ফেরদৌসের বাছাই ১০ ছবি

শনিবার, ৩ জুন ২০১৭

৭ জুন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌসের জন্মদিন। ১৯৯৭ সালে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন। চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ফেরদৌস। সাহিত্যধর্মী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক, সিরিয়াস ছবিতে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি তার। দুই বাংলার বাণিজ্যিক ছবিতে তার অবস্থান শক্ত। যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় ছাড়াও পা ফেলেছেন মুম্বাইয়ে। তার দুই দশকের ক্যারিয়ারের লম্বার ছবির তালিকা থেকে বাছাই দশ ছবি নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন। লিখেছেন স্বাক্ষর শওকত

হঠাৎ বৃষ্টি

ফেরদৌসের দেশজোড়া পরিচিতি আসে বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবির মধ্য দিয়ে। বিটিভিতে ১৯৯৯ সালের ঈদুল ফিতরে প্রিমিয়ার হওয়ার পর রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান ফেরদৌস। ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি ফেরদৌসকে এনে দেয় ওই বছরের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

জাগো

বাংলাদেশে খেলা নিয়ে নির্মিত ব্যতিক্রমী ছবি খিজির হায়াত খানের ‘জাগো’। একঝাঁক অভিনেতা পারফর্ম করেন। ফেরদৌসও ছিলেন একজন গর্বিত অভিনেতা। তিনি অভিনয় করেন বিন্দুর বিপরীতে। খেলানির্ভর ছবিতে রোমান্টিকতার আবহ ছড়ান ফেরদৌস-বিন্দু।

মিট্টি

‘হঠাৎ বৃষ্টি’র পর ফেরদৌসের পরিচিতি ছড়িয়ে যায় বলিউডেও। যার দরুন তিনি অভিনয় করেন মুম্বাইয়ের একটি ছবিতে। ‘মিট্টি’ নামের ছবিটি ফেরদৌসেক ব্যাপক মিডিয়া কাভারেজ এনে দেয়। ইকবাল দুররানি পরিচালিত ছবিতে ফেরদৌসের বিপরীতে অভিনয় করেন রানী মুখার্জির বোন শর্বানি মুখার্জি।

এক কাপ চা

২০১৪ সালে মুক্তি পায় ফেরদৌসের প্রথম প্রযোজিত ছবি ‘এক কাপ চা’। প্রথম পরিচালনার ছবিতে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়ে যান ফেরদৌস। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন তার সর্বাধিক ছবির অভিনেত্রী মৌসুমী। ওপারে ফেরদৌস একসময় জুটি গড়েছিলেন ঋতুপর্ণার সঙ্গে। তিনিও বন্ধুর ছবিতে অভিনয় করেন।

আমার আছে জল

প্রয়াত চলচ্চিত্রকার ও কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অত্যন্ত প্রিয় অভিনেতা ছিলেন ফেরদৌস। তার পরিচালনায় একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন ফেরদৌস। যার মধ্যে ‘চন্দ্রকথা’ এবং ‘আমার আছে জল’ দুটি ছবিতেই তার সহশিল্পী ছিলেন শাওন। মিমের অভিষেক ঘটে ‘আমার আছে জল’ ছবিতে।

খায়রুন সুন্দরীফেরদৌসের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবি ‘খায়রুন সুন্দরী’। নাম ভূমিকায় ছিলেন মৌসুমী। ফেরদৌস-মৌসুমী প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন ‘মিস ডায়না’ ছবিতে। ‘খায়রুন সুন্দরী’ পর্যন্ত সাফল্য পেতে তাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ‘খায়রুন সুন্দরী’ এই জুটিরও সেরা ছবি বলে বিবেচিত।

প্রেমের জ্বালা

ফেরদৌসের একটি সুপারহিট ছবি ‘প্রেমের জ্বালা’। ফেরদৌস-শাবনূর জুটির এই ছবিটির গান ‘বিয়াইন সাব’ দারুণভাবে জনপ্রিয়তা পায়। আকর্ষণীয় গানের কারণে ‘প্রেমের জ্বালা’ ব্যবসা সফল হয়। এটিএন বাংলা প্রযোজিত ছবিটি প্রচার-প্রচারণার দিক থেকেও বেশ এগিয়ে ছিল।

গঙ্গাযাত্রা

২০০৯ সালে আবারো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ফেরদৌস। এবার ট্রফি আসে সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত ‘গঙ্গাযাত্রা’য় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য। একই ছবিতে পুরস্কার পান তার সহশিল্পী পপিও। ছবিতে একজন মেথরের চরিত্রে অভিনয় করেন ফেরদৌস।

কুসুম কুসুম প্রেম

মুশফিকুর রহমান গুলজার পরিচালিত এ ছবিটির জন্য ২০১১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ফেরদৌস। এ ছবিতে আরো অভিনয় করেন মৌসুমী ও ফেরদৌস। এই পুরস্কার দিয়ে তিনি হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। যদিও ছবিটি খুব বেশি প্রশংসিত হয়নি।

রাক্ষুসী

নজরুলের গল্প অবলম্বনে মতিন রহমান নির্মাণ করেন ‘রাক্ষুসী’। সিনিয়র ও জাঁদরেল অভিনেত্রী রোজিনার বিপরীতে অভিনয় করেন ফেরদৌস। পূর্ণিমাও অভিনয় করেন এতে। ইমপ্রেস টেলিফিল্মে প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি নজরুলের সাহিত্য থেকে তৈরি হওয়ায় আলোচিত হয়।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj