বিশ^কাপের মনোমুগ্ধকর ভেন্যু

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আজ থেকে মাত্র ১১৫ দিন পরই ব্যাট-বলের মহারণের দিন। বেজে উঠবে বিশ্বকাপের দামামা। ১২তম ক্রিকেট বিশ্বকাপে ১০ দল নিয়ে ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াই শুরু হবে ৩০ মে। উদ্বোধনী ম্যাচে আয়োজক ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসের মোট ১১টি ভেন্যুতে হবে ম্যাচগুলো। ভেন্যুগুলো হচ্ছে- লর্ডস, দি ওভাল, এজবাস্টন, ট্রেন্ট ব্রিজ, হেডিংলি, ওল্ড ট্রাফোর্ড, কাউন্টি গ্রাউন্ড, ব্রিস্টল, রিভারসাইড গ্রাউন্ড, রোজ বোল ও সোফিয়া গার্ডেনস।

এজবাস্টন : এজবাস্টন স্টেডিয়াম বা এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের এজবাস্টন এলাকায় ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ক্রিকেট মাঠ। ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের নিজ মাঠ হিসেবে স্টেডিয়ামটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ২৯ মে ১৯০২ সালে ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া মধ্যকার টেস্ট দিয়ে এই মাঠে প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট যুগের সূচনা। উভয় দলই আবার ২৮ আগস্ট ১৯৭২ সালে প্রথম একদিনের ম্যাচেরও প্রচলন করে এখানে। স্টেডিয়ামের সর্বমোট দর্শক ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হিসেবে ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারার অপরাজিত ৫০১ রানের বিশ্বরেকর্ড এ মাঠেই হয়েছিল।

ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড : ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাঠটির অবস্থান অ্যাশলে ডাউন জেলার নেভিল রোডে। গøুচেস্টারশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের প্রধান অনুশীলনী মাঠ এটি। ১৭ হাজার ৫০০ জন ধারণক্ষমতার এ স্টেডিয়ামে ১৩ জুন ১৯৮৩ সালে নিউজিল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ওডিআই অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শুরু হয় ২৮ আগস্ট ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে।

সোফিয়া গার্ডেনস : সোফিয়া গার্ডেনস ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের টাফ নদীর পশ্চিম তীরে ও কার্ডিফ আর্মস পার্কের ১.৬ কিলোমিটার উত্তরে প্রতিষ্ঠিত একটি ক্রিকেট স্টেডিয়া। ১৫ হাজার ৬৪৩ জন ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামটিতে ২০ মে ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ শুরু হয়।

রিভারসাইড গ্রাউন্ড : ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রিভারসাইড গ্রাউন্ড ইংল্যান্ডের ডারহ্যাম কাউন্টির চেস্টার-লি স্ট্রিটে অবস্থিত একটি ক্রিকেট মাঠ। মাঠের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে লামলে প্রাসাদ অবস্থিত। স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে মাঠের পূর্ণাঙ্গ দর্শক ধারণক্ষমতা হচ্ছে ২০ হাজার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে ৫ জুন ২০০৩ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট শুরু।

১৯৯৯ সালের ২০ মে পাকিস্তান স্কটল্যান্ডের মধ্যে প্রথম ওয়ানডে আর ২০০৮ সালের ২০ আগস্ট ইংল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

হেডিংলি স্টেডিয়াম : এটি পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের লিডসের হেডিংলি এলাকায় অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ও রাগবি খেলার জন্য দুটি অংশ রয়েছে। তন্মধ্যে ক্রিকেটের জন্য ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব, রাগবি লিগের জন্য লিডস রাইনোজ এবং রাগবি ইউনিয়নের জন্য লিডস কার্নেগি দল অনুশীলনের জন্য মাঠটি ব্যবহার করে থাকে। প্রায় ২০ হাজার আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়ামে ১৮৯৯ সাল থেকে টেস্ট ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রথম ওডিআই শুরু হয় ১২ সেপ্টেম্বর ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্বাগতিকদের।

লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড : ১৮১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত লন্ডনের সেন্ট জনস উড এলাকায় অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট মাঠ। মাঠটি যুক্তরাজ্যের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট মাঠ যার ধারণক্ষমতা ২৮ হাজার জন। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে এজবাস্টন। মিডলসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি), ইউরোপীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের (ইসিসি) সদর দপ্তর এখানেই অবস্থিত। ২০০৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদর দপ্তর এখানে ছিল। বৈশ্বিকভাবে লর্ডসকে ক্রিকেটের তীর্থস্থান হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বিশ্বের প্রাচীনতম ক্রীড়া জাদুঘরের কেন্দ্রস্থল এটি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১০টি ফাইনাল খেলা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাতটি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তন্মধ্যে, লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড একমাত্র স্টেডিয়াম হিসেবে ১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৮৩ ও ১৯৯৯ চারবার ফাইনাল খেলা আয়োজন করেছে।

দি ওভাল : দি ওভাল লন্ডনের কেনিংটনে ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠ। প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণ ক্ষমতার এ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ওভাল মাঠটি সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের নিজ মাঠরূপে পরিচিত। উল্লেখ্য, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ব্যবহৃত ওভাল মাঠটি যুক্তরাজ্যের প্রথম মাঠ ও বিশ্বের দ্বিতীয় মাঠ হিসেবে স্বীকৃত। প্রথমস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা এমসিজি।

ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ড : ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্রিকেট মাঠ ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ১৮৫৭ সালে এ মাঠের উদ্বোধন ঘটে। তখন মাঠটি ম্যানচেস্টার ক্রিকেট ক্লাবের অনুশীলনী মাঠ হিসেবে থাকলেও ১৮৬৪ সাল থেকে অদ্যাবধি ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের নিজস্ব মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় প্রাচীনতম মাঠ হিসেবে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এ ছাড়াও ১৮৮৪ সালের জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের মাঠ হিসেবে খেলা আয়োজনের গৌরব লাভ করে। ক্রিকেট বিশ্বকাপের স্বাগতিক মাঠরূপে দুটি সেমিফাইনাল এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

ট্রেন্ট ব্রিজ : ট্রেন্ট ব্রিজ নটিংহ্যামশায়ারের ওয়েস্ট ব্রিজফোর্ড এলাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ১৮৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামে নটিংহ্যামশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের সদর দপ্তর অবস্থিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং নটিংহ্যামশায়ারের নিজস্ব খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ১৭ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতা এ মাঠে দুবার আইসিসি বিশ্ব টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৯ সালে আইসিসি বিশ্ব টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পাকিস্তানের মধ্যকার সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে এখানে। এ স্থানটির নামকরণ হয়েছে কাছাকাছি থাকা ট্রেন্ট নদী ও এর ওপর সংযোগকারী ব্রিজ থেকে, যা মিডো লেন এবং সিটি গ্রাউন্ড, নটস কাউন্টির ফুটবল স্টেডিয়াম ও নটিংহ্যাম ফরেস্টকে একত্রিত করেছে। রোজ বোল (ক্রিকেট মাঠ) : দ্য রোজ বোল ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ার কাউন্টির ওয়েস্ট এন্ডে অবস্থিত। অস্থায়ী আসনে নিয়ে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এ স্টেডিয়াম হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের প্রধান অনুশীলনী মাঠ। দলটি ২০০১ সাল থেকে এ মাঠ খেলে আসছে। ১৮৮৫ সালের সাউদাম্পটনের কাউন্টি গ্রাউন্ড থেকে স্থানান্তরিত হয়ে হ্যাম্পশায়ার দল এ মাঠ নির্মাণ করে। ৯-১১ মে, ২০০১ তারিখে ওরচেস্টার শায়ারের বিপক্ষে এখানে প্রথমবারের মতো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে হ্যাম্পশায়ার দল। এতে স্বাগতিক দলটি ১২৪ রানের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল।

এরপর থেকেই একদিনের আন্তর্জাতিকসহ নিয়মিতভাবে ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তন্মধ্যে ২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতার বেশ কয়েকটি খেলা আয়োজনের দায়িত্ব পায় রোজ বোল কর্তৃপক্ষ।

কাউন্টি গ্রাউন্ড : কাউন্টি গ্রাউন্ড (স্পন্সরশিপের কারণে বর্তমানে কুপার অ্যাসোসিয়েটস কাউন্টি গ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত) টাউনটন, সামারসেটে একটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। এটি সামারসেট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হোমগ্রউন্ড, যারা ১৮৮২ সাল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সেখানে খেলছে। প্রাইরি ব্রিজরোড এবং সেন্ট জেমস স্ট্রিটের মাঝামাঝি অবস্থানে ৮ হাজার ৫০০-এরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতা রয়েছে। ১৮৮১ সালে মাঠটি মূলত টাউনটন অ্যাথলেটিক ক্লাবের স্পোর্টস সেন্টারের অংশ ছিল এবং পরবর্তীকালে সামারসেট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হোমগ্রউন্ড হয়ে ওঠে। এ ছাড়া টেস্ট খেলা ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্যও এটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।

::মুবাশি^রুল বারী রাফিন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj