ইসলামপন্থি জঙ্গি ও অভিবাসীদের ওপর ক্ষোভ থেকে হামলা

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : ইসলামপন্থি জঙ্গি এবং অভিবাসীদের ওপর ক্ষোভ থেকেই নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা চালানো হয়েছে। নিজেকে ব্রেনটন ট্যারেন্ট বলে পরিচয় দেয়া এক হামলাকারী নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়ে একটি মেনিফেস্টোতে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি ওই হামলা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। কোথাও কোথাও বলা হয়েছে ৩৭ পাতার মেনিফেস্টো আবার কোথাও বলা হয়েছে ৭৩ পাতার। নিজেই ওই মেনিফেস্টো অনলাইনে প্রকাশ করেছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট। এর পুরোটাতেই ইসলামপন্থি জঙ্গি এবং অভিবাসীদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি। অপরদিকে শ্বেতাঙ্গদের প্রশংসা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজে অংশ নেয়া মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়। মুসজিদে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। হামলা চালানোর সময় সামাজিক মাধ্যমে লাইভে ছিলেন ওই হামলাকারী। ১৭ মিনিট ধরে ওই হামলার লাইভ ভিডিও প্রচারিত হয়। ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান-বংশোদ্ভূত ওই হামলাকারী নিজেকে সাধারণ শ্বেতাঙ্গ নাগরিক বলে উল্লেখ করেছেন। নিজের লেখা ওই মেনিফেস্টোতে ব্রেনটন জানিয়েছেন, তিনি একটি নি¤œবিত্ত শ্রমজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিজের পরিবারের লোকজনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপের মাটিতে সরাসরি অভিবাসীদের সংখ্যা কমাতেই তিনি এই হামলা চালিয়েছেন। এই ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়ে তিনি অভিবাসী ও ইসলামপন্থি জঙ্গিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, এই হামলা চালানো হয়েছে তাদের এটা দেখানোর জন্য যে, আমাদের দেশ কখনোই তাদের হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন শ্বেতাঙ্গও বেঁচে আছেন ততক্ষণ আমাদের দেশ আমাদেরই। তারা কখনোই আমাদের ভূমি দখল করতে পারবে না। তারা কখনোই আমাদের লোকজনের জায়গা দখল করতে পারবে না।

দুই বছর ধরেই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন ব্রেনটন। তিন মাস আগেই ক্রাইস্টচার্চে হামলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে নিউজিল্যান্ডই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ওই বক্তব্যে তিনি ইসলামপন্থি জঙ্গি ও অভিবাসীদের ‘হামলাকারী’ উল্লেখ বলেন, নিউজিল্যান্ডে হামলার মাধ্যমে তিনি সবার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই ‘হামলাকারী’রা আমাদের দেশে থাকবে পৃথিবীর কোথাও আমাদের জন্য নিরাপদ হবে না। এমনকি বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলও না। শ্বেতাঙ্গদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্বেতাঙ্গ শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিদেশি ‘হামলাকারী’দের হাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন ব্রেনটন। ২০১৭ সালের সুইডেনের স্টকহোমে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ১১ বছর বয়সী শিশু এব্বা একেরলান্ডের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেও এ হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উজবেকিস্তানের এক অভিবাসী ওই হামলা চালিয়েছিল।

ট্যারেন্টের রাইফেলে লেখা- ‘এবা হত্যার প্রতিশোধ নিতে’ : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে হামলা চালানোর আগে হামলাকারীর ব্রেনটন ট্যারেন্ট ৭৩ পৃষ্ঠার একটি ঘোষণাপত্র দেয়। এতে সে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা করেছে। সেখানে সে তুলে ধরেছে, ২০১৭ সালে স্টকহোমে ট্রাক হামলায় নিহত ১২ বছরের শিশু এবা আকারলাউন্ডের মৃত্যুর ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ার কিছু গণমাধ্যম ধারণা করছে, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই ট্যারেন্ট এই হামলা চালিয়েছে। এই ধারণার পেছনে হামলাকারীর রাইফেল লেখা কিছু শব্দ যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে নিউজ ডটকম এইউ, টাইমস নাও এর মতো মিডিয়াগুলো। ২০১৭ সালে স্কুল থেকে ফেরার পথেস্টকহোমের রাস্তায় ট্রাক হামলায় মারা যায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবা। শুক্রবারের হামলায় ব্রেনটনের ব্যবহৃত রাইফেলের গায়ে কিছু শব্দ লেখা ছিল। হামলার ভিডিওতে যে শব্দগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সেগুলো হলো, ‘ঞড় ঃধশব ৎবাবহমব ভড়ৎ ঊননধ অশবৎষঁহফ’ (এবা আকারলাউন্ডের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে)। হামলাকারী ট্যারেন্ট তার ম্যানিফেস্টোতেও এমন ইঙ্গিত আছে, দুই বছর আগে এবার মৃত্যু তাকে এমন নৃশংস হামলার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে।

উল্লেখ্য, ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে নিহত ৪৯ জনের মধ্যেও অন্তত দুই জন শিশু বলে জানা গেছে।

১৭ মিনিট ধরে হামলার দৃশ্য সরাসরি স¤প্রচার করে বন্দুকধারী : হামলার সেই ভয়াবহ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ মিনিট ধরে লাইভ স্ট্রিম (সরাসরি স¤প্রচার) করেছে বন্দুকধারী। সেখানে নিজের পরিচয়ও দিয়েছে সে। জানিয়েছে, তার নাম ব্রেনটন টারান্ট। বয়স ২৮ বছর। অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ সে। এরইমধ্যে ব্রেনটন ট্যারান্ট নামে একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, ভয়াবহ হামলার সে দৃশ্য লাইভ স্ট্রিম করে বন্দুকধারী। পরে তা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দুকধারী বড় একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাস্তায় হাঁটছে, এরপর সে ভবনে প্রবেশ করে এবং গুলি ছুড়তে থাকে। ভয়াবহ ওই ভিডিওটি না ছড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj