ফের সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ উপনেতা মনোনীত হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, সরকারি দলের সংসদ সদস্য ২১২ ফরিদপুর-২ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ থেকে সংসদের উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হলো।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটিতে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে উপনেতা হিসেবে মনোনয়ন দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সবাই সমর্থন জানান। পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এতে অনুমোদন দেন। যদিও গত ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ শুরুর দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে সংসদ উপনেতার চেয়ারেই সাজেদা চৌধুরীকে বসতে দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী একজন ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদের উপনেতা নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো নারী সংসদ উপনেতা হন। তিনি পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিই দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সংসদের উপনেতার আসন অলঙ্কৃত করছেন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুর আংশিক) থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এ অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী গোলাম আকবর চৌধুরী। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর আকবর চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে ১৯৫৬ সাল থেকে এক সাধারণ তরুণী সাজেদা চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। নিজ মেধা ও যোগ্যতাবলে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১১ বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন সাজেদা চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯২ সাল থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও তিনি পালন করেন।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ফেলোশিপপ্রাপ্ত হন। একই সময় তিনি বাংলাদেশ গার্ল-গাইড এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক সনদ সিলভার এলিফ্যান্ট পদক লাভ করেন। তিনি ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক ওমেন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj