চেম্বারে রোগীদের ভিড় : কক্সবাজারে গোপন রোহিঙ্গা চিকিৎসা সিন্ডিকেট

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

সৈয়দুল কাদের, কক্সবাজার থেকে : কক্সবাজারে বিভিন্ন চিকিৎসকের চেম্বারে রোহিঙ্গা রোগীর ভিড় ক্রমশ বেড়েই চলেছে। একটি সিন্ডিকেট চুক্তি ভিত্তিতে কক্সবাজারে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবায় প্রাধান্য পাচ্ছেন রোহিঙ্গা রোগীরা। একইভাবে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন সরকারি হাসপাতালে।

রোহিঙ্গা রোগীদের নিয়ে ব্যবসায় মেতে উঠেছে একটি চক্র। এতে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসকের চেম্বারের সহকারীও জড়িত। ফলে কক্সবাজারে স্থানীয় চিকিৎসাসেবা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গারাই পাচ্ছেন চিকিৎসা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রাধান্য। কক্সবাজারের কয়েকটি ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসকদের চেম্বারের বাইরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। তবে এটি চিকিৎসকের অগোচরেই হচ্ছে বলে জানান কয়েকজন রোগী। শহরের পান বাজার সড়কে একটি বেসরকারি প্যাথলজি সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় রাত ১২টা পর্যন্ত রোগীর দীর্ঘ লাইন। ঢাকা থেকে আসা একজন লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছেন সবাই। লাইনে দাড়ানো রামুর গর্জনিয়া থেকে আসা আবু নাছের জানান, একদিন আগে নাম লিপিবদ্ধ করার পরও তিনি ডাক্তার দেখাতে পারেননি। যারা ডাক্তার দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন এদের প্রায় সবাই রোহিঙ্গা। ডাক্তারের চেম্বার সহকারী কৌশলে তাদের আগে ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। একসঙ্গে ৭/৮ জন রোহিঙ্গা চেম্বারে প্রবেশ করার পর আরেক দলকে ডেকে আনা হয়। এতে স্থানীয়রা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকেই ধৈর্যচ্যুত হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

পার্শ্ববর্তী অপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ডাক্তারের চেম্বারের সামনে রোগীর দীর্ঘ লাইন। তিনিও ঢাকা থেকে এসেছেন। তিনি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। ওখানেও একই অবস্থা। চিকিৎসা নিতে যাওয়া শহরের গাড়ির মাঠের আবুল হোসেন জানিয়েছেন, এখানে বলার কিছু নাই। এখানে সিন্ডিকেট করে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে সিন্ডিকেট সদস্যরা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তা ডাক্তারের চেম্বার সহকারী ও সিন্ডিকেট সদস্যরা ভাগ করে নেন। যার ফলে স্থানীয়রা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা য়ায়, নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। সেখানেও ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চিকিৎসা নেয় রোহিঙ্গারা। জরুরি বিভাগে একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছু বললে আমাদের সমস্যা আছে তাই বলি না। জরুরি বিভাগে প্রতিদিন অন্তত ৫০/৬০ জন রোহিঙ্গা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আবদুল মতিন জানিয়েছেন, এমন কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগও করেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে দ্রুত খোঁজ-খবর নেয়া হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj