হত্যাকাণ্ডের লাইভ স্ট্রিমিং : প্রশ্নবিদ্ধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে পৈশাচিক হামলার ঘটনা সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে ঘাতক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। নিজের হেলমেটের সঙ্গে ফিট করা ক্যামেরায় ধারণকৃত ওই ভয়াবহ দৃশ্যাবলি মুহূর্তে সরাসরি ছড়িয়ে যায় গুগল, ফেসবুক, টুইটার, রেড্ডিট, ইউটিউব ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে। টানা ১৭ মিনিট সময় ধরে চলা এ দৃশ্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন বিশে^র কোটি কোটি লোক। অনেকেই সেটি শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন অন্যদের কাছে। বিশে^র বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ নিয়ে রিপোর্ট শুরু করেন ইউজাররা। তখন টনক নড়ে এসব নেটওয়ার্কের কর্তৃপক্ষের। দ্রুত সাইট থেকে ওই সব ভিডিও ফুটেজ নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালান তারা। কিন্তু এতেও খুব একটা লাভ হয়নি। কারণ ইতোমধ্যেই সেটির আরো বহু কপি ছড়িয়ে যায় বিশ^জুড়ে। আরো কোটি কোটি লোক প্রত্যক্ষ করেন ওই ভয়াবহ ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের পরিচালকদের দায়িত্ব পালনে এ জাতীয় ব্যর্থতা নিয়ে ইতোমধ্যেই যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা।

হামলার ঘটনার পর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তারা হামলাকারীর ফেসবুক এবং ইনস্ট্রাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। কিন্তু বিশে^র বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনো ওই ভয়ঙ্কর ঘটনার ভিডিও ক্লিপ শেয়ার হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ যদিও বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন সবার প্রতি যাতে তারা ওই ক্লিপ কারো কাছে যেন শেয়ার না করে। এদিকে প্রশ্ন উঠেছে নিউজিল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও দক্ষতা নিয়েও। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে এইট চ্যানেল নামে একটি চরমডানপন্থি মেসেজ বোর্ডে একটি উসকানিমূলক পোস্ট দেয়া হয় যাতে হামলাকারী ব্রেন্টনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের লিংকও দেয়া হয়। ওই লিংকে ৭৩ পৃষ্ঠার একটি মুসলিমবিদ্বেষী ইশতেহার প্রকাশের পাশাপাশি এও বলা হয় যে, শিগগিরই একটি লাইভ স্ট্রিমিং করতে যাচ্ছে সে। মসজিদে গুলিবর্ষণ শুরু করার অব্যবহিত আগেও সে দর্শকদের উদ্দেশে আহ্বান জানায় পিউডাইপাইয়ের নামে চালু একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইভ করার জন্য। এরপর গোটা হামলাটি ইউটিউব, টুইটার এবং ফেসবুকে লাইভস্ট্রিমিং করা হয়। ভয়ঙ্কর ওই ভিডিও দেখার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা রিপোর্ট করতে শুরু করলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত এর কপি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু তার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একটি ভেরিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিওটি প্রচার হতে দেখা যায়, প্রায় ফলোয়ারই রয়েছে প্রায় সাত লাখ।

এ বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলা শুরু হওয়ার পরপরই নিউজিল্যান্ড পুলিশ আমাদের ঘটনাটি অবহিত করে। তখন আমরা দ্রুতগতিতে সন্দেভাজন হামলাকারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করি ও ভিডিওটি সরিয়ে ফেলি। হামলাকারীকে সমর্থন দেয়া পোস্টগুলোও দ্রুত নামিয়ে ফেলি আমরা। আরেকটি শীর্ষ নেটওয়ার্ক টুইটারও অনুরূপ ‘সহমর্মিতা’ জানিয়ে বলে, আপত্তিকর ভিডিও নামিয়ে ফেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

ভয়াবহ এ ঘটনার পর প্রভাবশালী এসব সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের দায়িত্ববোধ সম্পর্কেও নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে সব মহলে। বিগত সময়ে অনুরূপ হামলার ঘটনায় প্রায় একই রকম উদাসীনতাই দেখা গেছে এসব নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর রিচার্ড স্পেন্সর নামে এক উগ্র জাতীয়তাবাদী মার্কিন নাগরিকের অ্যাকাউন্ট বাতিল করার পর আবারো তা ফিরিয়ে দেয়া হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিলে গিয়ে ওই স্পেন্সরের অ্যাকাউন্ট অকার্যকর করে ফেসবুক। চলতি মাসেও ইউটিউবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, ন্যাশনাল অ্যাকশন নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি নব্য-নাজি গ্রুপের অপতৎপরতার ভিডিও কার্যকরভাবে অপসারণে ব্যর্থতার জন্য।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj