নিম্নমানের পণ্য : সাত প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : নি¤œমানের পণ্য হিসেবে চিহ্নিত ৫২টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে সাতটির উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। এ ছাড়া ১৮টি পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিএসটিআইর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকায় ড্রিংকিং ওয়াটারের মধ্যে রয়েছে- আল সাফি ড্রিংকিং ওয়াটার, শাহারী এন্ড ব্রাদার্সের নারজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ন ডিউ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার এবং আর আর ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার রয়েছে। কেরানীগঞ্জে শান্তা ফুড প্রডাক্টসের টেস্টি, তানি ও তাসকিয়া এবং কামরাঙ্গীরচরের জাহাঙ্গীর ফুড প্রডাক্টসের প্রিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডারেরও লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুরের বনলতা সুইটস এন্ড বেকারির বনলতা ব্র্যান্ডের ঘির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

লাইসেন্স স্থগিত হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- সরিষার তেলে সিটি অয়েল মিল-গাজীপুর (তীর), গ্রিন ব্লিসিং ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (জিবি), শবনম ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (পুষ্টি), বাংলাদেশ এডিবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (রূপচাঁদা); সুপেয় পানির মধ্যে আররা ফুড এন্ড বেভারেজ (আররা), ডানকান প্রডাক্ট (ডানকান), দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার (দিঘী); প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের প্রাণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই; হলুদের গুঁড়ার মধ্যে ড্যানিশ, প্রাণ ও ফ্রেশ। কারী পাউডারের মধ্যে প্রাণ ও ড্যানিশ; আয়োডিনযুক্ত লবণের মধ্যে এসিআই ও মোল্লা সল্ট; ধনিয়া গুঁড়ার মধ্যে এসিআই পিওর, নুডলসের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ডেইরির ডুডলস এবং চিপসের মধ্যে কাশেম ফুডের সান ব্র্যান্ড রয়েছে।

মানোন্নয়ন করে আবার লাইসেন্স গ্রহণের আগে এসব পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এমনকি খুচরা বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি এর সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক প্রচার বন্ধ করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিএসটিআইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোজা শুরুর আগে বাজারে গোপন অভিযান চালিয়ে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব পণ্যের মধ্যে ৫২টি পণ্য নি¤œমানের হিসেবে চিহ্নিত হয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায়। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানিগুলোকে এ নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছিল। বিএসটিআইর সার্টিফিকেশন মার্কস বিভাগের উপপরিচালক রিয়াজুল হক জানান, নোটিসের উত্তর দেয়ার সময় শেষ হওয়ার পরও উত্তর না আসায় ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এর আগে ৫২টি পণ্যে ভেজাল থাকায় বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। আদালতের আদেশের পর গতকাল বুধবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় ৫২টি পণ্যের তালিকা দিয়ে এক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পরিবেশনকারী, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতা এবং গ্রাহকদের তালিকাভুক্ত পণ্যগুলো উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, পরিবহন, সরবরাহ, ক্রয় ও বিক্রয় এবং ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হলো। একই সঙ্গে সব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের উৎপাদিত পণ্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে বাজার থেকে প্রত্যাহার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্যেই বিএসটিআই সাত কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করল।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj