রাজধানী বাঁচাতে সচেতন হই

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

বাংলাদেশে বায়ু, পানি ও পরিবেশ দূষণে বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২.৭ ভাগ। শুধু বায়ুদূষণে ক্ষতি হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। দূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার হয় শিশুরা। ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের এক কর্মশালায় প্রকাশিত সমীক্ষার ভিত্তিতে বাংলা দৈনিক প্রথম আলো এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, ঢাকার ৫৯টি এলাকায় মাটি ও পানিতে সিসার পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি। ঢাকা শহরের ৬ লাখ মানুষ এখন সিসা দূষণের কবলে। ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সবচেয়ে বেশি দূষণের শিকার। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে বায়ুদূষণ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ইটভাটাগুলো বায়ুদূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা ৩৪ ভাগ এবং মোটরযান ১৮ ভাগ দায়ী।

‘বাংলাদেশ পরিবেশ সমীক্ষা-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বাংলাদেশের পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। শিল্পকারখানাগুলো অপরিকল্পিতভাবে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানি তুলে ফেলছে। ফলে পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে খাল ও নদীসহ অন্যান্য জলাশয়ের পানিও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। নানা উদ্যোগ আর কথার ফুলঝুরির পরও ঢাকার প্রাণপ্রবাহ বুড়িগঙ্গার দূষণ কমছে না। প্রতিদিন বুড়িগঙ্গায় গিয়ে পড়ছে বিপুল পরিমাণ কঠিন আর তরল বর্জ্য। বুড়িগঙ্গার পানি ইতোমধ্যেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বুড়িগঙ্গা নিজেই বিষ ছড়াবে।

প্রতিদিন ২২ হাজার ঘনমিটার তরল আর ১০ টন কঠিন বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় গিয়ে পড়ছে। শিল্প ও পয়ঃবর্জ্য অন্তত ৪৮টি পথ দিয়ে বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিশে। আর পলিথিনের পুরু স্তর রয়েছে বুড়িগঙ্গার তলদেশে। এই পলিথিন প্রতিদিন বাড়ছে। কারণ পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা বন্ধ হয়নি। পলিথিন বর্জ্য বুড়িগঙ্গাকে মেরে ফেলছে।

বুড়িগঙ্গা দূষিত হওয়ার প্রধান কারণ শিল্প বর্জ্য। নানা আয়োজনের পরও অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নেই। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের আশা, আগামী ২ বছরের মধ্যে অধিকাংশ কারখানায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। দূষণের আরেক উৎস ঢাকার ট্যানারিগুলো ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচের কারণে তাও সরানো যাচ্ছে না। ‘ঢাকা শুধু আমার বা আপনার নয়, সারাদেশের’। তাই এই ঢাকাকে, এই রাজধানীকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সচেতন হতে হবে।

মু. হামিদুর রশিদ জামিল

:: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj