অভিষেকের অপেক্ষায়

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

টেলিভিশনের জাঁদরেল নির্মাতা তারা তিনজন- মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, গোলাম সোহরাব দোদুল এবং মাহমুদ দিদার। চেনা গণ্ডি ছাড়িয়ে সিনেমার মুক্ত ক্যানভাসে এবার নিজেদের অভিষেক ঘটাতে চলেছেন তারা। তাদের নির্দেশিত প্রথম ছবির জন্য দর্শকদের মধ্যে রয়েছে পূর্ণ প্রতীক্ষা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন স্বাক্ষর শওকত

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল

‘যে জীবন ফড়িংয়ের’, ‘রোদ মেখ সূর্যমুখী’, ‘অর্থহীন মানিপ্ল্যান্ট’, ‘কাগজ কার্বনে সম্মোহন’, ‘কালো বরফ জমাট অন্ধকার’, ‘ধুলোর মানুষ মানুষের ঘ্রাণ’, ‘অক্ষয় কোম্পানির জুতো’, ‘দাস কেবিন’ নামের টেলিভিশন প্রডাকশনগুলো নির্মাণ করে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নির্মাতা হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় দাঁড় করিয়েছেন। এই পরিচয়ে নতুন মাত্রা যোগ করতে তিনি নেমেছেন চলচ্চিত্র নির্মাণে। ‘ ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ তার প্রথম ছবি। কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। গত বছর কাজ অনেকটাই শেষ করে এনেছেন উজ্জ্বল। ছেড়েছেন ছবির ফার্স্টলুক পোস্টারও। তারপর আর নতুন কোনো খবর দেনন তিনি। কিন্তু ২০১৯ সালের প্রতীক্ষিত ছবিগুলোর তালিকায় ঢুকে পড়েছে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। অদ্ভুত নামের এই ছবিটির মধ্য দিয়ে উজ্জ্বল তার নির্মাতা সত্তার কোন দিকটির সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেবেন, তা নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে কৌত‚হল রয়েছে। সিনেমায় নতুন মুখ শার্লিন ফারজানা ও ইমতিয়াজ বর্ষণকে নিয়ে অন্যরকম এক প্রেমের গল্প ফেঁদেছেন উজ্জ্বল, এমনটাই জানা যায়। গল্পের বিস্তারিত রয়েছে রহস্যেঘেরা। ছবির নাম ও গোপনীয়তার ভেতরে কাজ করার ব্যাখ্যা দিয়েছেন উজ্জ্বল। কিন্তু ছবি সম্পর্কে এখনই খুব বেশি কিছু তিনি বলতে চান না এই ঢাক ঢাক গুড় গুড়ের অবসান চান উদগ্রীব দর্শক। শিগগিরই দেখতে চান উজ্জ্বলের অভিষেক ছবি ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। পরিচালনার পাশাপাশি ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ ছবির কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য লিখেছেন, শিল্পনির্দেশনা দিয়েছেন ও সঙ্গীত পরিচালনা করছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। উজ্জ্বলের কর্মযজ্ঞ দেখার অপেক্ষায় দর্শক।

গোলাম সোহরাব দোদুল

টেলিভিশনের আরেক দাপুটে নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুলও আসছেন তার প্রথম ছবি নিয়ে। খুব অল্প সময়ে ঘোষণা দিয়ে ছবির কাজ শেষ করে ফেলেছেন তিনি। যেখানে অনেক নির্মাতা ঘোষণা দিয়েও কাজ শেষ করতে প্রচুর সময় লাগান, অনেক সময় কাজের মাঝখানে আটকে যান, সে সমস্ত প্রতিবন্ধকতার ছোঁয়া বাঁচিয়ে দোদুল দ্রুতগতিতে তার থ্রিলার ছবিটির কাজ শেষ করে ফেলেছেন। কিছুদিন আগে টিজার ছেড়ে দিয়ে দোদুল চলে এসেছেন আলোচনায়ও। ‘সাপলুডু’র প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট আরটিভির একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হয় ছবির টিজার। পরে ফেসবুকেও প্রকাশ হয় টিজারটি। ছবির প্রধান অভিনেতা আরিফিন শুভ টিজার শেয়ার করে লেখেন- ‘খেলা হবে’। শুভ এই ছবিতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে। এই জুটির প্রথম ও শেষ ছবি ছিল ‘তারকাঁটা’। প্রায় পাঁচ বছর পর দর্শকরা এই দুজনকে একসঙ্গে দেখবেন। এই ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন- তারিক আনাম খান, জাহিদ হাসান, সালাহউদ্দিন লাভলু, শতাব্দী ওয়াদুদ, রুনা খান, সুষমা সরকার, মারজুক রাসেল, শাহেদ আলীসহ অনেকে। নির্মাতা দোদুল টেলিভিশিনের অন্য নির্মাতাদের থেকে একটু আলাদা লয়ে চলছেন। তিনি প্রথম ছবির জন্য বেছে নিয়েছেন থ্রিলার ঘরানা। যাতে বোঝা যায়, পূর্ণ বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দোদুল তার প্রথম ছবি নির্মাণ করেছেন। শুভ-মিম বাণিজ্যিক ছবির তারকা হিসেবে নিজেদের এক টুকরো জায়গা করে নিয়েছেন। নিজ নিজ ক্যারিয়ার অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন তারা। ‘সাপলুডু’ তাদের ক্যারিয়ারে ধাক্কা হিসেবে কাজে লাগতে পারে। তবে দর্শকদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবেন গোলাম সোহরাব দোদুলই। কারণ বড় পর্দায় ‘সাপলুডু’ই তার প্রথম পরীক্ষা।

মাহমুদ দিদার

টেলিভিশনে ভিন্নধর্মী কিছু কাজ করে নিজের জাত চিনিয়েছেন মাহমুদ দিদার। শুরু থেকেই তার কাজের ধরনে ছিল সিনেমার আঁচ। ফলে তার প্রথম ছবির জন্য ছোটপর্দার দর্শকদের অপেক্ষা ছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ‘বিউটি সার্কাস’র জন্য তিনি সরকারি অনুদান পেলে উৎফুল্ল হয়েছিলেন সিনেমাপ্রেমীরা। কিন্তু সরকারি অনুদানের সীমিত অর্থে বারবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল ‘বিউটি সার্কাস’র যাত্রা। ছবির নির্মাতা মাহমুদ দিদার এবং প্রধান অভিনেত্রী জয়া আহসানের কণ্ঠে নানা সময় হতাশার সুরও শোনা গেছে এ নিয়ে। শেষ পর্যন্ত ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এসে ‘বিউটি সার্কাস’র হাল ধরে। ছবিটির মুক্তির সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করেছেন মাহমুদ দিদার। আগামী বৈশাখেই দর্শকরা দেখতে পারেন ‘বিউটি সার্কাস’। সম্প্রতি নারী দিবসে সার্কাসের নারী নিয়ে নির্মিত দেশের প্রথম ছবিটির পোস্টার উন্মোচন হলো। পোস্টারটি উন্মোচন করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। পোস্টারে দেখা গেছে সার্কাসের পোশাকে একঝাঁক পায়রা উড়িয়ে বিজয়িনী জয়া আহসানকে। ‘বিউটি সার্কাস’র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন ফেরদৌস, তৌকীর আহমেদ, এ বি এম সুমন, শতাব্দী ওয়াদুদ এবং হুমায়ুন সাধু। ‘বিউটি সার্কাসের গল্প সম্পর্কে যেটুকু জানা যায় তা হচ্ছে- ক্ষয়িষ্ণু বিনোদনগোষ্ঠী সার্কাসের মালকিন বিউটি। বিউটি সুন্দরী ও দক্ষ সার্কাস খেলোয়াড়। এই রমণীকে নিয়ে মরিয়া হয়ে ওঠে এলাকার তিন প্রভাবশালী। এর ফলে হুমকির মুখে পড়ে যায় সার্কাস দলটি। ব্যতিক্রমী এমন বিষয়ের ছবিতে মাহমুদ দিদারের নির্মাণের কারিশমা দেখার অপেক্ষায় দর্শক।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj