শেষ কবে দেখেছি?

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

রুপালি পর্দায় নায়িকাদের দেখা নেই। কারো অনুপস্থিতি এক বছরের। কেউ বিরতি কাটাচ্ছেন ছয় বছর। অথচ তারকাশূন্য সিনেমা হল। প্রিয় মুখের জন্য দর্শকদের অপেক্ষা আছে। আছে নায়িকা সংকটও। তারপরও জনপ্রিয় নায়িকারা সিনেমা হল থেকে দূরে। দর্শকরা তাদের শেষ কবে দেখেছেন? উত্তর জানাচ্ছেন এম রহমান

শাবনূর

দর্শকদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় ব্যবধান রচনা করেছেন নব্বই দশকের শীর্ষ নায়িকা শাবনূর। ২০১৩ সালে তার অভিনীত কোনো ছবি শেষবারের মতো মুক্তি পায়। ছবির নাম ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক এটি পরিচালনা করেন। সংসারে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় এবং কিছুদিন প্রবাসী হওয়ায় দর্শকরা তাকে কয়েক বছর পর্দায় পাননি। তারপর দেশে ফিরে এলেও শাবনূর আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি।

পূর্ণিমা

২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’ পূর্ণিমা অভিনীত শেষ ছবি। এই ছবিটিও অনেক আগে শুটিং করা। তিনিও সংসারধর্মে মনোনিবেশ করতে গিয়েই দর্শকদের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। গত বছর তিনি একটি ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত অটল থাকতে পারেননি পূর্ণিমা। কবে বিরতি ভেঙে তিনি দর্শকদের দেখা দেবেন তা সময়ই জানে!

সাহারা

২০১৪ সালে রাজু চৌধুরী পরিচালিত ‘তোকে ভালোবাসতেই হবে’ ছবিতে দর্শকরা সাহারাকে শেষবারের মতো দেখেছেন। ওই ছবির পর নতুন করে আর কোনো ছবি হাতে নেননি তিনি। তার শেষের দিকের একটি ছবি ‘ঢাকা টু বোম্বে’র প্রযোজককে বিয়ে করে পুরোপুরি সংসারী হয়ে যান সাহারা। নিজের নামে ফ্যাশন হাউসও দিয়েছেন। অভিনয়ে ফেরার কথা আর ভাবেননি তিনি।

রতœা

রতœা অভিনীত শেষ ছবি শাহিন সুমন পরিচালিত ‘সে দিন বৃষ্টি ছিল’। ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভৌতিক এ ছবিতে অভিনয়ের পর অনেকটা অন্তর্ধানে চলে যান তিনি। তারপর তাকে আর ক্যামেরার সামনে পাওয়া যায়নি। লম্বা সময় পেরিয়ে গেলেও তার অবসর যেন আর ফুরোচ্ছে না। সিনেমার অনুষ্ঠানেও তাকে এখন দেখা যায় না। নিজেকে একদম গুটিয়ে নিয়েছেন রতœা।

বর্ষা

স্বামী নায়ক-প্রযোজক অনন্ত জলিল নেই সিনেমায়, তাকে অনুসরণ করে নেই বর্ষাও। ২০১৪ সালের ঈদে অনন্ত-বর্ষা অভিনীত ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ মুক্তি পায়। বহুদিন পার হয়ে গেছে। একবারের জন্যও বর্ষার দেখা মেলেনি সিনেমা হলের পর্দায়। অনন্তর নির্মাণাধীণ ‘দিন দ্য ডে’ ছবিতে বর্ষা অভিনয় না করলে দর্শকদের সঙ্গে তার দূরত্ব আরো কিছুদিনের জন্য বেড়ে যাবে।

সিমলা

সম্প্রতি সিমলা আলোচিত হয়েছেন তার সাবেক স্বামী মাহি বি জাহান বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিহত হওয়ার পর। দেশবাসী ছিনতাইয়ের পরই জানতে পারেন সিমলা বিয়ে করেছিলেন, তালাকও নিয়েছিলেন। কয়েক বছর ধরে মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন সিমলা। দেশে দুয়েকটি ছবি করলেও সেগুলোর শুটিং আটকে দিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে মাসুদ পথিক পরিচালিত ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণে’ শেষ তাকে দেখা গিয়েছিল। কবে আবার দেখা যাবে, তার কোনো ইঙ্গিত নেই।

নিপুণ

২০১৬ সালের আগস্ট মাসে শেষবারের মতো নিপুণের কোনো ছবি প্রেক্ষাগৃহে এসেছিল। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিটিতে নিপুণকে একটি চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। তারপর তিনি একাধিক ছবিতে অভিনয় করলেও তার কোনোটিই পর্দায় দেখার সুযোগ পাননি তার ভক্তরা। সেসব ছবি হয় টিভিতে প্রিমিয়ার হয়েছে, নয়তো একটি দুটি সিনেমা হলে নামেমাত্র মুক্তি পেয়েছে।

রেসি

বিয়ের পরে লম্বা ছুটিতে চলে গিয়েছিলেন রেসি। ২০১৬ সালের আগস্টে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নিয়তি’ ছবিটি দিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন রেসি। কিন্তু ছবিটিতে তার ভূমিকা ছিল অতিথি শিল্পীর। পূর্ণাঙ্গ কোনো চরিত্রে তার ফেরা বন্ধন বিশ^াস পরিচালিত ‘শূন্য’ ছবিতে। এই ছবিতে তাকে শেষবারের মতো দেখেন দর্শকরা। ২০১৭ সালের মার্চে মুক্তি পাওয়া ‘শূন্যে’র পর বলতে গেলে শূন্যেই মিলিয়ে গেছেন রেসি!

কেয়া

প্রায় চার বছরের বিরতি হয়ে গেছে কেয়ারও। সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘ব্লু্যাকমানি’ ছবিতে তাকে দেখা গিয়েছিল দুই নায়িকার একজন হিসেবে। ২০১৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি। তারপর সময় গড়িয়ে গেলেও কেয়া ক্যামেরার সামনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। দর্শকদের সঙ্গেও তার ব্যবধান ঘোচেনি।

আইরিন

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তি পেয়েছিল ‘মায়াবিনী’। ভৌতিক এই ছবির সুবাদেই সিনেমা হলে শেষ তাকে দেখেছেন দর্শকরা। তারপর আইরিনের দুটি সিনেমা মুক্তির কথা শোনা গেলেও তার কোনোটিই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার সুযোগ পাননি দর্শকরা। ফলে এই প্রজন্মের নায়িকা হয়েও দর্শকদের সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

তমা

তমা মির্জাকে দর্শকরা শেষবার দেখেছেন ২০১৭ সালে। ওই বছরের ডিসেম্বরে তার অভিনীত দেবাশীষ বিশ^াস পরিচালিত ‘চল পালাই’ মুক্তি পায়। গত সপ্তাহে তমার বাগদান হয়েছে। এ বছরই বিয়ের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বিয়ের পর তমা অন্য নায়িকাদের মতো সংসারে সময় দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলবেন নাকি ফিরে আসবেন এফডিসিতে, তা এখনই জানা যাচ্ছে না।

ফারিয়া

যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করে আলোচিত নুসরাত ফারিয়াকে দর্শকরা শেষ দেখেছেন আমদানিকৃত ভারতীয় ছবি ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’তে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে মুক্তি পায় ছবিটি। এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি নেই প্রেক্ষাগৃহে। ফারিয়া বিরতি ভাঙছেন শাকিব খানের বিপরীতে ‘শাহেনশাহ’ ছবিতে। এটি ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

পরী ও ববি

২০১৮ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ সিনেমা হলে এসেছিলেন দুজনই। পরী অভিনীত গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’ এবং ববি অভিনীত ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত ‘বিজলী’ ছবিতে দর্শকরা দুজনকে দেখেছেন। অনেকের মতে, এই দুটি ছবি পরী ও ববির ক্যারিয়ারের সেরা ছবি। প্রায় বছর গড়ালেও নতুন কোনো ছবিতে তাদের দেখা পাওয়া যায়নি।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj