ওসামা তাসীর : কোনোভাবেই ভ্যাট বাড়ানো যাবে না

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আগামী বাজেট থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনো নতুন এই আইন নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কম কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর বলেছেন, নতুন আইনে কোনোভাবেই ভ্যাটের হার বাড়ানো যাবে না। তিনস্তরের ভ্যাট বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ভাবনা সম্পর্কে গতকাল ভোরের কাগজকে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী বাজেটে তাদের কী ধরনের প্রস্তাব রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা রয়েছে। অথচ এই সময়ে মোট মূল্যস্ফীতি ২২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় করমুক্ত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দিয়েছি।

তিনি নিট সম্পদের মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত শূন্য সারচার্জ এবং ৫ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করেন। এর পাশাপাশি তিনি করজাল সম্প্রসারণ ও করপোরেট ডিভিডেন্ডের আয়ের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ করের পরিবর্তে ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন।

আগামী বাজেটে প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখা এবং বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকার ঊর্ধ্ব থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্যাকেজ ভ্যাট প্রদানের সীমা হিসেবে নির্ধারণের দাবি জানিয়ে ওসামা তাসীর বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ সাত শতাংশ করার সুপারিশ করেছি। করদাতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া দরকার। ভ্যাট হার একক অঙ্কে নিয়ে আসা দরকার। এখানে একটা বিষয় আছে, ইনপুটে যখন কোনো ইন্ডাস্ট্রির কাঁচামাল নিচ্ছি, তার ওপর ভ্যাট আরোপ হয়, আবার আউটপুটেও ভ্যাট ধরা হয়। এজন্য আমরা ভ্যাটের হার কমাতে বলেছি।

তিনি বলেন, ব্যবসা লাভজনক করতে বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার কোনোভাবেই দুই অঙ্কের ঘরে রাখা যাবে না। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমলেই তাদের পরিচালন ব্যয় কমে যাবে। ইচ্ছেকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প নিয়েও কথা বলেন ওসামা তাসীর। তিনি বলেন, এ খাতের শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, কমপ্লায়েন্স সম্পর্কিত ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক খাতের পণ্যের দাম কমে যাওয়া এবং পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ক্রেতাদের ক্রমাগত চাপের ফলে বৈশ্বিক বাজারে আমাদের তৈরি পোশাক খাতের বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া কমপ্লায়েন্সের মান নিশ্চিত করতে না পারায় গত চার বছরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কারখানা বন্ধ হয়েছে। এসব নানাবিধ সমস্যার মধ্যে পোশাকশিল্পকে এগিয়ে নিতে ৫ শতাংশ প্রণোদনা জরুরি।

অর্থমন্ত্রী এবং এনবিআরের চেয়ারম্যান বরাবর বলে আসছেন তারা একটি ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রস্তাব করবেন। অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার বলেছেন তিনি কোনোভাবেই কর বাড়াবেন না। তাদের এই বক্তব্যে আস্থা রাখতে চান ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj