সিকান্দার আবু জাফর স্মরণ : তার লেখায় মানবতা বাক্সময় হয়ে উঠেছিল

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন কবি পরিচয়ে বিখ্যাত। একাধারে তিনি ছিলেন সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক। তার শব্দ চেতনার বাহন হিসেবে কাজ করত। কবিতার ভাব আবেগ হয়ে পাঠকের মনে সাড়া জাগাত।

সমাজ এবং সংসারের প্রত্যক্ষ সংঘাতের অভিজ্ঞতাকেও তিনি ব্যক্ত করেন তার কবিতায় শব্দের আবেগময় প্রকাশে। তেমনি একজন শব্দসচেতন, সমাজসচেতন সংগ্রামী কবি সিকান্দার আবু জাফর। যিনি তার কাব্যের মূল সুর খুঁজেছেন সমাজ সংঘাতের দুঃখ বেদনার মধ্যে। বাংলা একাডেমি গতকাল বুধবার সকালে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে কবি সিকান্দার আবু জাফর স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘কবি সিকান্দার আবু জাফর ও তার সময়’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন কবি আসাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি রুবী রহমান, কবি কাজী রোজী, ড. ইসরাইল খান, নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক এবং সিকান্দার আবু জাফরের কন্যা কবি সুমী সিকান্দার।

একক বক্তা কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, সিকান্দার আবু জাফরের গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ-নিবন্ধ, সম্পাদকীয় সর্বত্রই বাংলাদেশ ও তার শোষিতবঞ্চিত মানুষের মুক্তি, মানবতার জয়গান বাক্সময় হয়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী এবং আন্তর্জাতিকতাবাদী। তাই সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষের সপক্ষে সোচ্চার ছিল তার ক্ষুরধার কলম। তার সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘সমকাল’-এর সম্পাদকীয় ও নিবন্ধেও আমরা একজন প্রগতিশীল মানবতাবাদী লেখকের কণ্ঠস্বর শুনতে পাই। তিনি বাঙালি জাতিসত্তার অনুক‚লে লিখিত গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন অসম সাহসিকতায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত তার বিখ্যাত কবিতা সংকলিত হয়েছিল ‘বাঙলা ছাড়ো’ কাব্যগ্রন্থে।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, কবি সিকান্দার আবু জাফরের কবি ও গীতিকার সত্তা অভিন্নপ্রায়। তবে তার জীবনের সেরা কীর্তি সমকাল পত্রিকা সম্পাদনা। এ পত্রিকার পাতায় পাতায় তার রুচি ও সাহসের পরিচয় মুদ্রিত আছে। এদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ‘বাঙলা ছাড়ো’, ‘জনতার সংগ্রাম’ কিংবা ‘আমার অভিযোগ’-এর মতো রচনা নানাভাবে প্রেরণা যুগিয়েছে।

স্বাগত ভাষণে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন বহুমুখী মননের মানুষ। তার কবি ও গীতিকার সত্তা উৎসর্গিত হয়েছে জনমানুষের মুক্তির আবাহনে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেমন তার সাহসী সাহিত্যিক ভূমিকা ছিল তেমনি স্বল্পায়ু জীবনে তিনি মানুষের মানবিক অধিকারের পক্ষে সবসময় ছিলেন সোচ্চার। তার সম্পাদিত সাহিত্যপত্র ‘সমকাল’ বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে অসাধারণ উচ্চতর স্থান অধিকার করে আছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj