বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়…

বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ ২০১৮

বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান আহরণের আঁতুড়ঘর। আর শিক্ষকরা নিঃসন্দেহে মানুষ গড়ার কারিগর। বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়ার স্বপ্ন মেধাবী শিক্ষার্থীদের তো থাকেই! অনেক অভিভাবকও চান তাদের সন্তানরা এসব বিদ্যাপীঠে পড়াশোনা করে খ্যাতির উচ্চশিখরে আরোহণ করুক। প্রতি বছর বিভিন্ন শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপীঠগুলোকে নিয়ে জরিপ করে থাকে। বিভিন্ন বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন সূচকে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণ করা হয়।

শীর্ষে এমআইটি : সেরার তালিকার প্রথম স্থানটি দখল করে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। বিদ্যাপীঠটি মূলত শরীরবিদ্যা এবং প্রকৌশলী গবেষণার জন্য বিখ্যাত হলেও বর্তমানে জীববিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায়ও ব্যাপক সমাদৃত। ১৮৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ শহরে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিখ্যাত বিদ্যাপীঠটির সফলতার ঝুলিতে রয়েছে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং প্রযুক্তিগত অবদানের ইতিহাস।

পেনিসিলিনের প্রথম রাসায়নিক বিক্রিয়া গবেষণা, রাডারের বিকাশ, কোয়ের্ক আবিষ্কার এবং চৌম্বকীয় কোর মেমোরি উদ্ভাবন বিদ্যাপীঠটিকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে পাঁচটি আলাদা আলাদা স্কুল। স্কুলগুলো হলো- স্থাপত্য ও পরিকল্পনা, প্রকৌশল, মানবিক, শিল্প ও সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও বিজ্ঞান। ১১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য এই বিদ্যাপীঠে রয়েছে এক হাজার ফ্যাকাল্টি। ‘এমআইটি’র শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, বিগ ডেটা, স্টেইনএবল এনার্জি, হিউম্যান হেলথসহ আরো অসংখ্য উন্নয়নমূলক গবেষণায় যুক্ত।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি : ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সঙ্গে একই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণার জন্য বিখ্যাত বিদ্যাপীঠটি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৮ হাজার ১৮০ একর জমির ওপর নির্মিত বিদ্যাপীঠটিতে রয়েছে ১৮টি গবেষণা ভবন এবং সাতটি বিশাল বড় ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসগুলো হলো- গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেস, স্কুল অব আর্থ, শক্তি ও পরিবেশ বিজ্ঞান স্কুল, গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, মানবিক ও বিজ্ঞান, আইন স্কুল ও মেডিসিন স্কুল। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ২ হাজার ১৮০ ফ্যাকাল্টি এবং এক হাজার ৮০০ ডক্টরেট ডিগ্রিপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ।

পিছিয়ে নেই হার্ভার্ডও : বিশ্বের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠগুলোর একটি হার্ভার্ড। ১৬৩৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৬৩৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান জন হার্ভার্ডের নামে এর নামকরণ করা হয়। বিশ্বসেরার তালিকায় এর অবস্থান তিন নম্বরে। আইভি লীগের বিশ্ববিদ্যালয়টি অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তি তৈরির আঁতুড়ঘর ছিল। বিখ্যাত এই বিদ্যাপীঠ থেকে ৪৫ জন নোবেল বিজয়ী, ৩০ জন রাষ্ট্রনায়ক এবং ৪৮ জন পুলিৎজার জয়ী পড়াশোনার সোনালি অধ্যায় শেষ করেন। হার্ভার্ডের ইতিহাসে তিন লাখ ২৩ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে এসেছিলেন ২০১টি দেশ থেকে।

ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। নামই বলে দেয় বিদ্যাপীঠটি বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞান ও প্রকৌশলী গবেষণার জন্য স্বীকৃত। ১৮৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসাডোনার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। মেধাবীরা এই বিদ্যাপীঠকে ক্যালটেক নামেই চেনেন। শিক্ষার্থীরা এই প্রতিষ্ঠানে খোঁজে জটিল সব প্রশ্নের উত্তর। বিদ্যাপীঠটির শিক্ষার্থীরা এখানে আধুনিক সব আবিষ্কার নিয়ে গবেষণা তো করেই, পাশাপাশি এসব গবেষণার ভবিষ্যৎ রূপ দেয়াটাও এখানকার শিক্ষার্থীদের নেশা। ক্যালটেকের রয়েছে ছয়টি একাডেমিক বিভাগ যেখানে সর্বদা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেয়। খুব কমসংখ্যক সৌভাগ্যবানই এ বিদ্যাপীঠে পড়াশোনার সুযোগ পান। বিদ্যাপীঠটির সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিখ্যাতদের সংখ্যাও কম নয়।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ : বিশ্ববিদ্যালয়টি গত বছরের সেরাদের তালিকায় ছিল চার নম্বরে।

এ বছর নেমে এসেছে পাঁচ নম্বরে। ১২০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। ইংরেজি ভাষাভাষী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ক্যামব্রিজ পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাচীন বিদ্যাপীঠ। এমনকি পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও বিদ্যাপীঠটি চতুর্থ। ৮০০ বছরের পুরনো এ বিদ্যাপীঠ থেকে বিশ্বের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী পাঠ নেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়টি ৩১টি কলেজে বিভক্ত যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা ১৫০টি অনুষদে পাঠের সুযোগ পান।

মেধাবীদের স্বপ্ন অক্সফোর্ড : ৯২১ বছরের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বছরে ২২ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার পাঠ নেন। ১৪০ দেশের মেধাবীরা পড়াশোনা করতে আসেন এখানে। বিদ্যাপীঠটি ৪৪টি কলেজ ও হল নিয়ে গঠিত।

রয়েছে ১০০টিরও বেশি লাইব্রেরি। ব্রিটিশ রাজ্যে এটি সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ। অক্সফোর্ডের অ্যালামনাইদের ‘অক্সনিয়ান’ বলা হয়। এ পর্যন্ত ২৫ হাজার বিখ্যাত ব্যক্তির শিক্ষাজীবন কেটেছে এই বিদ্যাপীঠে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন : সেরা বিদ্যাপীঠের তালিকায় রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ অব লন্ডনও। প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৮ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়ে চলে এই বিদ্যাপীঠটি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মূলত বিজ্ঞান ও গবেষণা, প্রকৌশলী, ওষুধ এবং ব্যবসায়িক বিষয়ের ওপর বেশি জোর দেয়। কলেজের পাশাপাশি রয়েছে প্রাকৃতিক, ভিক্টোরিয়া ও আলবার্ট জাদুঘর। এমনকি, এখানকার শিক্ষার্থীরা একটি বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিনও প্রকাশনা করে থাকে। সান আলেকজান্দ্রার ফ্লেমিংসহ ১৩ জন নোবেল বিজয়ীর শিক্ষাজীবন কেটেছে এখানে। হ ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj