বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা : সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এলেন কাদের

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাঁচব কী বাঁচব না সংশয় ছিল। সেই সন্ধিক্ষণে পরম করুণাময় আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় আমার প্রিয় নেত্রী এ রকম সংকটে, মা তার সন্তানের জন্য যা করেন, তিনি আমার জন্য তাই করেছেন। তার কাছে আমার ঋণের বোঝা আরো বেড়ে গেল। জীবনটা আসলেই স্রোতের প্রতিক‚লে চলার মতো। এই শিক্ষা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছি। মৃত্যু পথযাত্রী অবস্থায় শুধু শেখ হাসিনা নাম ধরে ডেকেছিলেন এবং সে সময় আমি তার ডাকেও সাড়া দিয়েছিলাম।

দীর্ঘ দুই মাস ১১ দিন পর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালের মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করে এসব কথা বলেন তিনি। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওবায়দুল কাদের বেরিয়ে এলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবং পরে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইন সম্পাদক ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, মির্জা আজম এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরম মমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি একজন মমতাময়ী মা। তিনি সত্যিই মাদার অব হিউম্যানিটি। আমার দলের সব নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা হাসপাতালে আমার ওই সময়ে ছুটে এসেছিলেন। ওই সময় আমার মধ্যে আমি ছিলাম না, আমি জানতাম না আমার কী হয়েছে। সারা দেশে মানুষ, দল ও দলের বাইরেও সবাই দোয়া করেছেন। পার্টি ও অন্য পার্টির সবার কাছে কৃতজ্ঞতা। প্রবাসে বাঙালিরা আমার শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, বারবার অবাক হয়েছি, এত ভালোবাসা পেয়ে। আল্লাহ সবার ভালোবাসা কবুল করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শক্তিশালী টিমওয়ার্ক করেছি। আমি অসুস্থ হয়ে দলের বাইরে থাকলেও আমার সহযোগীরা দলকে বিচ্ছিন্ন হতে দেননি। এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

কাদের বলেন, আমি আমার প্রাণপ্রিয় দেশবাসীর সামনে আবার আসতে পারব, যা ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু আমি আপনাদের কাছে ফিরে এসেছি। তিনি বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ ছাড়া বিএসএমএমইউর সব চিকিৎসক, বিশ্বখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেঠী ও মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মেডিকেল টিমের প্রতিটি সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদেরকে বহনকারী ফ্লাইট বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর বিজি ০৮৫ বিমানটি সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে অবতরণ করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ফ্লাইট থেকে হেঁটেই নামেন তিনি। তার সঙ্গে ফিরেছেন সহধর্মিণী ইসরাতুন্নেসা কাদের, এপিএস মহিদুল হক, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সুখেন চাকমা, ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার মনসুরুল আলমসহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj