অভয়ারণ্যে ইলিশ শিকার বন্ধে করণীয়

শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশে প্রতি বছরের মতো এবারো ইলিশের অভয়ারণ্যে হিসেবে চিহ্নিত অংশে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইলিশের ডিম পাড়ার মৌসুম পেরিয়ে গেলেও এখন ছোট ইলিশ বেড়ে ওঠার সময়। এই সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকলে ছোট ইলিশ জাটকা দ্রুত বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। একইভাবে প্রতি বছর ৭ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশের প্রজনন মৌসুমে অভয়াশ্রমে জাল ফেলা, মা ইলিশ শিকার, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতকরণও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। মাঝ অক্টোবরে সাধারণত যখন সাগর ও নদী উত্তাল থাকে, তখন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পদ্মা-মেঘনায় ডিম ছাড়ার জন্য ছুটে আসে। এই পনেরো দিন মা ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে নদীর বিশাল জলরাশি ইলিশের ডিমে পূর্ণ হয়ে যায়। অথচ এ সব নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকাকালীন সময়ে জাটকা ও মা ইলিশ নিধন পুরোপুরি বন্ধ থাকে না। পদ্মা-মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে আইন উপেক্ষা করে এক শ্রেণির জেলে কখনো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অথবা আঁতাত করে জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করে। সম্প্রতি শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইলিশের অভয়ারণ্যে ইলিশ শিকারের খবর মিলেছে। মৎস্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে নৌকা, জাল জব্দ করাসহ জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে। এ ব্যাপারে জেলেদের বারবার সচেতন করে তোলা হলেও ছোট মাছ ধরা বন্ধ হচ্ছে না।

ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে যেহেতু জেলেরা বেকার হয়ে পড়ে, তাই সরকার গরিব ও প্রান্তিক জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দিয়ে সহায়তা দিয়ে থাকে যাতে তারা পেটের দায়ে মা ইলিশ শিকারে বাধ্য না হয়। কিন্তু এবারে কোথাও কোথাও ত্রাণের চাল পৌঁছায়নি, কোথাও জেলেদের সংখ্যার চেয়ে কম পরিমাণ চাল দেয়া হয়েছে। আবার কোথাও চাল পৌঁছালেও জেলে পরিবারগুলোর কাছে চাল বিতরণ করা হয়নি। এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করা দরকার। সরকারি সহায়তা পাওয়ার পরও যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা মাছ ধরে তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

চাঁদপুরের ইলিশ মোকামে ইলিশ বেচাকেনা বন্ধ থাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে ৫০ হাজার জেলে চরম বিপাকে পড়েছে। তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। লক্ষ করা গেছে, মৎস্য বিভাগের অভিযান শেষ হলে জেলেরা মাছ শিকারে নেমে যায়। তাই মাছ ধরা বন্ধের মৌসুমে সার্বক্ষণিক পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। নদীপাড়ের মৎস্য ব্যবসায়ী আড়তদাররা যাতে জেলেদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে মাছ নিয়ে জেলদের মাছ ধরতে সহায়তা ও উৎসাহিত করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখা আবশ্যক।

ইলিশের প্রজনন সময়ে মা মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য অধিদপ্তর। কিন্তু জেলেদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের। এই দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলেদের নৌকা, জাল, মাছ ধরার অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। জলদস্যুর হাত থেকে জেলেদের জানমাল রক্ষা করতে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া অত্যাবশ্যক।

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

মালিবাগ, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj