শেষ আশ্রয়টুকু হারালেন আদিবাসী শেফালী রানী

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

খোরশেদ আলম, শেরপুর থেকে : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্ধীগাঁও গ্রামের শেফালী রানী কোচনী (৯০) নামে এক অসহায় আদিবাসী বিধবা নারীর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন বিভাগ। রোদ পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্টে। দিনমজুর স্বামী জুগেশ চন্দ্র কোচ এক যুগ আগে মারা গেছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে মৃণাল কোচকে নিয়ে অভাব-অনটন আর দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে চলছে তার সংসার। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন শেফালী রানী। কিন্তু জীবিকার তাগিদে করতে হচ্ছে জীবনযুদ্ধ। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বর্গা নেয়া কয়েকটি গরু পালন করে কোনো রকমে চলছে সংসার। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস একটি টিনের দোচালা ঘর করে দেয় শেফালী রানী কোচকে। জমি না থাকায় বন বিভাগের ৫ শতাংশ জমির ওপর ঘরটি নির্মাণ করা হয়। ওই ঘরেই গরু পালনের পাশাপাশি বসবাস করে আসছিলেন শেফালী রানী। দুমাস আগে বাড়িটি সরিয়ে নেয়ার জন্য তাগিদ দেন বন বিভাগের কর্মচারীরা। একপর্যায়ে গজনী বিটের বনপ্রহরী মুস্তাফিজুর রহমান শেফালী রানীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে একটি গরু বিক্রি করে শেফালী রানী ঘরটি টিকিয়ে রাখতে ২৫ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন। মুস্তাফিজুরের দাবি, ওই টাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিতে হবে। এতেও শেষ রক্ষা হয়নি শেফালী রানীর। ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার বন কর্মচারীরা শেফালী রানীর ঘরটি গুঁড়িয়ে দেয়। ঘরের টিনগুলো নিয়ে যাওয়া হয় গজনী বিট অফিসে। সরেজমিন কথা হয় শেফালী রানীর সঙ্গে। বলেন দুঃখ-দুর্দশার কথা। চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না তিনি। হাত দিয়ে ইশারা করে খোলা আকাশের নিচে বসবাসের দৃশ্য দেখান তিনি। আক্ষেপের সুরে বলেন, সারা জীবন নৌকায় ভোট দিয়েছি। এখন যাব কোথায়? এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মোস্তাফিজুরের সঙ্গে কথা হলে তিনি টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। গজনী বিট কর্মকর্তা শাহ আলম ঘরটি গুঁড়িয়ে দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘরটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এ বিটে প্রায় ২ হাজার একর বনের জমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj