রামেন্দু মজুমদার : মেলা মানেই বাঙালি সংস্কৃতির স্ফুরণ

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আমি তো প্রতিদিনই মেলায় যাই। খুবই ভালো লাগছে। অন্যবারের চেয়ে অনেক ভালো। এর লে-আউটের পরিবর্তনটা খুব উল্লেখযোগ্য। ধাক্কাধাক্কি তেমন নেই বললেই চলে। হেসে খেলে ঘুরে বেড়ানো যায়। স্টলগুলো অনেক নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে।

আমার যেটা মনে হয়, বইমেলা এখন শুধু বইমেলাই নেই, এটা বাঙালি সংস্কৃতিরই অংশ হয়ে গেছে। এখানে এসে প্রাণে প্রাণ মেশে। এ জন্যই আমাকে ভীষণভাবে টানে। মেলায় এলে অন্যরকম প্রাণিত হই। এর নতুন বইয়ের গন্ধ। এর কোলাহল, এর উচ্ছ¡াস আমাকে মুগ্ধ করে। আমার কাছে মেলা মানেই সম্ভাবনা। মেলা মানেই বাঙালি সংস্কৃতির স্ফুরণ।

বইমেলা প্রসঙ্গে ভোরের কাগজের এক প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

আমি তো স্বাধীনতার পর থেকেই মেলা দেখছি। তখন তো অল্প কিছু স্টল নিয়ে বাংলা একাডেমির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তো প্রচুর প্রকাশক হয়েছে, প্রচুর বই প্রকাশিত হচ্ছে, মেলার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। তখন হয়তো পরিচিত লোক বেশি পেতাম। কিন্তু এখন তো অনেক মানুষ আসে। আমি মনে করি, কেউ যদি মেলা থেকে বই নাও কেনে সেটা বড় বিষয় নয়, বরং তারা যে বইয়ের সংস্পর্শে আসে সেটাই উল্লেখযোগ্য বিষয়।

এখন আর ছোট্ট পরিসরের সেই মিলনমেলা হয় না। এখন মেলায় তারুণ্যের জয়ধ্বনি শুনতে পাই। আমার তো এটাই চাই। মেলায় তরুণরা বেশি বেশি আসুক, বই কিনুক। আর গুণে মানে উন্নত বই যারা প্রকাশ করেন তাদের দেখতে চাই বেশি বেশি।

ছেলেবেলায় মেলা পেয়েছেন কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে মঞ্চনাটক আন্দোলনের এই পথিকৃত আরো বলেন, আমাদের সময়ে আমরা ওভাবে মেলা পাইনি। তা ছাড়া আমি ‘থিয়েটার’ আরম্ভ করেছি ১৯৬১ সাল থেকে। আর বাংলা একাডেমির মেলা শুরু হয়েছে স্বাধীনতার পরে ১৯৭৫ সালের দিকে। তখন থেকে দেখছি এই মেলাকে। এই মেলার সঙ্গে বাঙালির আবেগ জড়িত। তখন মেলা ছোটখাটো পরিসরে ছিল। তা দিনে দিনে বেড়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই বইমেলার সঙ্গে বাঙালির আবেগ জড়িত হয়েছে। মেলার পরিসর অনেক বেড়েছে। প্রকাশক বেড়েছে। এই মেলাকে কেন্দ্র করেই আমাদের প্রকাশনা ব্যবসা আবর্তিত হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত অনেক মানুষের রুটি-রুজিও।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj