কর অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পদ্ধতি সহজ করল এনবিআর

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

ওবায়দুর রহমান : পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়ার পদ্ধতি আরো সহজ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিঅর)। এখন থেকে সীমিত করদাতারা সর্বচ্চ ২৫ হাজার টাকা কর আদায়কারী কর্মকর্তারা কাছ থেকে ফেরত পাবেন। এনবিআরের এ সংক্রান্ত কমিটি সম্প্রতি পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে সহজ পদ্ধতি অনুসরণ এবং তাতক্ষণিক চেক ইস্যু করার বিষয়ে সুপারিশ করেছে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, ছোট করদাতাদের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং তাদের আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে এ অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজস্ব কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ ফেরতের ভাউচার পাওয়া একটি সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া এবং এতে করদাতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

অনেক করদাতা অপ্রত্যাশিত হয়রানি এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভয়ে কখনোই অতিরিক্ত অর্থ ফেরতের আবেদন করেন না। রাজস্ব বোর্ডের আয়কর শাখা কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টেন্টসের (সিএজি) সঙ্গে বসে ট্যাক্স রিফান্ডের হিসাব ও অডিট প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যার সমাধান করবে। কর্মকর্তারা বলেন, কমিটি পদ্ধতি সহজতর করার সুপারিশ করেছে যাতে করদাতারা প্রদেয় পরিমাণের চেয়ে বেশি কর পরিশোধের অর্থ ফেরত পেতে পারে।

প্রসঙ্গত, আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ অনুযায়ী, একজন করদাতা যদি অতিরিক্ত কর দেন তবে তা তিনি ফেরত পাবেন। অনেক করদাতা তার দেয়া করের পরিমাণ রাজস্ব বছর শেষে পাওনার চেয়ে বেশি দিয়ে থাকেন। কারণ কর কমর্কতার্রা সারা বছর আমদানি, পেমেন্ট, বিল এবং সুদের আয়ের মতো আয়গুলোতে অগ্রিম আয়কর কাটেন। অনেকে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর জন্য ট্যাক্স রিবেট দাবি করার পরে করদাতার কর দায় প্রদেয় করের চেয়ে কম হয়ে যায়। কর আইন অনুযায়ী, করদাতারা আগামী অথর্বছরে প্রযোজ্য ট্যাক্সের সঙ্গে ফেরতযোগ্য অর্থ সমন্বয় করতে পারে অথবা তারা নগদ অর্থ ফেরত দাবি করতে পারেন। একজন ঊর্ধ্বতন এনবিআর কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে ভীতির কারণে করদাতারা অনেক সময় রাজস্ব কর্মকর্তাদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ ফেরতের আবেদন করে না। তিনি বলেন, এখন করদাতারা তাদের অতিরিক্ত অর্থ নগদ ফেরত নিতে পারবেন অথবা রাজস্ব কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চেক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসেবে জমা দিতে পারবেন।

বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলিকে করদাতার রিফান্ড ভাউচার নগদীকরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। এছাড়াও, আয়কর কমিশনার, যিনি ভাউচার ইস্যু করেন তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ট্যাক্স ফেরতের অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি পরামর্শ নোট পাঠাতে হয়। রিফান্ড ভাউচার, পরামর্শ নোট এবং করদাতার স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাইয়ের পরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভাইচার নগদায়ন করার অনুমতি দেয়।

এই গোটা প্রক্রিয়া অনেক সময় সাপেক্ষ। এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, করদাতাদের রাজস্ব কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভাউচার সংগ্রহ করতে ঝামেলা মোকাবিলা করতে হয়, কারণ কিছু মাঠ পর্যায়ে কর অফিস কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পরামর্শ নোট পাঠাতে আগ্রহ দেখায় না। এছাড়াও, রিফান্ডের প্রক্রিয়া মূলত দ্রত নিষ্পত্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, বড় করদাতারা তাদের করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নেয় বা পরের বছর প্রদেয় করের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে স্ব¤œয় করে, যা ছোট এবং প্রান্তিক করদাতাদের ক্ষেত্রে হয় না।

এ বিষয়ে গৃহবধু সালমা হক বলেন, ব্যাংক আমানতের লাভ থেকে সরকার বড় পরিমাণে কর কাটছে। আমার কোন করযোগ্য আয় এবং করদাতাদের সনাক্তকরণ নম্বর নেই। কর অতিরিক্ত অর্থ ফেরত প্রাপ্তি আমার জন্য একটি কঠিন কাজ বলে মনে হয়। তিনি দাবি করেন যে এনবিআর করদাতাদের ট্যাক্স রিফান্ড চেক বা ভাউচার উন্নত দেশের মত করদাতাদের বাসা বা অফিসের ঠিকানায় পাঠাবে।

এনবিআর গড়ে প্রতি বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ফেরত দেয়। কমর্কতার্রা জানান, এবার ফেরতযোগ্য অথের্র পরিমাণ আরও বেশি হবে। কারণ ৫৭টি নতুন উৎস থেকে এনবিআর আয়ের ক্ষেত্রে রিবেট সুবিধা দিয়েছে। তবে কর কতৃর্পক্ষের কাছে এ বছর কি পরিমাণ করদাতাদের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj