মহম্মদপুরে নার্সারি করে স্বাবলম্বী হুমায়ুন-শিল্পী দম্পতি

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মুরাদ হোসেন, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে : বিভিন্ন ফল, ফুল ও ঔষধি গাছের নার্সারি করে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের নিখড়হাটা গ্রামের বেকার যুবক হুমায়ুন আহম্মেদ। হুমায়ুন-শিল্পী দম্পতি আজ স্বাবলম্বী। অভাব যাদের নিত্যসঙ্গী ছিল। অভাবের তাড়নায় এক সময় দিনমজুরের কাজ করতে হতো। তবুও অভাব যেন পিছু ছাড়ত না। আজ সেই বেকার যুবক হুমায়ুন নার্সারি করে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান হুমায়ুন আহম্মেদ। দিনমজুর পিতা আ. হামিদ শেখের বসত ভিটার ৭ শতাংশ জমিই তাদের সম্বল। অভাবের মাঝেই হুমায়ুন বিয়ে করেন শিল্পী পারভীনকে। অভাবের সংসারে হাল ধরতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছে তাকে। বেঁচে থাকার তাগিদে দিনমজুরের পাশাপাশি নার্সারি করার সিদ্ধান্ত নেয় হুমায়ুন-শিল্পী দম্পতি। এজন্য মাগুরা বন বিভাগ থেকে নার্সারির ওপর ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নেয় হুমায়ুন ও শিল্পী পারভীন।

প্রশিক্ষণ শেষ করে স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। কিন্তু মনোবল হারায়নি। এজন্য সে বসত বাড়ির উঠানেই প্রথম শুরু করে নার্সারি। এরপর এনজিও থেকে ঋণ নেয়। ১৮ শতক জমি লিজ নিয়ে ৮৬ প্রকার গাছের চারা দিয়ে নার্সারির যাত্রা। বর্তমানে ৭৬ শতক লিজকৃত জমির ওপরে ২৯৬ প্রকার গাছের চারায় হুমায়ুন-শিল্পী দম্পতির মিনহা নার্সারি। তাদের মেয়ের নামেই এ নার্সারির নামকরণ। হুমায়ুন এলাকার বেকার যুবকদের কাছে আইকন। তাকে দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় ৮/১০ জন শ্রমিক মিনহা নার্সারিতে কাজ করছে। শ্রমিকদের সঙ্গে হুমায়ুন ও তার স্ত্রী শিল্পী যেন সন্তানের মতো চারার পরিচর্যা করে চলেছে। শিল্পী জানান, চারা বিক্রির জন্য হুমায়ুন যখন হাটে বা বাজারে যায় তখন আমাকেই দেখাশোনা করতে হয়। এ ছাড়া ৭ সদস্য পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস এই নার্সারি বলে জানান শিল্পী পারভীন।

এই নার্সারিতে ৪০ প্রজাতির ফুল, ৩৪ প্রজাতির ফল, ২৭ প্রজাতির ঔষধি ও ৬ প্রজাতির বনজ চারা নিয়ে আমাদের এ নার্সারি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কাশ্মিরী আপেল, বেদানা, ড্রাগন, ক্যারালা নারকেল, ভিয়েতনাম নারকেল, বার্মিজ নারকেল, মাল্টা বারী-১, চায়না কমলা, অস্ট্রেলিয়ার কালো আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, রেডলেডি পেঁপে, থাই পেয়ারা, থাই লেবুসহ ত্রিফলা আম ও বারোমাসী জাতের আম রয়েছে।

এই নার্সারি থেকে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ১০টি ভ্যানে চারা বিক্রয় করা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে নার্সারি থেকে চারা ক্রয় করছেন। এতে মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা উপার্জন হয়। হুমায়ুন বলেন, সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতা পেলে এলাকার বনজ, ফুল, ফল ও ঔষধি বৃক্ষের চাহিদা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে আমার এই নার্সারি।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj