সংসদে তথ্যমন্ত্রী : অনলাইন মিডিয়াকে নিবন্ধিত হতে হবে

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : অনলাইন মিডিয়ার জন্য একটি খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে, এর জন্য একটি কমিশনও গঠন করা হচ্ছে। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে এই নীতিমালার আওতায় সব অনলাইন সংবাদপত্রকে নিবন্ধিত হতে হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সেই সঙ্গে সংবাদপত্রের জন্য ঘোষিত নবম ওয়েজবোর্ড শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য নাসরিন জাহান রতœা ও আওয়ামী লীগের সদস্য মোর্শেদ আলমের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, দেশে অনলাইন মিডিয়ার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। ২০০৮ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৮ কোটির বেশি। দেশে কয়েক হাজার অনলাইন সংবাদপত্র রয়েছে। আমরা অনলাইন নীতিমালা করছি। এই অনলাইন নীতিমালা মন্ত্রিসভায় পাস হওয়ার পর সব অনলাইন সংবাদপত্রকে নীতিমালার আওতায় এনে নিবন্ধিত করা হবে। আমরা এরই মধ্যে অনেক অনলাইন সংবাদপত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছি, নিচ্ছি। সব অনলাইনকেই নীতিমালার আওতায় এসে নিবন্ধিত হতে হবে। সংবাদপত্রের নবম ওয়েজবোর্ড প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান মন্ত্রিসভার প্রথম সভাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে মতবিনিময় করছি। আশা করছি, শিগগিরই নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

দেশে গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

নুরুন্নবী চৌধুরীর (ভোলা-৩) অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের অধিকার সুরক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। ইতোমধ্যে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের চেতনায় দেশে গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশর গণমাধ্যমের সব শাখা ব্যাপকভাবে বিকাশ লাভ করেছে। সাংবাদিকদের পেশা ও স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সরকারের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাধীন গণমাধ্যম, অবাধ তথ্যপ্রবাহ এ সরকারের সাফল্যের অন্যতম মাইলফলক।

তথ্য মন্ত্রী সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড গঠন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সহায়তা, সাংবাদিকদের শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়ন, গণমাধ্যম কর্মী (চাকরি ও শর্তাবলী) আইন ও সম্প্রচার আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া, ৪৪টি বেসরকারি টেলিভিশন, ২৮টি এফএম রেডিও, ৩২টি কমিউনিটি রেডিওর লাইসেন্স প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া দেশে বর্তমানে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১,২৪৮টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ১,১৯২টি, মাসিক পত্রিকা ৪১৪টি ও অন্যান্য ৪১টি, ২,২১৭টি অনলাইন মিডিয়া যার মধ্যে অনলাইন পত্রিকা ১,৮৭৪টি, ইন্টারনেট টেলিভিশন ২৫৭টি, অনলাইন রেডিও ৪৫টি ও ই- পেপার ৪১টি রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমবান্ধব এ সরকার মিডিয়া সেক্টরে আরো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বদ্ধপরিকর।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj