শৈলক‚পায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা : পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মনিরুজ্জামান সুমন, শৈলক‚পা (ঝিনাইদহ) থেকে : ঝিনাইদহের শৈলক‚পা উপজেলায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। পোড়ানো হচ্ছে হাজার হাজার মণ কাঠ। পরিবেশ দূষণের মধ্যে কোনো ধরনের ভ্যাট, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে উপজেলায় চলছে প্রায় দুই ডজন অবৈধ ইটভাটা। নীতিমালা লঙ্ঘন করে লোকালয় ও কৃষি জমিতে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা।

লোক দেখাতে ভাটায় কয়লার স্ত‚প সামনে রেখে পেছন থেকে পোড়ানো হয় কাঠ। ড্রাম চিমনি দিয়ে কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ে। অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা ও কৃষি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। নিয়মানুযায়ী ভাটায় যেখানে ১২০ ফিট গাঁথুনি চিমনি থাকার কথা সেখানে নীতির তোয়াক্কা না করে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ফিট ড্রাম চিমনীর মাধ্যমে ধোঁয়া উড়িয়ে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটানো হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামে ইমরান ব্রিকস, মির্জাপুর ইউনিয়নের মহম্মদপুর গ্রামে স্টার ব্রিকস, হাকিমপুর ইউনিয়নের হরিহরা গ্রামে টিটু ব্রিকস, ইউনিয়নে মিলন ব্রিকস, শাহ ব্রিকস ও এমবিবি ব্রিকস, উমেদপুর ইউনিয়নের ষষ্ঠিবর গ্রামে বর্ষা ব্রিকস, পৌর এলাকার চতুড়া গ্রামে রাহুল এন্ড খুশি ব্রিকস, মাঠপাড়া এলাকায় বিএন্ডসি ও চুন্টি ব্রিকস, আউশিয়া গ্রামে শাকিব ও শান ব্রিকস, দিগনগর ইউনিয়নের সিদ্দি গ্রামে রবিন ব্রিকস, নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের বকসিপুর গ্রামে বিএমবিআর ব্রিকসসহ অন্য ইটভাটাগুলো জনবসতি এলাকা এবং কৃষিজমির পাশে গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে অনেকেই ড্রাম চিমনি ব্যবহার করেন।

শ্রমিকরা জানান, এক একটি ভাটায় প্রতিদিন কাঠ পোড়ানো হয় ৩শ থেকে ৪শ মণ। ২৫টি ভাটায় প্রতিদিন কাঠ পোড়ানো হয় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মণ। ভাটাগুলোর পাশে রয়েছে কলা বাগান, কফি ক্ষেত, মটর, বেগুন ও ধানসহ ইত্যাদি। আর ১০০ থেকে ১৫০ গজের মধ্যে রয়েছে জনবসতি।

ইটভাটা মালিকরা বলেন, বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে চাঁদাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তারা এসব ভাটা চালাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই লোকালয় ও আবাদি জমির পাশে ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। ভাটার শত শত বালু, মাটি ও ইট বহনকারী গাড়ি চলাচলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামের রাস্তা-ঘাট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কৃষক জানান, কৃষি জমিতে বা জমির পাশে এসব ইটভাটা স্থাপন করায় তাদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। প্রচণ্ড ধুলাবালুর কারণে ভালো ফলন পাওয়া যায় না। এসব ইটভাটার মালিক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা প্রতিবাদ করতেও সাহস পান না।

কৃষকদের এসব অভিযোগ সঠিক হিসেবে উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু বলেন, কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা ঠিক না। ফসলি জমির পাশে ইটভাটা স্থাপন করায় ফসলের উৎপাদন কম হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা উসমান গনি জানান, ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ অবৈধ। সেই সঙ্গে ড্রাম চিমনি ব্যবহারের সুযোগ নেই। অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে অচিরেই তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, ইতোমধ্যে অবৈধ ইট ভাটায় অভিযান শুরু হয়েছে। অনেক ভাটার ড্রাম চিমনি উচ্ছেদ ও জরিমানা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলার সব অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj