ঢাকা ফোক ফেস্ট-২০১৮ : মাটির গান ও ভাটির গানে ভাসল দর্শক

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

শরীফা বুলবুল : বাংলার মাটির গান ও ভাটির গানের পাশাপাশি কলকাতার সাত্যকি ব্যানার্জির বাউল গান আর পোল্যান্ডের খ্যাতিসম্পন্ন ব্যান্ড দিকান্দারের দিল খোলা সুর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অন্যরকম মুগ্ধতা ছড়িয়েছে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েক হাজার শ্রোতার মনে। সান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এখানেই বসেছে তিনদিনের ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের চতুর্থ আসর। সন্ধ্যায় এ উৎসবের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাইদ খোকন, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও ও চিফ মার্কেটিং অফিসার ইয়াসির আজমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সান ফাউন্ডেশন ও সান কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।

ভাবনা নৃত্যদলের পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় তিনদিনের এই আসর। সামিনা হোসেন প্রেমার কোরিওগ্রাফিতে একদল নাচের শিল্পী লোক নাচের নানা মাধ্যম তুলে ধরেন উদ্বোধনী সন্ধ্যায়। নাচের মুদ্রায় আবহমান বাংলাকে তুলে ধরে সুরের এই আসরে ভিন্নতা যোগ করেন তারা। এরপর মঞ্চে আসেন আড়বাঁশি দিয়ে সঙ্গীতের অঙ্গনে নিজের অভিষেক ঘটনো মাতাল কবি আবদুর রাজ্জাকের শিষ্য নারায়ণগঞ্জের বাউল আবদুল হাই দেওয়ান। ‘মাগো মা ঝিগো’ দিয়ে শুরু করে ‘ঘরখানা বান্দিয়াছো কি কৌশলে’, ‘চিঠি দিও পত্র দিও’, ‘ভালোবাসিয়ারে বন্ধু’সহ বেশ কয়েকটি গান দিয়ে প্রায় আধঘণ্টা সুরের আসরকে মাতিয়ে রাখেন মাতাল কবি গুরু থেকে হাফ মাতাল উপাধিপ্রাপ্ত শিষ্য আবদুল হাই দেওয়ান।

এই পরিবেশনাটির পর ঝলমলে মঞ্চে আসেন পোল্যান্ডের আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন ব্যান্ড ‘দিকান্দা’। বলকান ও জিপসি প্রভাবের এই দলটি তাদের নিজস্ব লোকজ সুরের সঙ্গে ওয়ের্স্টানের মিশেলে সুরের আসরকে শৈল্পিক করে তোলেন। দিকান্দা মঞ্চ ত্যাগ করার পর সুরের ডালা নিয়ে মঞ্চে আসেন কলকাতার সাত্যকি ব্যানার্জি। নিজের জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আর্মি স্টেডিয়ামে আগত শ্রোতাদের বিমোহিত করেন এ শিল্পী। রাতের সবশেষের পরিবেশনায় হাজির হন পাঞ্জাবের দুই ভাই ওয়াদালি ব্রাদার্স। সঙ্গীতের এই মহাযজ্ঞে স্টেডিয়ামে আগত সুর সুরের ঝরনাধারা বইয়ে দিয়ে এই দুই ভাই আর্মি স্টেডিয়ামে সুরের ধারা বইয়ে দেন। এই দুই ভাইয়ের সুরের খেলার মধ্য দিয়েই উদ্বোধনী রাতের সমাপ্তি ঘটে।

উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে স্কয়ার। এটি সরাসরি সম্প্রচার করছে মাছরাঙা টেলিভিশন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj