রাষ্ট্রায়ত্ত ২২টি পাটকলের উৎপাদিত পণ্য অবিক্রীত

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল : রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২২টি পাটকলের উৎপাদিত পণ্য অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। গত ও চলতি অর্থবছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়েছে অধিকাংশ সরকারি পাটকল। আটকে পড়া এসব পণ্যের ৯০ ভাগেরও বেশি আফ্রিকার দেশ সুদানে রপ্তানি করার কথা ছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি, আমদানিকারক দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বিজিএমসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ নাসিম ভোরের কাগজকে বলেন, পুরো আফ্রিকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। যে পণ্যগুলো আটকে গেছে সেগুলো মূলত সুদানে রপ্তানির জন্য উৎপাদন করা হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আমরা ইতোমধ্যে সিরিয়ায় ২৫ হাজার বেইল বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। আরো ১৫ হাজার বেইল বিক্রির অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঘানায় মার্কেট খোলার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সুদানেও একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বাজার ফিরিয়ে আনতে সব রকম চেষ্টা করছে। আশা করছি, আগামী ৬ মাসের মধ্যে বিজিএমসি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। সেই সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক জটিলতাও কেটে যাবে।

জানা যায়, সারা দেশে ১৮২টি পাট ক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে পাট ক্রয় করে বিজেএমসি। পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজেএমসি প্রধানত হেসিয়ান কাপড়, ব্যাগ, বস্তার কাপড়, বস্তা, সুতা, জিও-জুট, কম্বল, মোটা কাপড়, সিবিসি প্রস্তুত করে থাকে। চলতি অর্থবছরে স্থানীয় বাজারে ২২ হাজার ৩০০ টন ও আন্তর্জাতিক বাজারে ৮৭ হাজার টন পাটপণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। অথচ স্থানীয় রাজারে ৭ হাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারে মাত্র ১০ হাজার টন বিক্রি করা হয়েছে। অন্য পণ্যগুলো বিক্রি করতে পারেনি বিজেএমসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশে^র ৯০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের উৎপাদিত পাটপণ্য রপ্তানি করে বিজেএমসি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় সুদানে। সেন্ট্রাল আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশেও বাংলাদেশের পাটের বাজার আছে। এ ছাড়া সিরিয়া, ইরান, ইরাক, প্রতিবেশী দেশ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের চাহিদা অনেক। এসব দেশে বিজেএমসি প্রতিষ্ঠার আগ থেকেই পণ্য রপ্তানি করে আসছে সরকার। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন নিষেজ্ঞাধা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এলসির মাধ্যমে এসব দেশে লেনদেন করছে না। এ কারণে বিজেএমসির উৎপাদিত পণ্যগুলোও রপ্তানি করা যাচ্ছে না।

বিজিএমসি সূত্র বলছে, প্রচুর অবিক্রীত পণ্য নিয়ে তারা কিছুটা চিন্তিত। কিছু পণ্য মাত্র একক দেশে রপ্তানি করা হয়। সুদান সরকার নিজেই এ দেশের পাটপণ্য ক্রয় করে। কিন্তু দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সংস্থাটির উৎপাদন বন্ধ নেই। এ কারণে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার পণ্য অবিক্রীত রয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, এসব পণ্য রপ্তানির জন্য বিকল্প বাজার খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু বিকল্প বাজার পাওয়া সহজ নয়।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj