বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : লেখকদের যে অধিকার, লেখকদের যে স্বাধীনতা, মত প্রকাশের ভাবনাগুলো, সেগুলো সংঘবদ্ধ না হলে অর্জন করা এবং রক্ষা করা সম্ভব নয়। আরেকটা দিক হচ্ছে আমরা পরস্পরে সংঘবদ্ধ হয়ে যাব, সম্মিলিত হয়ে যাব, তবেই আমরা নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারব, লেখকদের সমৃদ্ধ করতে পারব। কথাগুলো বলছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উচ্চতর মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র মিলনায়তনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত চত্বরে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কবি মোহাম্মদ রফিক। উদ্বোধনের পর একটি র‌্যালি চারুকলা প্রাঙ্গণ থেকে ঘুরে গবেষণা কেন্দ্র মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি ও কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ভারতীয় লেখক ও কবি সঙ্গিতা দেওয়ানজি দাস এবং নাথামাস শর্মা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত টিপু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অভিনু কিবরিয়া ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তৃতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান হীরা।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরো বলেন, আমরা যখন লেখকদের সংঘ করি, তখন এই প্রশ্নটা আমাদের মনের মধ্যে থাকে যে, লেখা কী সংঘবদ্ধভাবে সৃষ্টি করা যায়? প্রত্যেকটি লেখক তো একজন মানুষ, বিশিষ্ট মানুষ এবং তিনিই লেখেন। কিন্তু সংঘ ছাড়া, সম্মিলিত হওয়া ছাড়া লেখা সম্ভব নয়, এটাও সত্য।

লেখা ও লেখক এক জিনিস নয়। অনেক সময় লেখা লেখককে অতিক্রম করে যায় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কেননা লেখক মেনে নেন, কিন্তু লেখা মেনে নেয় না। বিভিন্ন লেখার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আমাদের জীবনে সংবেদনশীলতাকে নিয়ে আসে, মানুষের মধ্যকার বিচ্ছিন্নভাব দূর করে। আর এটি নাটক, কবিতা, গল্প, উপন্যাস সবটিতেই পাওয়া যায়। সাহিত্যে চিরকালের লড়াই হচ্ছে মানুষকে সংঘবদ্ধ করা। অন্যদিকে বর্তমান সময়ে পুঁজিবাদ আমাদের একে অন্যের থেকে আলাদা করে দিচ্ছে, কেননা তা বাস্তবতা। সাহিত্যের কাজ বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া। আর বাস্তবতা কেবল দৃশ্যমান নয়, মানুষের স্বপ্ন আর আকাক্সক্ষাও। সেগুলোও দৃশ্যমান বাস্তবতার থেকে কম বাস্তবতা নয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের উদ্বোধক কবি মোহাম্মদ রফিক বলেন, লেখক তার নিজের লেখা লেখে। এখানে আমি অন্য লেখকদের কথা বলব না, আমার নিজের কথা বলি। গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন, শোন, জীবন দুঃখময়। তোমাকে নির্বাণ পেতে হবে। আমি এক পথ অনুসরণ করে নির্বাণ পেয়েছি। কিন্তু আমি তো তোমাকে বলতে পারব না যে, আমার পথ অনুসরণ করে তুমি নির্বাণ পাবে। তোমাকে তোমার পথ অনুসরণ করতে হবে। সুতরাং প্রত্যেক লেখকের পথ তার পথ। তাকে তার লেখার ভেতর দিয়ে নির্বাণ পেতে হবে। তাকে তার জীবন, তার পরিবেশ, তার মানুষ, তার প্রকৃতি, তার প্রাণী, সবকিছু নিয়ে তার লেখা প্রতিফলিত হতে হবে। তার লেখা প্রকাশিত হতে হবে।

বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন : শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বছরব্যাপী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, নৃত্য, সেতার, সরোদ, বাঁশিবাদন এবং ছয় মাসব্যাপী স্টাফ নোটেশন কোর্সসহ বেশ কিছু প্রশিক্ষণ কোর্স সফলতার সঙ্গে আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে ইতোমধ্যে সম্পন্ন বছরব্যাপী কোর্সগুলোর সনদপত্র বিতরণ এবং নতুন কোর্সগুলোর উদ্বোধন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়েছে। এর উদ্বোধন করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। তিনি জানান, এ বছর বড় পরিসরে দশটি বিষয়ে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হবে। প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো হলো- শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, শাস্ত্রীয় নৃত্য, সাধারণ সঙ্গীত (শিশু), লোকসঙ্গীত, বাঁশি, সেতার, সরোদ, দোতরা, বেহালা, স্টাফ নোটেশন ও পিয়ানো বাদন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj