অস্ত্রের লাইসেন্স জালিয়াতি : ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : কর্তৃপক্ষের সই জাল করে ৩৮৯ জনকে ‘অস্ত্রের ভুয়া লাইসেন্স’ দেয়ার অভিযোগে রংপুর জেলা প্রশাসনের কম্পিউটার অপারেটর শামসুল ইসলামসহ ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে ওই ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় গতকাল বুধবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। কমিশনের অনুমোদিত অভিযোগপত্র শিগগিরই আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

জানা যায়, অবৈধভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার অভিযোগে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৮ মে একটি মামলা হয়। রংপুর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ওই মামলার তদন্তভার পড়ে দুদকের হাতে। কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান সম্প্রতি তদন্ত শেষে তার প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য দুদকে জমা দেন।

অনুমোদন পাওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বেআইনিভাবে ৩৮৯ জনকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বাইরে একজন ‘মাধ্যম হিসেবে’ কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে মোট ৩৯১ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাদের সবাইকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হচ্ছে।

দুদক সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শামসুল ইসলাম ২০১১-২০১৭ সালের ১৬ মে পর্যন্ত রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী ছিলেন। ওই সময়ে তিনি ডিসি অফিসের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স শাখার ভলিউম সংরক্ষণ, লাইসেন্স প্রত্যাশীদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরবার আবেদন গ্রহণ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনারের কাছে তা উপস্থাপন, পুলিশ প্রতিবেদন গ্রহণ এবং লাইসেন্স প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুমোদিত হলে ফরমে এবং ভলিউমের পাতায় প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর গ্রহণ করে লাইসেন্স দেয়া এবং নবায়ন করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ কাজে নিয়োজিত থেকে তিনি (শামসুল) অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হয়ে ২১টি ভলিউমের ৩৮৯টি লাইসেন্সের পুরাতন পাতা ছিঁড়ে এতে নতুন পাতা সংযোজন করে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সই জাল করে ৩৮৯ জন ব্যক্তির নামে জাল লাইসেন্স দেন।

দুদক জানায়, এসব কাজের মাধ্যমে ঘুষ হিসেবে তিনি (শামসুল) ২০ লাখ ১০০ টাকা অর্জন করে তার ব্যবহৃত আলমারিতে নগদ, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক এফডিআরের মাধ্যমে রেখেছেন। এ মামলার তদন্তের সময় ৩৫৭টি অবৈধ লাইসেন্স, ৩৫৪টি অস্ত্র ও ৪ হাজার ৩৮টি কার্তুজ উদ্ধার করে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। তবে শামসুল ইসলাম কাদেরকে জাল লাইসেন্স সরবরাহ করেছেন, এ মামলার অন্য আসামি কারা, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অবৈধভাবে লাইসেন্স নেয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। আসামিদের মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা আছেন। তাদের অনেকেই এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বড় বড় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj