আলোচিত আসন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) : সালাহউদ্দিনের প্রতীক্ষায় বিএনপি, মনোনয়ন দুশ্চিন্তায় আ.লীগ-জাপা

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর ২০১৮

সৈয়দুল কাদের, কক্সবাজার থেকে : কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে ধূ¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে চলছে আলোচনা। অপরদিকে মনোনয়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এখনো দেশে ফিরতে না পারায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করলেও মনোনয়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মহাজোট থেকে মনোনয়ন পান জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ। তিনি বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হন। ফলে অপ্রত্যাশিত-ভাবে কক্সবাজার-১ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে চলে যায়। আওয়ামী লীগের ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন এ আসনটি নিজেদের কবজায় নিতে। তারা মনোনয়ন লাভে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ দিকে সালাহউদ্দিন আহমদের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় রয়েছেন তার সহধর্মিণী সাবেক সংসদ সদস্য এড. হাসিনা আহমদ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি, সহসভাপতি রেজাউল করিম, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক ড. আশরাফুল ইসলাম সজীব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা খালেদ মাহমুদ মিথুন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলার একটি পৌরসভা ও ২৫টি ইউনিয়ন নিয়ে কক্সবাজার-১ আসনটি গঠিত। এতে পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার ৮৩৩ জন। চকরিয়া উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫৩ জন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৬ জন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৭০ ও ৭৩ সালের পর কক্সবাজার-১ আসনটিতে আর জয়ের মুখ দেখেনি আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এনামুল হক মঞ্জু। তিনি ২ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এড. জহিরুল ইসলাম চৌধুরীকে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত মাহমুদুল হক চৌধুরীর অবস্থান ছিল ৪র্থ স্থানে। তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন তৎকালীন এনডিপির চেয়ারম্যান যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ১৯৯৬ সালের একটি বিতর্কিতসহ তিনটি নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য এড. হাসিনা আহমদ। তিনি ৩৬ হাজার ৪০১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপিকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা জানান, আমরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চাই। এ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। টানা ১০ বছর দল ক্ষমতায় থাকলেও দলীয় সংসদ সদস্য না থাকায় অনেকটা বিরোধী দলের মতোই আছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাই প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তাকে বিজয়ী করতেই আমরা কাজ করব।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি জানান, জেলার একই আসনটি আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন আশা করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আসনে দলীয় মনোনয়ন তাকে দেবেন। তিনি বলেন, আশা করি শেখ হাসিনা সন্ত্রাসী ও দখলবাজ কাউকে মনোনয়ন দেবেন না। পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে নৌকা প্রতীকের বিজয় অনিবার্য।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি নিশ্চয়ই বিজয়ী হবেন এমন ব্যক্তিকে দলের মনোনয়ন দেবেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী হোক কিংবা মহাজোটের প্রার্থী হোক তাকে বিজয়ী করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া জানান, কক্সবাজার-১ আসনটি বিএনপির জন্য নিরাপদ আসন। তিনি বলেন, ৯৬ সাল থেকে এই আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আসছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এনামুল হক জানান, সালাহউদ্দিন আহমদের বিষয়ে ভারতে এখনো আইনি জটিলতা শেষ না হওয়ায় আমরা হতাশ। তিনি না থাকলেও কক্সবাজার-১ আসন বিএনপির ঘাঁটি। আশা করি তিনি ফিরে এসে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারবাসীর প্রিয় নেতা। জেলার ৪টি আসনেই তিনি জনপ্রিয়। সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি। আমরা এখনো আশাবাদী তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj