নাটোরে ঘরে মায়ের, পুকুরে শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

নাটোর প্রতিবেদক ও নলডাঙ্গা প্রতিনিধি : নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে মা শারমিন বেগম ও দুই বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার বাশিলা উত্তরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় শারমিনের মৃতদেহ এবং বাড়ির পাশের পুকুর থেকে শিশু আব্দুল্লার মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শারমিন বেগম ও আব্দুল্লা ওই এলাকার মাহামুদুল হাসান মুন্নার স্ত্রী ও সন্তান।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার বাশিলা উত্তরপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে একই উপজেলার হরিদাখলসি গ্রামের ওমর ফারুকের মেয়ে শারমিন বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাহামুদুল ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি এবং সেখানেই বসবাস করেন। মাঝে মাঝে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। এ সময় তার স্ত্রী ও সন্তান তার বাবা ও মাসহ পরিবারের অন্যদের সঙ্গেই থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে শারমিন বেগম তার শিশু সন্তান আব্দুল্লাকে নিয়ে তাদের শোয়ার ঘরে চলে যান। পরে সেহরির সময় পরিবারের লোকজন তাকে ডাকতে গেলে ঘরের ভেতর গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং শিশু আব্দুল্লার খোঁজ করেন। ভোর ৬টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে শিশু আব্দুল্লার মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে কেউ ঘরে ঢুকে পড়ে। এ সময় শারমিন বেগম তাদের দেখে ফেললে তারা শারমিনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা এবং পালিয়ে যাওয়ার সময় শিশু আব্দুল্লাকে পুকুরে ফেলে হত্যা করে। তবে ঘর থেকে কোনো কিছু খোয়া গেছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহত শারমিনের দেবর মুক্তা ও তার স্ত্রী তানিয়া বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহত শারমিনের বাবা ওমর ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার কথা শারমিনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে জানাননি। তিনি মেয়ের শ্বশুরবাড়ির প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত থাকতে পারে। তিনি তার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নলডাঙ্গা থানার ওসি শফিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শারমিনের দেবর মুক্তা ও তার স্ত্রী তানিয়া বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj