যুদ্ধের যন্ত্র

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রাচীনকালে প্রযুক্তিবিদ্যার একটা প্রধান অঙ্গ ছিল যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্রাদি নির্মাণ। শুধু অনেক সৈন্য ও হাতিয়ারের ওপর নির্ভর না করে যন্ত্রের সাহায্য নিয়ে যুদ্ধজয়ের চেষ্টা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। শত্রুকে বধ করার যন্ত্র ও মালমসলা প্রস্তুত করার ব্যাপারে অপরকে টেক্কা দেয়ার চেষ্টায় মানুষ আজো সমান উৎসাহী। যুদ্ধের প্রয়োজনে তৈরি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অবশ্য অন্যান্য অনেক সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে মানব-সভ্যতাকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে।

সর্বাপেক্ষা প্রাচীন এবং উল্লেখযোগ্য যুদ্ধাস্ত্র যুদ্ধের রথ নির্মিত হয়েছিল আজ থেকে ৫-৬ হাজার বছর আগে। পদাতিকদের দূরে সরিয়ে রাখার জন্য এই সব চাকাযুক্ত ঘোড়ায় টানা রথে প্রায়ই নানা ধরনের ধারালো ফলা লাগিয়ে দেয়া হতো। প্রচীন যুগে ভারতবর্ষে রথের ব্যবহার খুবই জনপ্রিয় ছিল। মহাভারতে ঘোড়ায় টানা যুদ্ধের রথের বহুল উল্লেখ দেখা যায়। সাধারণ গুলতি ও তীর, ধনুক বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ও ছোট থেকে বড় আকারের পাথর ছোড়ার উপযোগী নানা যন্ত্র গ্রিকদের আমলে প্রচুর তৈরি হয়েছে।

শত্রুপক্ষের দুর্গের ভেতরে আগুন নিক্ষেপ করার যন্ত্রও বারুদ আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত খুবই প্রচলিত ছিল। এই সব যন্ত্রের দ্বারা শত্রুপক্ষের পরিখার মধ্যে মৃত ও বিষাক্ত জন্তুর দেহ নিক্ষেপ করে শত্রুবাহিনীর মধ্যে রোগের বীজ ছড়িয়ে দেয়ার নজিরও অনেক পাওয়া যায়।

দুর্গ বা শহরের দরজা ও দেয়াল ভেঙে ফেলার জন্য বিশাল আকারের লোহা বা কাঠের দণ্ড রোমানরা ব্যবহার করত। এসব দণ্ড ১২০ থেকে ১৫০ ফুট পর্যন্ত দীর্ঘ এবং বিপুল ওজনের হতো। ভারতবর্ষে দুর্গ ও দরজা ভাঙার কাজে হাতিকে ব্যবহার করা হতো। লোহার ঢাল এবং মোটা লোহার চাদরের আচ্ছাদন দিয়ে তৈরি চলন্ত যানের আড়ালে সৈন্যবাহিনী লুকিয়ে থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হতো। এই থেকেই আধুনিক যুদ্ধের ট্যাঙ্ক নির্মাণের প্রেরণা এসেছে।

পানিযুদ্ধে নৌকা বা জাহাজের অনেক উন্নত এবং নতুন ধরনের যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করে বিখ্যাত গ্রিক গণিতজ্ঞ আর্কিমিডিস খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শত্রুপক্ষের নৌকা দূর থেকে ধরে উল্টে দেয়ার জন্য তিনি এক ধরনের ক্রেন আবিষ্কার করেছিলেন। তারপর বারুদ ও বন্দুক আবিষ্কারের পর থেকেই যন্ত্রবিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হয়। গ্রন্থনা : ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj