স্বজনের অভিযোগ : ‘রিং পরালেই রোগীর কদর বাড়ে হৃদরোগ হাসপাতালে’

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সেবিকা দেবনাথ : বুকে ব্যথা নিয়ে গত পাঁচ দিন যাবত জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি আছেন বগুড়ার তারা মিয়া (৫০)। বেড পাননি তাই দোতলায় লিফটের সামনে মাদুর পেতে পড়ে আছেন কোনো রকমে। ডাক্তার ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়েছেন। পরে এনজিওগ্রাম করানোর কথা বলেছেন, কিন্তু তাও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অনুরূপ বেড না পেয়ে টঙ্গির ইসমত আরা (৬২) এবং ভোলার নূরজাহান বেগমের (৫৩) ঠাঁই হয়েছে দোতলার দুর্গন্ধ ছড়ানো টয়লেটের দুই পাশে। টয়লেটের মেঝেতে পানি জমে আছে। টয়লেটের সামনে পানিতে ভিজে থাকা বড় পাপোশটা এ দুজনের মাদুর থেকে মাত্র এক হাত দূরে। টয়লেট ব্যবহারের পর বের হয়ে আসা লোকজনের জুতায় মেখে থাকা নোংরা পানিতে পাপোশ এবং মাদুর পেতে শুয়ে থাকা রোগীদের সামনের দিকটাতেও টয়লেটের নোংরা পানি চলে এসেছে। হাসপাতালের পরিচালক ও অধ্যাপকের কার্যালয়ের সামনের বারান্দার দুই পাশেও সারি সারি রোগীর মাদুর পাতা। বাদ পড়েনি সিঁড়িঘরও।

তারা মিয়ার মেয়ে ¯িœগ্ধা বলেন, হাসপাতালে কত দিন থাকতে হবে তা তো জানি না। পাঁচ দিনেও একটা বেড পেলাম না। যে রোগীরা রিং পরায় এই হাসপাতালে সেই রোগীদেরই কদর বেশি। একই অভিযোগ করেন ইসমত আরার জামাতা আরিফুর। তিনি বলেন, রিং পরালে ডাক্তারদের লাভ, তাই তারা লাভের দিকটাই দেখে। সাধারণ রোগীদের তেমন গুরুত্ব দেয় না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ভোরের কাগজকে বলেন, যে সব রোগী রিং পরান তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়, এ কথা পুরোপুরি সত্য না হলেও অনেকাংশেই সত্য। হাসপাতালের এক শ্রেণির ডাক্তার আছেন রিং-বাণিজ্য নিয়ে। সব রোগীর প্রতি ডাক্তারদের সমান দরদ নেই। তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে বারান্দায় রোগীদের থাকতে হচ্ছে। ওয়ার্ড মাস্টাররা নিয়মিত রাউন্ড দেয় না। ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড মাস্টার সবাই রাজনীতি নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান জানান, ৪১৪ বেডের হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে এক হাজার থেকে এক হাজার ২৫ জন। প্রতি বেডের জন্য আবেদন থাকে ৩০ থেকে ৪০টি। এ অবস্থায় সব রোগীকে বেড দেয়া সম্ভব হয় না। তবে হাসপাতালে রোগীদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য করা হয় না বলে দাবি করেন তিনি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj