২০ বছর পর কার কোথায় অবস্থান

শনিবার, ৭ জুলাই ২০১৮

মাহফুজ, পূর্ণিমা, তামান্না, একা এবং ময়ূরী। ১৯৯৮ সালে সিনেমায় অভিষেক হয়েছিল এই পাঁচ তারকার। তখন সবাই ছিলেন সম্ভাবনাময়। পরে কতটা সফল হয়েছেন তারা? ২০ বছর পর সিনেমায় তাদের অবস্থানই বা কেমন? ২০১৮ সালে তাদের নিয়ে লিখেছেন এম রহমান

মাহফুজ

মাহফুজ আহমেদ ছিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা। তখনো ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা ছিল না তার। টিভি থেকে তিনি ডাক পান সিনেমার। হাসিবুল ইসলাম মিজান তাকে নায়ক বানান ‘প্রেমের কসম’ ছবির। এতে মাহফুজের নায়িকা ছিলেন অন্তরা। ছবিটি কিন্তু তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। মাহফুজও সিনেমায় সুবিধা করে উঠতে পারেননি। কিছু ভালো কিছু মাঝারি ছবিতে মাহফুজ কাজ করেছেন। সর্বশেষ ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবির জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। কিন্তু তার মনোযোগ সবসময়ই ছিল টেলিভিশনের দিকে। চুটিয়ে কাজ করে এখন তিনি শ্রান্ত। কম দেখা দেন পর্দায়। ব্যস্ত আছেন নিজের ব্যবসায়। সিনেমায় এখন কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই মাহফুজের।

পূর্ণিমা

জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবিতে জমকালো অভিষেক হয় পূর্ণিমার। প্রথম ছবিতে পূর্ণিমা নায়ক হিসেবে পান তখনকার হার্টথ্রব রিয়াজকে। এই জুটির জন্ম ‘এ জীবন তোমার আমার’ থেকে হলেও ছবিটির ব্যবসায়িক ফল ভালো হয়নি। কিন্তু এতে পূর্ণিমার ক্যারিয়ার থমকে যায়নি। ধীরে ধীরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম নির্ভরযোগ্য নায়িকা হয়েছেন তিনি। কিন্তু পূর্ণিমার সেই ভরা জোয়ার আর নেই। তিনি সংসারে মনোযোগ দিয়েছেন। সন্তান সামলাচ্ছেন। টিভিতে তাকে দেখা যায়। উপস্থাপনা করেন। আসেন টকশোতেও। পাবলিক ফাংশনেও যান। কিন্তু সিনেমায় নামি নামি করেও আর ব্যাটে-বলে মিলছে না।

তামান্না

কথা ছিল শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘ভণ্ড’ ছবির নায়িকা হবেন পূর্ণিমা। কিন্তু পূর্ণিমার জায়গায় আসেন সুইডেন প্রবাসী তামান্না। প্রথম ছবিতেই তিনি তাক লাগিয়ে দেন। রুবেল-তামান্না জুটির ‘ভণ্ড’ সুপারহিট ব্যবসা করে। দর্শকদের খুবই পছন্দ হয় ‘ভণ্ড’। পছন্দ হয় তামান্নাকেও। কিন্তু তামান্না তার ক্যারিয়ারে খুব সিরিয়াস ছিলেন না কখনোই। তেমন হিট ছবিও আর দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে তিনি বিয়েশাদি করে ফিরে যান সুইডেনে। পেশায় চিকিৎসক তামান্না এখনো প্রবাসী। কয়েক বছর আগে এসেছিলেন ঢাকায়। তারপর আর দেখা নেই তার।

একা

কাজী হায়াতের ‘তেজী’ ছবিটি নায়ক মান্নাকেই শুধু পায়ের নিচে শক্ত জমি দেয়নি, ছবিটির ধুন্ধুমার সাফল্য নায়িকা একাকেও খ্যাতি এনে দেয়। অন্য একটি ছবিতে ভিন্ন এক নামে অভিষেক হয়েছিল একার। কিন্তু দর্শকরা তাকে চেনেন ‘তেজী’ ছবিতেই। ফলে এ ছবিকেই তার সূচনা বলা ধরা হয়ে থাকে। একা যথেষ্ট সম্ভাবনা তৈরি করতে পেরেছিলন। কিন্তু তিনি হারিয়ে গেলেন। নায়ক আলেকজান্ডার বোকে বিয়েও করেছিলেন। সেই ঘর টেকেনি। এখন কোথায় কেমন আছেন কেউ তার খোঁজও নেন না। চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবেও কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন একা। সে দিকেও তেমন এগোতে পারেননি।

ময়ূরী

বিতর্কিত নায়িকা মযূরীর শুরুটা বিতর্কিত ছিল না। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘উল্কা’ ছবিতে রুবেলের প্রেমপ্রার্থী ছিলেন ময়ূরী। মালেক আফসারীর ‘মৃত্যুর মুখে’ ছবিতে অভিনয় করেই নিন্দার শিকার হোন ময়ূরী। একই ছবি তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে দাঁড় করিয়ে দেয়। এনে দেয় ডজনের পর ডজন ছবি। সিনেমার অন্যতম ব্যস্ত নায়িকায় পরিণত হন তিনি। তবে এই ব্যস্ততা ছিল দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবেই। শেষের দিকে অশ্লীল ছবিতে প্রধান নায়িকার চরিত্র পেলেও সুস্থধারার ছবির জয়জয়কার শুরু হলে ময়ূরী অপাঙ্ক্তেয় হয়ে পড়েন। গত বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে বিয়ে করে শোবিজে ঝড় তোলেন ময়ূরী। বোরকা পরে তার পরহেজগার জিন্দেগি অনেককেই অবাক করেছে। বলাই বাহুল্য, অভিনয়ের চৌহদ্দির মধ্যে আর পা পড়ে না তার। বিশ বছরে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতে পাল্টে গেছে ময়ূরীর জীবন।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj