কিল্লার আন্দর ব্লুাড ব্যাংক : রক্তদান করাই যাদের নেশা

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. জাকারিয়া পেশায় কৃষক। একদিকে অভাব অনটনের সংসার। অন্যদিকে দুই মেয়ে এক ছেলে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো সন্তানকে রক্ত দিতে হয়। একদিন লোহাগাড়ার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন কিল্লার আন্দর ব্লুাড ব্যাংকের কথা। যোগাযোগ করেন ওই ব্লুাড ব্যাংকের সভাপতি রাকিবের সঙ্গে। সেই থেকে গত দুই বছর ধরে জাকারিয়া পরিবারের তিনজনকে নিয়মিত রক্ত দিয়ে যাচ্ছে কিল্লার আন্দর ব্লুাড ব্যাংকের সদস্যরা।

এ ব্যাপরে কথা হয় কিল্লার আন্দর ব্লুাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাতকানিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবুল হাসানের সঙ্গে। শুরুর দিকের গল্পটা জানতে চাইলে সে জানান একদিন এক অচেনা মানুষ আমার মোবাইলে ফোন করে বলে, ভাই আমার স্ত্রীর জন্য রক্তের প্রয়োজন। জিজ্ঞাস করলাম রক্তের গ্রুপ কী? উনি বললেন, বি নেগেটিভ। এর পরে বিস্তারিত তথ্য নিলাম এবং বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলাম। যোগাযোগ করার পরও রক্তের সন্ধান পেলাম না। ওই দিন থেকে মনে মনে ভাবতে লাগলাম যদি একটি ব্লুাড ব্যাংক থাকত তাহলে দ্রুত রক্তের সন্ধান পাওয়া যেত। সেই চিন্তার ফসল কিল্লার আন্দর ব্লুাড ব্যাংক।

২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি একজন মুমূর্ষু নারীকে এ পজেটিভ রক্তদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কিল্লার আন্দর ব্লুাড ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়। সেই দিন থেকে মানবকল্যাণে নিয়মিত রক্তদান করে যাচ্ছেন সংগঠনের সদস্য কুতুব উদ্দীন, প্রবাল দাশ, ইরফান মোহাম্মদ আল সামির, ফাহমিদা সোলতানা ও জেনিয়া সোলতানাসহ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই। বর্তমানে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন। তারা প্রতিনিয়ত রক্ত দিচ্ছে কোনো না কোনো রোগীকে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ রোগীকে রক্ত দিয়েছে আমাদের সদস্যরা। কিল্লার আন্দর ব্লুাড ব্যাংক সম্পর্কে লোহাগাড়া উপজেলা কর্মকর্তা ডা. মো. হানিফ বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান নিঃসন্দেহে ভালো একটি কাজ। এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমি সবসময় তাদের পাশে আছি এবং থাকব।

বর্তমানে ওই সংগঠন লোহাগাড়া ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম শহর, কক্সবাজার শহর, বান্দরবান জেলা শহরসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তারা রক্ত দিচ্ছে। রক্তদানের পাশাপাশি তারা গরিব শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, বৃক্ষ রোপণ, জনসচেতনতামূলক কাজসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের এই কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে চায় সর্বত্র। সংগঠনের সব সদস্য জানান তাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য একটাই, অসহায় রোগী ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। রক্তের অভাবে যেন কোনো রোগী কষ্ট না পায়। আর রক্ত দিতে পারলেই তাদের আনন্দ।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj