আসামি দুই গৃহকর্মী : মাহফুজা হত্যার নেপথ্যে টাকা লুট!

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন (৬৬) হত্যাকাণ্ডের ৩৬ ঘণ্টা পরও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশের ধারণা, বাসায় থাকা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করতে দুই গৃহকর্মী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করতে পারে। সেই ধারণা থেকেই নিহতের স্বামী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ইসমত কাদের গামার দায়ের করা মামলায় পলাতক দুই গৃহকর্মী রেশমা (৩৬) ও স্বপ্নাকে (৩০) আসামি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নিউমার্কেট থানায় ওই মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে নিহত মাহফুজার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে শ^াসরোধে করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। গতকাল সকালে নিহত মাহফুজার ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদরে বলেন, নিহত নারীর ঠোঁটে, মুখে, আঙুলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার একটা আঙুল ভাঙা ছিল। তাকে মুখ চেপে শ^াসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ড একজনের পক্ষে সম্ভব না। একাধিক ব্যক্তি এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গৃহকর্মী রেশমা ও স্বপ্না এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হত্যার পর ওই বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে গেছে তারা। বাড়িটির নিচতলায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে দুই গৃহকর্মী লিফট থেকে নেমে বেরিয়ে যাচ্ছে। পলাতক দুই গৃহকর্মীকে চিহ্নিত করা গেছে। পলাতক স্বপ্নার বাড়ি কিশোরগঞ্জ এবং রেশমার বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী। তাদের ধরতে আমরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বাসায় রুনু নামে আরেকজন গৃহকর্মী ছিল। তাকেও সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। রেশমা ও স্বপ্নাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এই হত্যার পেছনে আর কোনো কারণ আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নিহতের স্বামী ইসমত কাদির গামা জানান, এলিফ্যান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ারের ১৫ ও ১৬ তলার ডুপেক্স ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন তিনি। তাদের দুই ছেলে থাকেন বিদেশে। রবিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যান। ওই সময় বাসায় রেশমা ও স্বপ্নাসহ ৩ জন গৃহকর্মী ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় ফিরে ১৬ তলার কলিংবেল চাপলেও কেউ দরজা খুলছিল না। পরে ১৫ তলার কলিংবেল চাপলে বৃদ্ধা গৃহকর্মী দরজা খোলে। তখন তিনি ১৬ তলায় গিয়ে দেখেন খাটের ওপর মাহফুজার লাশ পড়ে আছে। শরীর কম্বল দিয়ে ঢাক। পাশেই পড়ে ছিল বালিশ। এরপর তিনি আলমারি ও ওয়ারড্রোব এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। আর নতুন দুই গৃহকর্মী রেশমা ও স্বপ্না বাসায় নেই। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তিনি আরো বলেন, ঘরের আলমারিতে বেশ বড় অঙ্কের টাকা ছিল, সেগুলো নিয়ে গেছে। তা ছাড়া যে মোবাইলে ওই গৃহকর্মীদের ছবি তোলা হয়েছিল, সেটিও তারা নিয়ে গেছে। গৃহকর্মী সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এক মাস আগে স্বপ্না ও দুই মাস আগে রেশমা তাদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয়। ওই দুই গৃহকর্মী তার স্ত্রীকে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মাহফুজার স্বামী ইসমত কাদির গামা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি সত্তরের দশকের প্রথম দিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj