নিরাপত্তায় সোচ্চার বিসিবি

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গতকাল সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিরাট ধাক্কা খেয়েছে বিসিবি। এখন থেকে যত উন্নত দেশেই হোক, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ^াস না পেলে সেখানে দল পাঠাবেন না। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গতকাল স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, যারা নিরাপত্তা দিতে পারবে, শুধু সে দেশেই সফরে যাবে বাংলাদেশ। বিদেশে সফরে গেলে বাংলাদেশ দলকে আরো নিরাপত্তা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

অতিথি দলগুলো বাংলাদেশে এলে যে ধরনের নিরাপত্তা পায়, বিদেশে সফরে গেলে বাংলাদেশ দলেরও একই ধরনের নিরাপত্তা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে অল্পের জন্য বন্দুকধারীর হামলা থেকে বেঁচে যান বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। মসজিদের ভেতরে অভিবাসনবিরোধী উগ্র এক শে^তাঙ্গ হামলাকারীর হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হন। ¯্রফে ভাগ্যের জোরে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান তামিম-মুশফিকরা। ঘটনাকে অনাকাক্সিক্ষত ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের দেশে কোনো দল যখন খেলতে আসে, তখন ওরা যে ধরনের নিরাপত্তার কথা বলে, সে ধরনের নিরাপত্তাই দিতে হয়। আমরা এখন পর্যন্ত এমন নিরাপত্তা পাইনি। আমরা এটা নিয়ে জোরাজুরিও করি না। অন্য দেশগুলোও দেখেছি, এটা নিয়ে কিছু বলে না। নিউজিল্যান্ডে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, ওদের ধারণাই নেই। ওরা হয়তো অপ্রস্তুত ছিল। এখন হয়তো এ ব্যাপারে আরো সতর্ক হবে। কয়েকটি জঙ্গি হামলার কারণে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলতে আসেনি অস্ট্রেলিয়া। সর্বোচ্চ স্তরের ভিভিআইপি এমনকি প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে আসতে অস্বীকৃতি জানায় তারা। এমনকি ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ^কাপে পর্যন্ত অংশ নিতে আসেনি অসিরা। নিউজিল্যান্ডও অনেক গড়িমসির পর সেই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।

অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাইরের কোনো দেশে সফর করতে গেলে তাদের জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। নামকাওয়াস্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই নেয়া হয় না ক্রিকেটারদের জন্য। সেটা যে কতটা সত্য, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে জঙ্গি হামলার ঘটনা।

ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার কথা বাংলাদেশ দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের। তারা নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে উপস্থিত হয়েছিলও। ততক্ষণেই ঘটে যায় রক্তক্ষয়ী ঘটনা। টিম বাস মসজিদের সামনে পৌঁছার পরই ক্রিকেটাররা জানতে পারেন মসজিদের ভেতরে কিছু ঘটেছে। এরপর এক অচেনা নারীর সতর্কবার্তার ফলেই বাস থেকে ক্রিকেটাররা না নেমে ফিরে যান হাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে।

জানা গেছে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে ওই সময় ন্যূনতম একজনও নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। এমনকি টিমের লিয়াজোঁ অফিসার পর্যন্ত ছিল না তামিম-মুশফিকদের সঙ্গে। এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ক্রাইস্টচার্চে কঠিন বিপদের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ৫ মিনিটের হেরফের হলেই হয়তো, দেশের মূল্যবান সম্পদ ক্রিকেটারদের হারাতে হতো এই ভয়াবহ জঙ্গি হামলায়।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj