বইমেলায় বসন্তের হাওয়া

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শরীফা বুলবুল : শীত যাই যাই করছে। বইতে শুরু করেছে ফাগুনের হাওয়া। প্রাণের মেলায় ফাগুনের দেখা মিলছে। মাঘ মাসের মৃদু শীতল হাওয়ায় ভাসছে বসন্তের আগমনী ঘ্রাণ। নবরূপে সাজছে প্রকৃতিও। বইমেলায় মাঝে মাঝে উষ্ণ বাতাসের স্পর্শ জানিয়ে দিচ্ছে শীতের বিদায়বার্তা আর ঋতুরাজের আগমন ধ্বনি। তরুণীরা মাথায় টায়রা ও বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে বইমেলায় এসেছেন। চলছে সেলফি তোলার হিড়িক। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে হুল্লোড় করছেন তারা। কেউ কেউ নিচ্ছেন প্রিয় লেখকের অটোগ্রাফ। ঘুরছেন এই স্টল থেকে সেই স্টলে। মনেও যেন বসন্ত।

গতকাল সোমবার মেলায় গিয়ে এমনই চিত্র চোখে পড়েছে। উৎস, অনিন্দ্য, অনন্যা, কথা প্রকাশ এবং পার্ল প্রকাশনীর বিক্রয় কর্মীরা জানান, তরুণ-তরুণীরা খোঁজ করছে জনপ্রিয় লেখকদের প্রেমের কবিতা ও প্রেমের গল্প, উপন্যাস। উন্নয়ন কর্মী মিলিতা মজুমদার পরে এসেছেন হলুদ শাড়ি। বলেন, বসন্তের প্রথম দিনেই হলুদ শাড়ি পরতে হবে এমন কথা নেই। তিন দিন পরেই তো আসছে বসন্ত। আমি না হয় একটু আগেই পরলাম। একই পোশাকে এসেছেন শায়লা শাম্মি। তিনি বলেন, আমি প্রথম দিন থেকেই মেলায় হাজির হচ্ছি। মেলা আমাকে চুম্বকের মতো টানে। তারুণ্য ফিরে পাই। এর আগেও বই কিনেছি। আজও দেখব, কিনব। প্রিয় কয়েকজন লেখকের বই কেনার ইচ্ছা আছে। তা ছাড়া পহেলা ফাল্গুনের জন্য অফিস থেকে ছুটিও নিয়েছি। এদিন অফিসে বসে থাকতে ভালো লাগে না।

মূলমঞ্চের আয়োজন :

বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে ছিল ‘নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী।

প্রাবন্ধিক বলেন, রক্ষণশীল বাঙালি মুসলিম সমাজে বুলবুল চৌধুরী ছিলেন এক বিদ্রোহী নৃত্যশিল্পী। নৃত্যের মাধ্যমে তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সুকুমার বৃত্তি ও মানবিকবোধ জাগিয়েছেন। নৃত্য যে রাজনৈতিক-

সামাজিক চেতনাবোধ ও সা¤্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস ও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং ক্ষুধা-মন্বন্তরের সময় মুনাফাখোর, চোরাকারবারি, অসৎ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও প্রতিবাদ ছড়াতে পারে- বুলবুল চৌধুরীই প্রথম তা দেখিয়েছেন। তিনি বিদেশি শাসক-শোষকদের দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন নৃত্যের মাধ্যমে। নৃত্যকে তিনি সাংগঠনিক ও পদ্ধতিগতভাবে চর্চার জন্য ক্ষেত্র তৈরি করেছেন।

আলোচকরা বলেন, বুলবুল চৌধুরী নৃত্যচর্চায় সমকালীন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। তার অনুসৃত পথ ধরে নৃত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, একাডেমি, সমিতি, শিক্ষা, গবেষণা, প্রকাশনা এগিয়ে চলেছে তার জন্মশতবর্ষ পরও। জন্মশতবর্ষে বুলবুল চৌধুরীর সব সৃষ্টিকর্ম সংগ্রহ, সংরক্ষণপূর্বক প্রচার, প্রকাশ, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তার নৃত্যকর্ম পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি তাকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা যেতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে কামাল লোহানী বলেন, বুলবুল চৌধুরী নৃত্যের পাশাপাশি ‘প্রাচী’ নামের উপন্যাস লিখে বাংলা সাহিত্যে যোগ করেছেন নতুন মাত্রা। তার নৃত্য কেবল প্রায়োগিক শিল্পকলা নয়, একই সঙ্গে সব অসুন্দর এবং কলুষতার বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদের নাম।

লেখক বলছি : অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন- হোসেন উদ্দীন হোসেন, হাবিব আনিসুর রহমান,

ড. তাশরিক-ই-হাবিব, মশিউল আলম এবং শিহাব শাহরিয়ার।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন গোলাম কিবরিয়া পিনু এবং চঞ্চল আশরাফ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন গোলাম সারোয়ার এবং মু. আহসান উল্লাহ ইমাম খান তমাল। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী চন্দনা মজুমদার, শফিমণ্ডল, সেলিম চৌধুরী, পাগলা বাবুল, রুশিয়া খানম এবং কোহিনুর আকতার গোলাপি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj