সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণ : কাঁচা বাজারে আগুন

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আগুন লেগেছে রাজধানীর কাঁচা বাজারে। সে আগুনে পুড়ছে সাধারণ মানুষ। এক কেজি সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা। সবজির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাছ-মাংসের দাম। মধ্যবিত্ত আর নি¤œবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে আমিষের প্রধান উৎস মাছ, মাংস। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি সবজির দাম বেড়েছে ১৫-২৫ টাকা। গরু আর খাসির মাংস থেকে যারা মুখ ফিরিয়ে ব্রয়লার মুরগির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল তারাও এখন নিরুপায় হয়ে পড়েছে। এক কেজি ব্রয়লার মুরগি কিনতে ১৬০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেকেই মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দাম বৃদ্ধির চিত্র যেমন পাওয়া গেল, তেমনি বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষকে হা-হুতাশও করতে দেখা গেল। দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় জীবনযাপনের ব্যয় মিটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের নি¤œ ও মধ্যবিত্তরা। সব থেকে কম দামে মিলছে আলু আর পেঁপে। পেঁপের কেজি ২৫-৩০ টাকা আর আলুর কেজি ১৫-২০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে আসা নতুন সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সজনে। মানভেদে প্রতি কেজি সজনে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এর পরে রয়েছে বরবটি। প্রতি কেজি বরবটি ১৪০-১৫০ টাকা। বাজারভেদে প্রতি কেজি পটোল, করলা ও উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা দরে। এ ছাড়া ঢেঁড়স, কচুর লতি, লাউ, ঝিঙ্গা, ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকায়।

চড়া দামের বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে আলু, পেঁপে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পাকা টমেটো ও গাজর। পাকা টমেটো ৪০-৫০ টাকা, গাজর পাওয়া যাচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে। প্রতি পিস ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৩০, প্রতি আটি লাল শাক ও পালং শাক ১৫, লাউ শাক ৪০ ও প্রতি কেজি পুঁই শাক ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের সবজির শেষ সময় এবং কয়েক দিন আগে শিলাবৃষ্টির জন্য সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ কমেছে। তাই দাম বেড়েছে সব ধরনের সবজির। আর শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। এদিকে বেশ কিছুদিন স্বস্তি দেয়া পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে যায়। বাজারভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজি। তবে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতোই ২০-২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বাজার ও মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়।

যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, বাজারে আলু, পেঁপে ছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাবে না। কারণ শীতের সবজি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এখন যে ফুলকপি, বাঁধাকপি পাওয়া যাচ্ছে, এর প্রতি ক্রেতাদের খুব একটা আগ্রহ নেই। বাজারে এখন নতুন করে এসেছে সাজনা, ঝিঙ্গা, পটোল, ঢেঁড়স ও বরবটি। নতুন আসায় এসব সবজির দাম এখন বাড়তি।

গত সপ্তাহের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে গরু, খাসি ও মুরগির মাংস। বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০-১৫৫ টাকা। এ ছাড়া লাল লেয়ার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা, কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০-২৮০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে গরু ও খাসির মাংসের দাম না বাড়লেও এখন কোনো বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৫০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু কিছু বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকা কেজি। খাসির মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

খিলগাঁও বাজারে মুরগি কিনতে আসা আলি হোসেন বলেন, বাজারের হিসাব বোঝা বড় কষ্টের কাজ। আজ একরকম তো কাল আরেক রকম। কোনো কিছুর দাম আর কমে না। যে পণ্যের দাম একবার বাড়ে সেটা শুধু বাড়তেই থাকে। এতে করে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তরা খুব অস্বস্তিতে আছে। সব ধরনের মাছ ও সবজির দাম অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমরা গরু, খাসির মাংস খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। কিন্তু এখন অবস্থা যা দেখছি সামনে হয়তো মুরগির মাংস খাওয়াও ছেড়ে দিতে হবে। মুরগি ব্যবসায়ী মোহর আলী বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সব ধরনের মুরগির দাম বাড়ছে।

এদিকে মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া। আগের সপ্তাহের মতো তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকা কেজি, পাঙ্গাশ ২০০-২২০, রুই ৩৫০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামের বিষয়ে যাত্রাবাড়ী আড়তের ব্যবসায়ী আনিস বেপারী জানান, মাছের দাম অনেকটাই নির্ভর করে আড়তে সরবরাহের ওপর। মাছের উৎপাদন কম হওয়ায় কয়েক মাস ধরে তুলনামূলক মাছ কম আসছে। যে কারণে সব ধরনের মাছের দাম বাড়তি।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj