হরিণাকুণ্ডুতে পাকা ঘর পেল হতদরিদ্র ৬৩ পরিবার

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে আশ্রয়ণ প্রকল্পে টিনের পরিবর্তে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে করে দেয়া হচ্ছে পাকা ঘর। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে শুরু হয় টিনের পরিবর্তে পাকা ঘর নির্মাণ কাজ। এরপর জেলার ৫ উপজেলাতেও শুরু হয়েছে টিনের পরিবর্তে পাকা ঘর নির্মাণ। ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে হরিণাকুণ্ড উপজেলার বরাদ্দকৃত ৬৩টি পাকা ঘর।

জানা গেছে, সরকারিভাবে প্রতিটি ঘরের সঙ্গে বারান্দা রয়েছে ৫ ফুট, একটি বাথরুম। এভাবে ঘরগুলো ওই এক লাখ টাকা ব্যয় করেই নির্মাণ শেষ করতে হচ্ছে। নকশা অনুযায়ী টিনের ঘর তৈরি করতে স্থানীয় একটি বাজেট দেয়া হয়। সেখানে দেখা যায়, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার পরও টিনের ঘর তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকা। বরাদ্দকৃত ১ লাখ টাকার মধ্যে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। তখন তারা ইটের পাকা ঘর তৈরি করতে কত খরচ হবে তার একটা পৃথক বাজেট করেন। সেখানে দেখা যায় স্থানভেদে ১ লাখের দুই তিন হাজার টাকা বেশি খরচ হবে। কাপাশাহাটিয়া ইউনিয়নের আলম মণ্ডল বলেন, আমি দিনমজুর। হাজার চেষ্টা করেও পাকা ঘরে ঘুমানোর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না। মাত্র ২ শতক জমির ওপর বেড়ার ঘরে ছেলেমেয়েকে নিয়ে বসবাস করতাম। এই শীতে বেড়ার ভেতর বাতাস প্রবেশ করায় ঠিকমতো ঘুমানো যেত না। আমরা এখন পাকা ঘরে ঘুমানোর স্বপ্ন দেখি।

হরিণাকুণ্ড উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আমি প্রথমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে চারটি ঘর সেমিপাকা নির্মাণ করে পরীক্ষা করে দেখি ১ লাখ টাকার মধ্যেই প্রত্যেকটি ঘর করা সম্ভব। আর এটা সম্ভব হয়েছে বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়ার নির্দেশে ও জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের পরামর্শে। এ জন্য আমি সেমি পাকা ঘর নির্মাণের যাবতীয় কাঁচামাল পাইকারি দরে ক্রয় করেছি। যা টিনের পরিবর্তে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ খরচে সাশ্রয় হয়েছে এবং ১ লাখ টাকার মধ্যেই সেমিপাকা ঘর হতদরিদ্রদের নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই উপজেলার ৬৩টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে এই কাজ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে উপকারভোগীদের ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj