ভোরের কাগজকে ঢাবি ভিসি : ভোটের পর আবার কিসের দাবি?

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

ঝর্ণা মনি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, সেই বন্ধ ঘরের অর্গল খুলে আজ আলো এসেছে। এই আলো আর কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না। ডাকসু নির্বাচনের পথ আর কেউ বন্ধ করতে পারবে না। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়েই ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতিবার ভোরের কাগজকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সদ্যসমাপ্ত ডাকসু নির্বাচন, ছাত্র রাজনীতির বাইরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন থেকে ভিপি নির্বাচিত হওয়া, মৈত্রী হল এবং রোকেয়া হলের ঘটনা, পুনর্নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ঢাবির আবাসন সংকট নিয়ে ভোরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

দুয়েকটি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ ঘটলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে। তাদের গণতান্ত্রিক বোধ, মূল্যবোধ দেখে আমি বেশি বিস্মিত হয়েছি। আনন্দিত হয়েছি। তাদের এই মূল্যবোধ আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। সামনের দিনগুলোতেও এই গণতান্ত্রিক আচরণ, রীতিনীতিকে বেগবান করে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করব।

ছাত্র রাজনীতির বাইরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন থেকে ভিপি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই ভোট দিয়েছে। এখানে সবাই আমার ছাত্র। আমার কাছে সবাই সমান। সবাই সন্তানতুল্য।

পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য প্যানেলগুলোর ধর্মঘটে কর্তৃপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটের পর আবার কিসের দাবি? বিশ্ববিদ্যালয় স্থিতিশীল, সুশৃঙ্খল আছে। ভালো একটি একাডেমিক পরিবেশ বিরাজ করছে। এখানে কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয় তা সহ্য করবে না। কেউ অপরাধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুনর্নির্বাচনে বাধা কোথায় জানতে চাইলে ভিসি বলেন, ডাকসু নির্বাচন সফল হয়েছে। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ৪শ’ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রম-সময় ও মেধাকে অসম্মান জানাতে পারি না। এতদিন পর এত বড় আয়োজনে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকাই স্বাভাবিক। আর এই ত্রুটি উদঘাটন ও তার সুরাহায় তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটির সবাই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে।

নির্বাচনের শুরুতেই বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সিলমারা ব্যালট ভর্তি বাক্স উদ্ধারের ঘটনা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে আপনি বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মৈত্রী হলের ঘটনা আমি শোনার সঙ্গে সঙ্গে শক্ত অবস্থান নিয়েছি। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে প্রভোস্ট ড. শবনম জাহানকে সরিয়ে দিয়েছি। যেন ভোট বিঘ্নিত না হয় সে জন্য নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দিয়েছি। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছি। তিনি বলেন, রোকেয়া হলের ঘটনা জানার পরপরই প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) এবং প্রক্টরিয়াল টিম সেখানে ছুটে যান এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে আবার ভোট শুরু হয়।

তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী ডাকসুর নির্বাচিতদের অভিষেক আয়োজনের কাজ চলছে। হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের নেতাদের অভিষেক অনুষ্ঠান হয়।

ঢাবির তীব্র আবাসন সংকট সমাধানের কৌশল সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাতারাতি এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে ধারাবাহিকভাবে সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj