আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বক্তারা : দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের প্রভাব কাটিয়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান সুদৃঢ় করেছে ভারতীয় উপমহাদেশ। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভারতসহ অন্যান্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। দেশটির সর্বত্র লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। ক্ষমতায়নসহ চ্যালেঞ্জিং কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণে দক্ষিণ এশিয়ায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় রাষ্ট্র এবং সমাজ : ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। উদ্বোধনী পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ ও ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের (নতুন দিল্লি) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মুচকুন্দ দুবে। স্বাগত বক্তব্য দেন কনফারেন্সের সমন্বয়কারী ও জবির ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম। ধন্যবাদ জানান ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, একাত্তরের ধ্বংসস্তূপ থেকে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ ছিল। তবে বঙ্গবন্ধু নিজস্ব জনশক্তি নিয়ে আত্মবিশ^াসী ছিলেন যে, দেশ একদিন এগিয়ে যাবেই। আর আজ বাংলাদেশকে পেছনে তাকাতে হয় না।

প্রথম দিনের উন্মুক্ত পর্বে বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নয়া দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ^বিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হিস্টোরিকাল স্টাডিজের অধ্যাপক ড. সুচিত্রা মহাজন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আফসান চৌধুরী এবং জওহরলাল নেহেরু বিশ^বিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কে ভারদোয়াজ।

কনফারেন্সের দ্বিতীয় পর্বে জবির কম্পিউটার বিভাগের সেমিনার হলে ঢাবির ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ আব্দুল্লাহ জামালের সভাপতিত্বে ‘উপনিবেশিক দক্ষিণ এশিয়া : জাতীয়তাবাদের উত্থান, উপনিবেশবাদবিরোধী আন্দোলন ও স্বাধীনতা’ শিরোনামের কৌশলপর্বে ৯টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ‘উত্তর-উপনিবেশিক দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্র ও সমাজ : সমস্যা ও উন্নয়ন’ শিরোনামে ৮টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। এ ছাড়া ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কে এম মহসিনের সভাপতিত্বে জবির অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সেমিনার কক্ষে ‘আধুনিক দক্ষিণ এশিয়া : স্বাস্থ্য ও শিক্ষা’ শিরোনামের অধিবেশনে ৭টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়।

দুদিনব্যাপী এই কনফারেন্সে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক ও শিক্ষকের প্রায় ৬৪টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে উদ্বোধনী দিনে উপস্থাপিত হয়েছে ২৬টি প্রবন্ধ। জবির ইতিহাস বিভাগ ও ভারতের কলকাতার ‘মওলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজ’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কনফারেন্সটির মিডিয়া পার্টনার দৈনিক ভোরের কাগজ। স্পন্সর হিসেবে ইউজিসি ও বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন এবং কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক। এ ছাড়া নজেল পার্টনার ভারতের কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল কালচার স্টাডিজ।

আজ শনিবার দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টায় কনফারেন্সের কার্যক্রম শুরু হবে। উন্মুক্ত পর্ব ও কৌশল পর্ব শেষে সমাপনীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে জবির সঙ্গীত ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj